লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলি গোয়েন্দার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে গৃহবন্দি আহমাদিনেজাদ

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের অভিযোগে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে নিজ বাসভবনে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এবং ইসরায়েলভিত্তিক দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা এই নজরদারির ব্যবস্থা করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরেই ইসরায়েল আহমাদিনেজাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এমনকি ইরানের বর্তমান সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনায় তাকে বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবেও বিবেচনা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। জানা গেছে, ২০২৪ সালের শুরুতে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে লুডোভিকা ইউনিভার্সিটি অব পাবলিক সার্ভিস আয়োজিত একটি জলবায়ু সম্মেলনের আড়ালে ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার গোপন বৈঠক হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সফরের পুরো ব্যয়ভার বহন করেছিল মোসাদ এবং সেই সফরেই মোসাদের সাবেক প্রধান ডেভিড বারনিয়ার সঙ্গে আহমাদিনেজাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল।

সূত্রগুলো আরও দাবি করছে যে, আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও মুখপাত্র আলী আকবর জাভানফেকরকেও কয়েক দফায় গোপনে অর্থ প্রদান করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে সামরিক উত্তেজনা শুরুর আগে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্য জেরুজালেম পোস্টের দাবি, ফেব্রুয়ারিতে সংঘাতের প্রথম দিনে তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাড়িতে চালানো এক ইসরায়েলি হামলায় তিনি আহত হন। সেই হামলার উদ্দেশ্য ছিল তাকে গৃহবন্দিত্ব থেকে উদ্ধার করা। পরবর্তীতে তাকে একটি গোপন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হলেও সেখান থেকে তিনি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেন। এরপরই আইআরজিসি তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে গৃহবন্দি করে।

উল্লেখ্য, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মাহমুদ আহমাদিনেজাদ তার কট্টর ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সমর্থনের জন্য পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করায় তার সঙ্গে ইরানের নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইরান সরকার কিংবা আহমাদিনেজাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

আঙুলের শব্দে আম্পায়ার বিভ্রান্ত, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে প্রতারণার নজির

ইসরায়েলি গোয়েন্দার সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগে গৃহবন্দি আহমাদিনেজাদ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩০:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগের অভিযোগে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে নিজ বাসভবনে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এবং ইসরায়েলভিত্তিক দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা এই নজরদারির ব্যবস্থা করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরেই ইসরায়েল আহমাদিনেজাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। এমনকি ইরানের বর্তমান সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনায় তাকে বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবেও বিবেচনা করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। জানা গেছে, ২০২৪ সালের শুরুতে হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে লুডোভিকা ইউনিভার্সিটি অব পাবলিক সার্ভিস আয়োজিত একটি জলবায়ু সম্মেলনের আড়ালে ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার গোপন বৈঠক হয়। অভিযোগ রয়েছে, ওই সফরের পুরো ব্যয়ভার বহন করেছিল মোসাদ এবং সেই সফরেই মোসাদের সাবেক প্রধান ডেভিড বারনিয়ার সঙ্গে আহমাদিনেজাদের সাক্ষাৎ হয়েছিল।

সূত্রগুলো আরও দাবি করছে যে, আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও মুখপাত্র আলী আকবর জাভানফেকরকেও কয়েক দফায় গোপনে অর্থ প্রদান করা হয়েছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানে সামরিক উত্তেজনা শুরুর আগে আরও কয়েকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্য জেরুজালেম পোস্টের দাবি, ফেব্রুয়ারিতে সংঘাতের প্রথম দিনে তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাড়িতে চালানো এক ইসরায়েলি হামলায় তিনি আহত হন। সেই হামলার উদ্দেশ্য ছিল তাকে গৃহবন্দিত্ব থেকে উদ্ধার করা। পরবর্তীতে তাকে একটি গোপন নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হলেও সেখান থেকে তিনি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজায় অংশ নেন। এরপরই আইআরজিসি তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে গৃহবন্দি করে।

উল্লেখ্য, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মাহমুদ আহমাদিনেজাদ তার কট্টর ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সমর্থনের জন্য পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করায় তার সঙ্গে ইরানের নেতৃত্বের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইরান সরকার কিংবা আহমাদিনেজাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।