লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে বার্নহ্যাম

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নতুন নেতা এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। বর্তমানে দলটির ৪০২ জন লেবার এমপির মধ্যে ৩২২ জনই তাকে নেতা হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন, যার ফলে গাণিতিকভাবে নেতৃত্বের দৌড়ে তিনি এখন কার্যত একমাত্র প্রার্থী। লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, ৩২৩ জন এমপির সমর্থন পেলে অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। কিছু এমপি জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে ভোট দিতে না পারলেও পার্লামেন্টে ফিরে বার্নহ্যামকেই সমর্থন করবেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অন্য কোনো প্রার্থী না এলে আগামী সপ্তাহেই বার্নহ্যামকে আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নেতা ঘোষণা করা হবে। এরপর আগামী ২০ জুলাই তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র বার্নহ্যামের জন্য এটি এক নাটকীয় উত্থান। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে ফেরার পরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন।

মনোনয়ন পাওয়ার পর এক বিবৃতিতে বার্নহ্যাম লেবার এমপিদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই সমর্থন দলজুড়ে একটি অভিন্ন বিশ্বাসের প্রতিফলন যে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি এমন এক পরিবর্তনের প্রস্তাব দিচ্ছি যেখানে ক্ষমতা ওয়েস্টমিনস্টারের বাইরে যাবে, সাধারণ মানুষের জন্য অর্থনীতি নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

এর আগে ২০১০ ও ২০১৫ সালে দুইবার লেবার পার্টির নেতৃত্বের লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন বার্নহ্যাম। নিজের মনোনয়ন ঘোষণার সময় তিনি রসিকতা করে বলেন, আশা করি তৃতীয়বারই ভাগ্য খুলবে। বুধবার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আল কার্নস সম্ভাব্য প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ালে বার্নহ্যামের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতা হওয়ার পথ পরিষ্কার হয়। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা নিয়ে দলের ভেতর থেকেই তার ভবিষ্যৎ নীতিমালা বিস্তারিত প্রকাশের দাবি উঠেছে।

উল্লেখ্য, গত মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ধাক্কা এবং বার্নহ্যামের উপনির্বাচনে জয়ের পর তৎকালীন নেতা স্যার কিয়ার স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়ে। পরে স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে স্বীকার করেন যে, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি আর সেরা ব্যক্তি নন। এদিকে লন্ডন রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে এক অনুষ্ঠানে বার্নহ্যাম রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজকে ঘিরে চলমান উপনির্বাচন নিয়ে রসিকতাও করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাইয়ের ২৭ দিনে আড়াই বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রবাসী আয়

যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে এগিয়ে বার্নহ্যাম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:২১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির নতুন নেতা এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। বর্তমানে দলটির ৪০২ জন লেবার এমপির মধ্যে ৩২২ জনই তাকে নেতা হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন, যার ফলে গাণিতিকভাবে নেতৃত্বের দৌড়ে তিনি এখন কার্যত একমাত্র প্রার্থী। লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, ৩২৩ জন এমপির সমর্থন পেলে অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। কিছু এমপি জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে ভোট দিতে না পারলেও পার্লামেন্টে ফিরে বার্নহ্যামকেই সমর্থন করবেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অন্য কোনো প্রার্থী না এলে আগামী সপ্তাহেই বার্নহ্যামকে আনুষ্ঠানিকভাবে লেবার পার্টির নেতা ঘোষণা করা হবে। এরপর আগামী ২০ জুলাই তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র বার্নহ্যামের জন্য এটি এক নাটকীয় উত্থান। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে ফেরার পরপরই তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছেন।

মনোনয়ন পাওয়ার পর এক বিবৃতিতে বার্নহ্যাম লেবার এমপিদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এই সমর্থন দলজুড়ে একটি অভিন্ন বিশ্বাসের প্রতিফলন যে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি এমন এক পরিবর্তনের প্রস্তাব দিচ্ছি যেখানে ক্ষমতা ওয়েস্টমিনস্টারের বাইরে যাবে, সাধারণ মানুষের জন্য অর্থনীতি নতুনভাবে গড়ে তোলা হবে এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চলে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।

এর আগে ২০১০ ও ২০১৫ সালে দুইবার লেবার পার্টির নেতৃত্বের লড়াইয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন বার্নহ্যাম। নিজের মনোনয়ন ঘোষণার সময় তিনি রসিকতা করে বলেন, আশা করি তৃতীয়বারই ভাগ্য খুলবে। বুধবার সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী আল কার্নস সম্ভাব্য প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়ালে বার্নহ্যামের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেতা হওয়ার পথ পরিষ্কার হয়। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া নেতৃত্বে আসার সম্ভাবনা নিয়ে দলের ভেতর থেকেই তার ভবিষ্যৎ নীতিমালা বিস্তারিত প্রকাশের দাবি উঠেছে।

উল্লেখ্য, গত মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ধাক্কা এবং বার্নহ্যামের উপনির্বাচনে জয়ের পর তৎকালীন নেতা স্যার কিয়ার স্টারমারের ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়ে। পরে স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে স্বীকার করেন যে, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তিনি আর সেরা ব্যক্তি নন। এদিকে লন্ডন রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে এক অনুষ্ঠানে বার্নহ্যাম রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজকে ঘিরে চলমান উপনির্বাচন নিয়ে রসিকতাও করেছেন।