লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়েটে ২২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ অসুস্থ অনেকে, অ্যাম্বুলেন্স জরুরি তলব

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে প্রশাসনিক ভবন-২-এ ২২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উপাচার্যসহ তার সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজন অবরুদ্ধ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় মধ্যরাতে জরুরি চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডাকা হয়। অসুস্থ দুই সাবেক শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নগরীর একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে অবরুদ্ধ অবস্থায় উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম গণমাধ্যমের কাছে তাদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন এবং অনেকে শ্বাসকষ্ট বা সাফোকেশনে ভুগছেন। ঘুমানোর কোনো জায়গা নেই এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তারা চরম কষ্টে আছেন।

রাত ১টার দিকে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও টেকনোলজিস্ট বাসু দেব ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এ সময় ভবনের সামনে দুটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়। ডা. আব্দুল্লাহ জানান, প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ ১৭০/১০০ মিলিমিটার পারদ পাওয়া গেছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য সাবেক শিক্ষার্থী প্রকৌশলী টিটু মো. সোহানের রক্তচাপ পাওয়া গেছে ১৪০/৯০। চিকিৎসকের পরামর্শে ভবনের ভেতরে অবস্থানরত অন্যদের স্যালাইন দেওয়া হয়েছে।

চুয়েট সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধদের জন্য খাবার পাঠিয়েছিলেন। রাতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়লে উপাচার্য নিজেই অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসাকর্মীদের ডাকেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের অনুমতি সাপেক্ষে চিকিৎসকেরা ভবনের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পান।

এর আগে সোমবার সকাল ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ২১ দিন পর নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। সে সময় তার সঙ্গে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী, বহিরাগত ব্যক্তি ও অধ্যাপক আরাফাত রহমান ছিলেন। এরপরই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে চুয়েট ত্যাগের জন্য দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।

দিনভর ভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করে স্লোগান দেন। উপাচার্য কথা বলতে এগিয়ে এলে তারা ‘অনলাইন ভিসি, অনলাইন ভিসি’ এবং ‘যেই ভিসি ছাত্র মারে, সে আমার না’ স্লোগান দেন। রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) চুয়েটে গিয়ে বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ চালু করার অনুরোধ জানালেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

এদিকে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, সোমবার বিকেলে রাউজানের মদুনাঘাটসহ কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীদের বাসে উপাচার্যের সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছেন। এতে বাস ভাঙচুর ও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। চুয়েট শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি। অন্যদিকে, চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। এছাড়া ঢাকায় অবস্থানরত সাবেক চুয়েট শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার শাহবাগে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

উপাচার্যের চেয়ারে ছাত্রসংগঠনের আধিপত্য ও অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া

চুয়েটে ২২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ উপাচার্যসহ অসুস্থ অনেকে, অ্যাম্বুলেন্স জরুরি তলব

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩০:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে প্রশাসনিক ভবন-২-এ ২২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে উপাচার্যসহ তার সঙ্গে থাকা বেশ কয়েকজন অবরুদ্ধ অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় মধ্যরাতে জরুরি চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডাকা হয়। অসুস্থ দুই সাবেক শিক্ষার্থীর মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নগরীর একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে অবরুদ্ধ অবস্থায় উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম গণমাধ্যমের কাছে তাদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন এবং অনেকে শ্বাসকষ্ট বা সাফোকেশনে ভুগছেন। ঘুমানোর কোনো জায়গা নেই এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তারা চরম কষ্টে আছেন।

রাত ১টার দিকে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ও টেকনোলজিস্ট বাসু দেব ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে অসুস্থ ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এ সময় ভবনের সামনে দুটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা হয়। ডা. আব্দুল্লাহ জানান, প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ ১৭০/১০০ মিলিমিটার পারদ পাওয়া গেছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য সাবেক শিক্ষার্থী প্রকৌশলী টিটু মো. সোহানের রক্তচাপ পাওয়া গেছে ১৪০/৯০। চিকিৎসকের পরামর্শে ভবনের ভেতরে অবস্থানরত অন্যদের স্যালাইন দেওয়া হয়েছে।

চুয়েট সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে শিক্ষার্থীরা অবরুদ্ধদের জন্য খাবার পাঠিয়েছিলেন। রাতে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়লে উপাচার্য নিজেই অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসাকর্মীদের ডাকেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের অনুমতি সাপেক্ষে চিকিৎসকেরা ভবনের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পান।

এর আগে সোমবার সকাল ৮টার দিকে ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ২১ দিন পর নিজের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। সে সময় তার সঙ্গে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী, বহিরাগত ব্যক্তি ও অধ্যাপক আরাফাত রহমান ছিলেন। এরপরই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যকে চুয়েট ত্যাগের জন্য দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভবন না ছাড়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।

দিনভর ভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করে স্লোগান দেন। উপাচার্য কথা বলতে এগিয়ে এলে তারা ‘অনলাইন ভিসি, অনলাইন ভিসি’ এবং ‘যেই ভিসি ছাত্র মারে, সে আমার না’ স্লোগান দেন। রাউজানের সহকারী কমিশনার (ভূমি) চুয়েটে গিয়ে বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ চালু করার অনুরোধ জানালেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

এদিকে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, সোমবার বিকেলে রাউজানের মদুনাঘাটসহ কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীদের বাসে উপাচার্যের সমর্থকেরা হামলা চালিয়েছেন। এতে বাস ভাঙচুর ও কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা। চুয়েট শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি। অন্যদিকে, চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন অধ্যাপক আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। এছাড়া ঢাকায় অবস্থানরত সাবেক চুয়েট শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার শাহবাগে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন।