লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যয় ৩৭৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে: পেন্টাগন

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৩৭৫০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের এক শুনানিতে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। ভারী বোমা হামলা পুনরায় শুরুর পর আইনপ্রণেতাদের সামনে হাজির হয়ে তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য জরুরি অর্থায়নের আবেদন জানান।

হেগসেথ জানান, ৩৭৫০ কোটি ডলারের এই হিসাবে ইতিমধ্যে হওয়া ব্যয়ের পাশাপাশি ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে পেন্টাগন কীভাবে এই হিসাব নির্ধারণ করেছে, তা পরিষ্কার করা হয়নি। এর আগে মার্চ মাসে রয়টার্সের একটি সূত্র জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই অন্তত ১১৩০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছিল।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, জরুরি অর্থায়ন না পাওয়া গেলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সীমিত করতে হবে। তিনি জানান, চলমান যুদ্ধ পেন্টাগনের প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে, যা সামরিক সদস্যদের বিভিন্ন সুবিধা ও কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এ বিষয়ে বলেন, সেনাসদস্যদের বেতন-ভাতা দেয়া সম্ভব হলেও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ সামরিক সক্ষমতায় বিনিয়োগে সমস্যা দেখা দিতে পারে। হেগসেথ কংগ্রেসের কাছে শুধু অতিরিক্ত অর্থায়নই নয়, ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনেরও আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তার বিশ্বাস, প্রতিরক্ষা বিভাগকে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট না দেয়া দেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৯০০০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত বরাদ্দের আবেদন করেছেন, যার সিংহভাগই ইরান যুদ্ধের জন্য। এই আবদন নিয়ে অসন্তুষ্ট আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই উভয় দলের আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করে আসছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের অগ্রগতি বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কংগ্রেসকে যথাযথভাবে অবহিত করছে না।

আগামী ছয় মাস পর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেস ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ডেমোক্রেটরা এই ব্যয়বহুল ও অজনপ্রিয় যুদ্ধকে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।

সপ্তাহান্তে ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৪৩০ জন। পেন্টাগনের তথ্যমতে, ৭ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ১০০ জন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯৬ শতাংশ ইতিমধ্যে দায়িত্বে ফিরে গেছেন। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনা, সেতু, খার্গ দ্বীপের তেলকেন্দ্র এবং গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ হামলা কিংবা স্থলবাহিনী পাঠানোর হুমকি অব্যাহত রেখেছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, আমরা খুব শিগগিরই ওই পাহাড়ের ভেতরের স্থাপনাটি ধ্বংস করব।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউএইতে কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়া ঠেকাতে তৎপর জনতা ব্যাংক

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যয় ৩৭৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে: পেন্টাগন

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৩৭৫০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে কংগ্রেসের এক শুনানিতে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। ভারী বোমা হামলা পুনরায় শুরুর পর আইনপ্রণেতাদের সামনে হাজির হয়ে তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য জরুরি অর্থায়নের আবেদন জানান।

হেগসেথ জানান, ৩৭৫০ কোটি ডলারের এই হিসাবে ইতিমধ্যে হওয়া ব্যয়ের পাশাপাশি ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে পেন্টাগন কীভাবে এই হিসাব নির্ধারণ করেছে, তা পরিষ্কার করা হয়নি। এর আগে মার্চ মাসে রয়টার্সের একটি সূত্র জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধের প্রথম ছয় দিনেই অন্তত ১১৩০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছিল।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, জরুরি অর্থায়ন না পাওয়া গেলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সীমিত করতে হবে। তিনি জানান, চলমান যুদ্ধ পেন্টাগনের প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে, যা সামরিক সদস্যদের বিভিন্ন সুবিধা ও কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এ বিষয়ে বলেন, সেনাসদস্যদের বেতন-ভাতা দেয়া সম্ভব হলেও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ সামরিক সক্ষমতায় বিনিয়োগে সমস্যা দেখা দিতে পারে। হেগসেথ কংগ্রেসের কাছে শুধু অতিরিক্ত অর্থায়নই নয়, ২০২৭ অর্থবছরের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনেরও আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, তার বিশ্বাস, প্রতিরক্ষা বিভাগকে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজেট না দেয়া দেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গত মাসে কংগ্রেসের কাছে প্রায় ৯০০০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত বরাদ্দের আবেদন করেছেন, যার সিংহভাগই ইরান যুদ্ধের জন্য। এই আবদন নিয়ে অসন্তুষ্ট আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকেই উভয় দলের আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করে আসছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের অগ্রগতি বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কংগ্রেসকে যথাযথভাবে অবহিত করছে না।

আগামী ছয় মাস পর অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেস ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। ডেমোক্রেটরা এই ব্যয়বহুল ও অজনপ্রিয় যুদ্ধকে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।

সপ্তাহান্তে ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৪৩০ জন। পেন্টাগনের তথ্যমতে, ৭ জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ১০০ জন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৯৬ শতাংশ ইতিমধ্যে দায়িত্বে ফিরে গেছেন। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি স্থাপনা, সেতু, খার্গ দ্বীপের তেলকেন্দ্র এবং গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ হামলা কিংবা স্থলবাহিনী পাঠানোর হুমকি অব্যাহত রেখেছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, আমরা খুব শিগগিরই ওই পাহাড়ের ভেতরের স্থাপনাটি ধ্বংস করব।