লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

অবশেষে ছাত্র আন্দোলনের তীব্র চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টির তৃতীয় দফার বৈঠক শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তার এই নাটকীয় পদত্যাগের ঘোষণা আসে।

দিল্লির যন্তর মন্তরে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের অন্যতম প্রধান দাবিই ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদি এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন কি না কিংবা তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

নিজের পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান উল্লেখ করেন, দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ছাত্র, শিক্ষক এবং শিক্ষা সংস্কারের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তিনি সবসময় বিশ্বাস করেছেন যে, একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দূরদর্শী শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরই একটি শক্তিশালী জাতি গড়ে ওঠে। দেশের তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি ও ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, যুবসমাজের স্বপ্ন পূরণ করা রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের একটি নৈতিক দায়িত্ব। তাকে দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

চলতি বছরের ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই মূলত এই সংকটের সূত্রপাত। ঘটনার পরপরই ভারত সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (সিবিআই) দেয় এবং পরীক্ষা বাতিল করে নতুন তারিখ ঘোষণা করে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

এই পুরো সময়ে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল ২০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। ভারত সরকার, বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং বিশেষ করে জেলা প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে পুনরায় পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এরপর গত ১৬ জুলাই প্রকাশিত নিট-ইউজি পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হয়, যেখানে বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের বহু মেধাবী শিক্ষার্থী সফলতা অর্জন করে।

ধর্মেন্দ্র প্রধান তার চিঠিতে লিখেছেন, প্রথম দিন থেকেই তিনি এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় নিয়েছেন এবং পরিস্থিতি থেকে কখনো মুখ ফিরিয়ে নেননি। কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর সম্ভাবনা যেন ‘পরীক্ষা মাফিয়া’র কারণে নষ্ট না হয় এবং কারো প্রতি যেন অন্যায় না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তবে পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হওয়া সত্ত্বেও কিছু দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার এবং শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন, যা তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, যন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি যেন এর সুযোগ নিতে না পারে, জাতীয় ঐক্য যেন অটুট থাকে, একজনও ভারতীয় শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় না জড়ায় এবং শিশুরা যেন পড়াশোনা ও নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনে মনোযোগ দিতে পারে—সেই লক্ষ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পরিশেষে, তিনি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সহকর্মী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান এবং জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদ নিয়ে ভবিষ্যতে মাতৃভূমি ভারত, ওড়িশার মানুষ ও দেশের তরুণ সমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনায় ভ্যান নিয়ে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ

ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩৩:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

অবশেষে ছাত্র আন্দোলনের তীব্র চাপের মুখে পদত্যাগ করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। কেন্দ্র সরকারের সঙ্গে আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টির তৃতীয় দফার বৈঠক শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তার এই নাটকীয় পদত্যাগের ঘোষণা আসে।

দিল্লির যন্তর মন্তরে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের অন্যতম প্রধান দাবিই ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদি এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন কি না কিংবা তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

নিজের পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান উল্লেখ করেন, দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ছাত্র, শিক্ষক এবং শিক্ষা সংস্কারের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। তিনি সবসময় বিশ্বাস করেছেন যে, একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দূরদর্শী শিক্ষা ব্যবস্থার ওপরই একটি শক্তিশালী জাতি গড়ে ওঠে। দেশের তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি ও ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, যুবসমাজের স্বপ্ন পূরণ করা রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের একটি নৈতিক দায়িত্ব। তাকে দেশসেবার সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

চলতি বছরের ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই মূলত এই সংকটের সূত্রপাত। ঘটনার পরপরই ভারত সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (সিবিআই) দেয় এবং পরীক্ষা বাতিল করে নতুন তারিখ ঘোষণা করে। পাশাপাশি আগামী বছর থেকে পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

এই পুরো সময়ে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ছিল ২০ লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষাটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা। ভারত সরকার, বিভিন্ন রাজ্য সরকার এবং বিশেষ করে জেলা প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় গত ২১ জুন ২০২৬ তারিখে পুনরায় পরীক্ষাটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। এরপর গত ১৬ জুলাই প্রকাশিত নিট-ইউজি পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হয়, যেখানে বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের বহু মেধাবী শিক্ষার্থী সফলতা অর্জন করে।

ধর্মেন্দ্র প্রধান তার চিঠিতে লিখেছেন, প্রথম দিন থেকেই তিনি এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় নিয়েছেন এবং পরিস্থিতি থেকে কখনো মুখ ফিরিয়ে নেননি। কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর সম্ভাবনা যেন ‘পরীক্ষা মাফিয়া’র কারণে নষ্ট না হয় এবং কারো প্রতি যেন অন্যায় না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তবে পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হওয়া সত্ত্বেও কিছু দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার এবং শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন, যা তাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, যন্তর মন্তরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি যেন এর সুযোগ নিতে না পারে, জাতীয় ঐক্য যেন অটুট থাকে, একজনও ভারতীয় শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ যেন আইনি জটিলতায় না জড়ায় এবং শিশুরা যেন পড়াশোনা ও নিজেদের ভবিষ্যৎ গঠনে মনোযোগ দিতে পারে—সেই লক্ষ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। পরিশেষে, তিনি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সহকর্মী এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান এবং জগন্নাথ দেবের আশীর্বাদ নিয়ে ভবিষ্যতে মাতৃভূমি ভারত, ওড়িশার মানুষ ও দেশের তরুণ সমাজের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।