লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৯ সালের ভারত নির্বাচনে জেন-জি প্রজন্মের প্রভাব বাড়বে

ভারতে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেন-জি বা জেনারেশন জেড দ্রুত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় ১৮ থেকে ৩২ বছর বয়সী এই প্রজন্মই হবে দেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী, যা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।

সাম্প্রতিক নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ভারতের রাজনীতিতে তরুণদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়। যদিও শুরুতে আন্দোলনটি পরীক্ষা কেন্দ্রিক ছিল, তবে এটি দ্রুত শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জাতীয় আলোচনায় রূপ নেয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে ভারতে জেন-জির সংখ্যা প্রায় ৩৮ কোটি বা ৩৮০ মিলিয়নে পৌঁছাবে। এর মধ্যে ১৯ কোটি ৯০ লাখ পুরুষ এবং ১৮ কোটি ১০ লাখ নারী থাকবেন। এই সংখ্যা মিলেনিয়ালদের (১৯৮১-১৯৯৬ সালে জন্ম) ছাড়িয়ে যাবে, যাদের সংখ্যা প্রায় ৩৫ কোটি ৭০ লাখে সীমাবদ্ধ থাকবে। জেন-জির এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার্থী, প্রথমবার ভোটার, কর্মপ্রত্যাশী তরুণ এবং নতুন পরিবার গঠনকারী মানুষ অন্তর্ভুক্ত থাকায় কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন ও সুশাসনের মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক গুরুত্ব পাবে।

জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারতের জনসংখ্যার বয়স কাঠামোও পরিবর্তিত হচ্ছে। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ভোটার হিসেবে অংশ ১৯৮৮ সালে ছিল ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ১ শতাংশে এবং ২০২৯ সালে তা ২৭ দশমিক ৮ শতাংশে নামতে পারে। অর্থাৎ, দশকের শেষে প্রতি চারজন ভোটারের একজন হবেন এই বয়সী। ভোটারদের মোট অংশে তরুণদের অনুপাত কমলেও জেন-জির ডিজিটাল সংযোগ, উচ্চ শিক্ষাগত আকাঙ্ক্ষা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতা তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়িয়ে দিচ্ছে।

জেনারেশন জেডের পরেই রয়েছে জেনারেশন আলফা, যাদের সংখ্যা ৪১ কোটি ৭০ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ২০২৯ সালে তারা ভোটার হওয়ার বয়সে পৌঁছাবে না। এদিকে, ভারতের জনসংখ্যা ধীরে ধীরে বয়স্ক হচ্ছে এবং শিশুদের অনুপাত কমছে, যা দেশের দীর্ঘদিনের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা তরুণ জনসংখ্যার সুবিধা সংকুচিত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই বাস্তবতায় জেনারেশন জেড এমন এক সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক হচ্ছে যখন তারা রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং ডিজিটালভাবে সংযুক্ত। তাই ২০২৯ সালের নির্বাচনে এই প্রজন্মের সমর্থন অর্জন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৯ সালের মধ্যে ভারতে জেন-জির সংখ্যা প্রায় ৩৮ কোটি (৩৮০ মিলিয়ন) হবে। এর মধ্যে প্রায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ পুরুষ এবং ১৮ কোটি ১০ লাখ নারী থাকবেন। ফলে এই প্রজন্ম মিলেনিয়ালদের (যারা ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছেন) ছাড়িয়ে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীতে পরিণত হবে। একই সময়ে মিলেনিয়ালদের সংখ্যা প্রায় ৩৫ কোটি ৭০ লাখে (৩৫৭ মিলিয়ন) সীমাবদ্ধ থাকবে।

অন্যদিকে, জেনারেশন জেডের পরেই রয়েছে আরো বড় প্রজন্ম ‘জেনারেশন আলফা । যদিও ২০২৯ সালে তাদের সদস্যরা ভোট দেওয়ার বয়সে পৌঁছাবে না, তবুও তাদের সংখ্যা ৪১ কোটি ৭০ লাখের (৪১৭ মিলিয়ন) বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাদেরকে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রজন্মে পরিণত করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর সিইওকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

২০২৯ সালের ভারত নির্বাচনে জেন-জি প্রজন্মের প্রভাব বাড়বে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:১৯:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ভারতে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেন-জি বা জেনারেশন জেড দ্রুত একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের সময় ১৮ থেকে ৩২ বছর বয়সী এই প্রজন্মই হবে দেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী, যা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।

সাম্প্রতিক নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ভারতের রাজনীতিতে তরুণদের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়। যদিও শুরুতে আন্দোলনটি পরীক্ষা কেন্দ্রিক ছিল, তবে এটি দ্রুত শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে জাতীয় আলোচনায় রূপ নেয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে ভারতে জেন-জির সংখ্যা প্রায় ৩৮ কোটি বা ৩৮০ মিলিয়নে পৌঁছাবে। এর মধ্যে ১৯ কোটি ৯০ লাখ পুরুষ এবং ১৮ কোটি ১০ লাখ নারী থাকবেন। এই সংখ্যা মিলেনিয়ালদের (১৯৮১-১৯৯৬ সালে জন্ম) ছাড়িয়ে যাবে, যাদের সংখ্যা প্রায় ৩৫ কোটি ৭০ লাখে সীমাবদ্ধ থাকবে। জেন-জির এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার্থী, প্রথমবার ভোটার, কর্মপ্রত্যাশী তরুণ এবং নতুন পরিবার গঠনকারী মানুষ অন্তর্ভুক্ত থাকায় কর্মসংস্থান, শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন ও সুশাসনের মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক গুরুত্ব পাবে।

জাতিসংঘের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভারতের জনসংখ্যার বয়স কাঠামোও পরিবর্তিত হচ্ছে। ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের ভোটার হিসেবে অংশ ১৯৮৮ সালে ছিল ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে কমে দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ১ শতাংশে এবং ২০২৯ সালে তা ২৭ দশমিক ৮ শতাংশে নামতে পারে। অর্থাৎ, দশকের শেষে প্রতি চারজন ভোটারের একজন হবেন এই বয়সী। ভোটারদের মোট অংশে তরুণদের অনুপাত কমলেও জেন-জির ডিজিটাল সংযোগ, উচ্চ শিক্ষাগত আকাঙ্ক্ষা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতা তাদের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়িয়ে দিচ্ছে।

জেনারেশন জেডের পরেই রয়েছে জেনারেশন আলফা, যাদের সংখ্যা ৪১ কোটি ৭০ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও ২০২৯ সালে তারা ভোটার হওয়ার বয়সে পৌঁছাবে না। এদিকে, ভারতের জনসংখ্যা ধীরে ধীরে বয়স্ক হচ্ছে এবং শিশুদের অনুপাত কমছে, যা দেশের দীর্ঘদিনের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা তরুণ জনসংখ্যার সুবিধা সংকুচিত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই বাস্তবতায় জেনারেশন জেড এমন এক সময়ে প্রাপ্তবয়স্ক হচ্ছে যখন তারা রাজনৈতিকভাবে সচেতন এবং ডিজিটালভাবে সংযুক্ত। তাই ২০২৯ সালের নির্বাচনে এই প্রজন্মের সমর্থন অর্জন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৯ সালের মধ্যে ভারতে জেন-জির সংখ্যা প্রায় ৩৮ কোটি (৩৮০ মিলিয়ন) হবে। এর মধ্যে প্রায় ১৯ কোটি ৯০ লাখ পুরুষ এবং ১৮ কোটি ১০ লাখ নারী থাকবেন। ফলে এই প্রজন্ম মিলেনিয়ালদের (যারা ১৯৮১ থেকে ১৯৯৬ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণ করেছেন) ছাড়িয়ে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীতে পরিণত হবে। একই সময়ে মিলেনিয়ালদের সংখ্যা প্রায় ৩৫ কোটি ৭০ লাখে (৩৫৭ মিলিয়ন) সীমাবদ্ধ থাকবে।

অন্যদিকে, জেনারেশন জেডের পরেই রয়েছে আরো বড় প্রজন্ম ‘জেনারেশন আলফা । যদিও ২০২৯ সালে তাদের সদস্যরা ভোট দেওয়ার বয়সে পৌঁছাবে না, তবুও তাদের সংখ্যা ৪১ কোটি ৭০ লাখের (৪১৭ মিলিয়ন) বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাদেরকে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রজন্মে পরিণত করবে।