লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাবির ৩ শিক্ষক ও ১ কর্মকর্তা বরখাস্ত, ৪ শিক্ষককে অব্যাহতি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২৮শে জুলাই অনুষ্ঠিত এই সভায় ৩ জন শিক্ষক ও ১ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত এবং ৪ জন শিক্ষককে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

শ্রেণিকক্ষ ও এর বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং তথ্যানুসন্ধান কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসাথে অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের দায়ে প্রধান প্রকৌশলীর অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম মাহবুব মুস্তাফাও সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থি কর্মকাণ্ড, সরকার বিরোধী অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান ও হুমকি প্রদানের অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসী ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে চেয়ারম্যানের দায়িত্বসহ সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার)-কেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম এবং এম.ফিল ও পিএইচ.ডি থিসিসে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সভায় ২০০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সকল নিয়োগের স্বচ্ছতা যাচাইয়ের জন্য প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করেছে, যাতে অনুষদের সকল ডিন অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া বিশ্বব্যাংক ও ইউজিসির অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ প্রকল্পের গবেষণা ও অর্থ ব্যয়ের পর্যালোচনার জন্য প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জুলাইয়ের চেতনা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মলচত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ভিত্তিপ্রস্তর আগামী ৫ আগস্ট উদ্বোধন করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনায় গ্রামীণ ব্যাংকের শাখায় গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের আগুন

ঢাবির ৩ শিক্ষক ও ১ কর্মকর্তা বরখাস্ত, ৪ শিক্ষককে অব্যাহতি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:২৩:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গত ২৮শে জুলাই অনুষ্ঠিত এই সভায় ৩ জন শিক্ষক ও ১ জন কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত এবং ৪ জন শিক্ষককে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

শ্রেণিকক্ষ ও এর বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং তথ্যানুসন্ধান কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসাথে অফিস শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের দায়ে প্রধান প্রকৌশলীর অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম মাহবুব মুস্তাফাও সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন।

অন্যদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থি কর্মকাণ্ড, সরকার বিরোধী অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান ও হুমকি প্রদানের অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসী ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে চেয়ারম্যানের দায়িত্বসহ সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ এবং শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক শাহরিয়ার)-কেও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম এবং এম.ফিল ও পিএইচ.ডি থিসিসে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সভায় ২০০৯ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সকল নিয়োগের স্বচ্ছতা যাচাইয়ের জন্য প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠন করেছে, যাতে অনুষদের সকল ডিন অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এছাড়া বিশ্বব্যাংক ও ইউজিসির অর্থায়নে পরিচালিত ‘হেকেপ’ প্রকল্পের গবেষণা ও অর্থ ব্যয়ের পর্যালোচনার জন্য প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। জুলাইয়ের চেতনা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মলচত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ভিত্তিপ্রস্তর আগামী ৫ আগস্ট উদ্বোধন করা হবে।