লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আধুনিক বাংলাদেশের জনক জিয়াউর রহমান: সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই হলেন আধুনিক বাংলাদেশের জনক। রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে জেটেব আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান এমন একজন দেশপ্রেমিক ছিলেন যার ওপর জনগণের অগাধ আস্থা ছিল। মাত্র সাড়ে তিন বছর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলেও দেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি তার কাজের ছাপ রেখে গেছেন। তার সেই অবদানের কারণেই আজ তাকে আধুনিক বাংলাদেশের জনক হিসেবে স্মরণ করা হয়। তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান যখন দেশের হাল ধরেছিলেন, তখন দেশ ছিল অন্ধকার অমানিশার দিকে। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তার সেই ঐতিহাসিক ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ সেই ইতিহাসও মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ তখন বিএনপি নামের কোনো দল ছিল না, কিন্তু সিপাহী-জনতার আস্থা ছিল মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রতি।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা ষড়যন্ত্র করে ২০০৯ সালের মতো ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন, তাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে কারণ জনগণ তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে। স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের কোনো সুযোগ আর নেই। একই সঙ্গে জনগণের অধিকার নিয়ে কেউ যাতে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখার দায়িত্ব সবার। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পরও মানুষ যে দলের প্রতি আস্থা রেখেছিল, সেটি ছিল বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সারা দেশ ঘুরে দলকে জনগণের দলে পরিণত করেছিলেন। ১৯৯১ সালের অবাধ নির্বাচনে জনগণের ভালোবাসায় বিএনপি ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অনেকে মিলে ১৭৪ দিন আন্দোলন ও হরতাল করেছিলেন, কিন্তু বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করেছে।

ডা. জাহিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র, যেখানে সুশাসন নিশ্চিত হবে এবং অন্যায়, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের কোনো স্থান থাকবে না। তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের পর যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন, তারা ষড়যন্ত্র করে একটি দলকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন ভোটের প্রয়োজন হয়নি। ভোটকেন্দ্রে ভোটার না থাকলেও নির্বাচন হয়ে গেছে, দিনের ভোট রাতে হয়েছে। তখন এমন শাসন ব্যবস্থা ছিল যে সাগর-রুনি হত্যার বিচার আজও হয়নি, চার্জশিটও দেওয়া হয়নি এবং ১২০ বারের বেশি মামলার তারিখ পিছিয়েছে। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনেও প্রার্থী পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, যাদের দুধ-কলা দিয়ে পুষলেন, তারা শেষ পর্যন্ত পাশে থাকতে পারেনি। জনগণের ভালোবাসা না থাকলে ক্ষমতায় থাকাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

জুলাই-আগস্টের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডা. জাহিদ বলেন, সরকার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি অধিদপ্তর গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমাদ আজম খান এই শহীদ, পঙ্গুত্ববরণকারী এবং গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সহায়তায় কাজ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার ঘটনা থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত শত শত নেতাকর্মী নিখোঁজ হয়েছেন, যা তাদের পরিবারগুলোর জন্য এক অবর্ণনীয় যাতনা। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি, কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানিতে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি ইন্তেকাল করার পর সারা দেশের মানুষ তার কফিনের পাশে দাঁড়িয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। জেটেবের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এ বি এম রুহুল আমীন আকন্দের সঞ্চালনায় সভায় সংগঠনটির নেতাকর্মী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে অষ্টমবারের মতো এশিয়া কাপ চ্যাম্পিয়ন ভারত

আধুনিক বাংলাদেশের জনক জিয়াউর রহমান: সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই হলেন আধুনিক বাংলাদেশের জনক। রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে জেটেব আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান এমন একজন দেশপ্রেমিক ছিলেন যার ওপর জনগণের অগাধ আস্থা ছিল। মাত্র সাড়ে তিন বছর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলেও দেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি তার কাজের ছাপ রেখে গেছেন। তার সেই অবদানের কারণেই আজ তাকে আধুনিক বাংলাদেশের জনক হিসেবে স্মরণ করা হয়। তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান যখন দেশের হাল ধরেছিলেন, তখন দেশ ছিল অন্ধকার অমানিশার দিকে। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তার সেই ঐতিহাসিক ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ সেই ইতিহাসও মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। অথচ তখন বিএনপি নামের কোনো দল ছিল না, কিন্তু সিপাহী-জনতার আস্থা ছিল মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রতি।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা ষড়যন্ত্র করে ২০০৯ সালের মতো ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন, তাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে কারণ জনগণ তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে। স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের কোনো সুযোগ আর নেই। একই সঙ্গে জনগণের অধিকার নিয়ে কেউ যাতে ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখার দায়িত্ব সবার। তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পরও মানুষ যে দলের প্রতি আস্থা রেখেছিল, সেটি ছিল বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সারা দেশ ঘুরে দলকে জনগণের দলে পরিণত করেছিলেন। ১৯৯১ সালের অবাধ নির্বাচনে জনগণের ভালোবাসায় বিএনপি ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অনেকে মিলে ১৭৪ দিন আন্দোলন ও হরতাল করেছিলেন, কিন্তু বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করেছে।

ডা. জাহিদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র, যেখানে সুশাসন নিশ্চিত হবে এবং অন্যায়, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের কোনো স্থান থাকবে না। তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের পর যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন, তারা ষড়যন্ত্র করে একটি দলকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন ভোটের প্রয়োজন হয়নি। ভোটকেন্দ্রে ভোটার না থাকলেও নির্বাচন হয়ে গেছে, দিনের ভোট রাতে হয়েছে। তখন এমন শাসন ব্যবস্থা ছিল যে সাগর-রুনি হত্যার বিচার আজও হয়নি, চার্জশিটও দেওয়া হয়নি এবং ১২০ বারের বেশি মামলার তারিখ পিছিয়েছে। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনেও প্রার্থী পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, যাদের দুধ-কলা দিয়ে পুষলেন, তারা শেষ পর্যন্ত পাশে থাকতে পারেনি। জনগণের ভালোবাসা না থাকলে ক্ষমতায় থাকাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

জুলাই-আগস্টের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডা. জাহিদ বলেন, সরকার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একটি অধিদপ্তর গঠন করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমাদ আজম খান এই শহীদ, পঙ্গুত্ববরণকারী এবং গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সহায়তায় কাজ করছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার ঘটনা থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত শত শত নেতাকর্মী নিখোঁজ হয়েছেন, যা তাদের পরিবারগুলোর জন্য এক অবর্ণনীয় যাতনা। তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি, কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানিতে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি ইন্তেকাল করার পর সারা দেশের মানুষ তার কফিনের পাশে দাঁড়িয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। জেটেবের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এ বি এম রুহুল আমীন আকন্দের সঞ্চালনায় সভায় সংগঠনটির নেতাকর্মী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।