লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য আদালতের নির্দেশ অমান্য করে প্রচার করা হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার আগেই গণমাধ্যমের জন্য এ বিষয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছে। যদি কেউ আগেভাগে ঘোষণা দেয় যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং পরে তা প্রচার বা সম্প্রচার করে, তবে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হিসেবে গণ্য হবে। তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশনা মানা প্রতিটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এবং সরকারের কাজ হলো সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আদালতের আদেশ না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়ার যৌক্তিকতা থাকত না। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের আদেশ বলবৎ আছে, ততক্ষণ সবাইকে তা মেনে চলতে হবে। কেউ এই রায়ের সঙ্গে একমত না হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার তাকে ফিরিয়ে আনতেই চায় এবং এ জন্য ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে, তবে তিনি আইনজীবী নিয়োগ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের আইনি সুযোগ পাবেন। সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী এবং তার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতে তার আহ্বানের কোনো বাস্তব প্রভাব দেখা যায়নি। বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কোনো নৈতিক বা সাংগঠনিক শক্তি তাদের নেই। এছাড়া তার দেশত্যাগে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের কোনো উদ্যোগ এই মুহূর্তে সরকারের নেই বলে তিনি জানান।

সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদের জামিন পাওয়ার তথ্য সরকার দেরিতে পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আগের সরকারের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৫ বছরে যারা প্রশাসনে স্থায়ী হয়েছেন, তাদের সবাইকে একদিনে সরানো সম্ভব নয়। সরকার ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনছে, তবে তা এমনভাবে করা হচ্ছে না যাতে রাষ্ট্রের সেবাদান ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ব্যবস্থা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য আদালতের নির্দেশ অমান্য করে প্রচার করা হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার আগেই গণমাধ্যমের জন্য এ বিষয়ে সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছে। যদি কেউ আগেভাগে ঘোষণা দেয় যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং পরে তা প্রচার বা সম্প্রচার করে, তবে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হিসেবে গণ্য হবে। তিনি আরও বলেন, আদালতের নির্দেশনা মানা প্রতিটি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এবং সরকারের কাজ হলো সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আদালতের আদেশ না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়ার যৌক্তিকতা থাকত না। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের আদেশ বলবৎ আছে, ততক্ষণ সবাইকে তা মেনে চলতে হবে। কেউ এই রায়ের সঙ্গে একমত না হলে তা আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সরকার তাকে ফিরিয়ে আনতেই চায় এবং এ জন্য ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হবে, তবে তিনি আইনজীবী নিয়োগ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের আইনি সুযোগ পাবেন। সরকার আইনের শাসনে বিশ্বাসী এবং তার ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতীতে তার আহ্বানের কোনো বাস্তব প্রভাব দেখা যায়নি। বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে সরকারকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কোনো নৈতিক বা সাংগঠনিক শক্তি তাদের নেই। এছাড়া তার দেশত্যাগে সহযোগিতাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্তের কোনো উদ্যোগ এই মুহূর্তে সরকারের নেই বলে তিনি জানান।

সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদের জামিন পাওয়ার তথ্য সরকার দেরিতে পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে আগের সরকারের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১৫ বছরে যারা প্রশাসনে স্থায়ী হয়েছেন, তাদের সবাইকে একদিনে সরানো সম্ভব নয়। সরকার ধীরে ধীরে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনছে, তবে তা এমনভাবে করা হচ্ছে না যাতে রাষ্ট্রের সেবাদান ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন ও দেশত্যাগ বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।