লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক, নেওয়া হলো স্টেডিয়ামে

নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘লোক কল্যাণ মার্গ’-এর কাছে কংগ্রেসের অবস্থান কর্মসূচি থেকে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এই অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে রাহুল গান্ধীকে চ্যাংদোলা করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তুলে নিয়ে পুলিশের একটি বাসে তোলা হয়।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মিছিলে পুলিশের কঠোর অভিযানের প্রতিবাদে এই অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। এতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ছাড়াও বিরোধী দলের অনেক সংসদ সদস্য অংশ নেন। আটকের পর রাহুল গান্ধীকে দিল্লির মডেল টাউনের ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মন্দির মার্গ থানায়। কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী ইতিমধ্যে মন্দির মার্গ থানায় পৌঁছেছেন। এছাড়া আটক হওয়া অন্যান্য সংসদ সদস্যদের কিংসওয়ে ক্যাম্প এলাকায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ছত্রসাল স্টেডিয়ামের ভেতর থেকে কংগ্রেস সংসদ সদস্য হিবি ইডেন অভিযোগ করে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশ তাদের ওপর নির্মম ও উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে গ্রেপ্তার করেছে। এই অভিযানে নারী সংসদ সদস্যরাও আহত হয়েছেন। ডেপুটি কমিশনার এবং একদল ‘গুন্ডা’ তাদের জোরপূর্বক সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

গ্রেপ্তারের আগে দুপুরে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, পুলিশি অভিযানে আহতদের দেখতে তিনি রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালেও গিয়েছিলেন। আটক হওয়ার সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, তারা কাপুরুষ ও ভীতু। আমরা তাদের ভয় পাই না, তারাই আমাদের ভয় পায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজাজী মার্গ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়া মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়। এ সময় রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রবীণ নেতা রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা এবং কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও বহু কর্মীকে আটক করা হয়।

আটক থাকা অবস্থায় কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেন, এটি কোনো সমাপ্তি নয়, বরং রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা। তারা লাঠিচার্জ করতে পারে, জেলে পাঠাতে পারে, কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে যেসব লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়েছে, মোদিজিকে তাদের প্রশ্নের জবাব দিতেই হবে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং দাবি করেছেন, বিক্ষোভস্থল পরিদর্শনের সময় রাহুল গান্ধী প্রথমে কথা দিয়েছিলেন পার্লামেন্টে আলোচনার সুযোগ দিলে অবস্থান ধর্মঘট তুলে নেবেন। কিন্তু সরকার সেই দাবি মেনে নেওয়ার পর তিনি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের নতুন শর্ত জুড়ে দেন এবং আইন অমান্য করে অনশনস্থলেই অবস্থান করতে থাকেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদও ছাড়তে হচ্ছে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে

দিল্লিতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক, নেওয়া হলো স্টেডিয়ামে

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘লোক কল্যাণ মার্গ’-এর কাছে কংগ্রেসের অবস্থান কর্মসূচি থেকে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সংসদ সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এই অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে রাহুল গান্ধীকে চ্যাংদোলা করে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তুলে নিয়ে পুলিশের একটি বাসে তোলা হয়।

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মিছিলে পুলিশের কঠোর অভিযানের প্রতিবাদে এই অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। এতে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ছাড়াও বিরোধী দলের অনেক সংসদ সদস্য অংশ নেন। আটকের পর রাহুল গান্ধীকে দিল্লির মডেল টাউনের ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে মন্দির মার্গ থানায়। কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী ইতিমধ্যে মন্দির মার্গ থানায় পৌঁছেছেন। এছাড়া আটক হওয়া অন্যান্য সংসদ সদস্যদের কিংসওয়ে ক্যাম্প এলাকায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

ছত্রসাল স্টেডিয়ামের ভেতর থেকে কংগ্রেস সংসদ সদস্য হিবি ইডেন অভিযোগ করে বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশ তাদের ওপর নির্মম ও উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে গ্রেপ্তার করেছে। এই অভিযানে নারী সংসদ সদস্যরাও আহত হয়েছেন। ডেপুটি কমিশনার এবং একদল ‘গুন্ডা’ তাদের জোরপূর্বক সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

গ্রেপ্তারের আগে দুপুরে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, পুলিশি অভিযানে আহতদের দেখতে তিনি রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালেও গিয়েছিলেন। আটক হওয়ার সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, তারা কাপুরুষ ও ভীতু। আমরা তাদের ভয় পাই না, তারাই আমাদের ভয় পায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজাজী মার্গ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়া মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়। এ সময় রাহুল গান্ধীসহ কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রবীণ নেতা রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা এবং কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও বহু কর্মীকে আটক করা হয়।

আটক থাকা অবস্থায় কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেন, এটি কোনো সমাপ্তি নয়, বরং রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে এক নতুন বিপ্লবের সূচনা। তারা লাঠিচার্জ করতে পারে, জেলে পাঠাতে পারে, কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে যেসব লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়েছে, মোদিজিকে তাদের প্রশ্নের জবাব দিতেই হবে।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং দাবি করেছেন, বিক্ষোভস্থল পরিদর্শনের সময় রাহুল গান্ধী প্রথমে কথা দিয়েছিলেন পার্লামেন্টে আলোচনার সুযোগ দিলে অবস্থান ধর্মঘট তুলে নেবেন। কিন্তু সরকার সেই দাবি মেনে নেওয়ার পর তিনি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের নতুন শর্ত জুড়ে দেন এবং আইন অমান্য করে অনশনস্থলেই অবস্থান করতে থাকেন।