লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপ্রতিম হত্যা: ভিকটিম ব্লেমিংয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ মায়ের, আসামিপক্ষে লড়বেন না আইনজীবীরা

কুমিল্লায় নিহত ১৩ বছর বয়সী কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁর সন্তানকে কেন ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ বা দোষারোপ করা হচ্ছে। এদিকে, অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী লড়াই না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি।

গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা এবং আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) কাইমুল হক নিহত অপ্রতিমের মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে তাঁদের বাসায় যান। এ সময় নাহিদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার দুধের শিশু, তাকে ব্লেমিং করা আমি কোনো দিন মেনে নেব না। আমার ছেলে বোঝে না। তাকে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে, দীর্ঘদিন সময় নিয়ে বন্ধু বানিয়ে, সবার কাছে ভিকটিম বানিয়ে দিয়ে বলছে, ও নাকি তাদেরই একজন সদস্য, ওদের সঙ্গে খেলছে এবং ওর কারণেই ও মরে গেছে—আমি তা মানবো না।"

নাহিদা বেগম মনে করছেন অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পেছনে দুটি কারণ থাকতে পারে। তিনি জানান, ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি অনেক মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেই আক্রোশ থেকে যদি তাঁর ছেলেকে টার্গেট করা হয়ে থাকে, তবে তা তিনি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তিনি বলেন, এই ঘাতকেরা জেল থেকে বের হলে আরও অনেক শিশুর জীবন ধ্বংস করবে।

পিপি কাইমুল হক জানান, পরিবারটিকে সমবেদনা জানাতে তাঁরা গিয়েছিলেন। নাহিদা বেগম তাঁদের জানিয়েছেন যে, একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছে অপ্রতিম উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা করত। সন্তান হারানোর শোকের মধ্যে এমন অপপ্রচার তাঁকে আরও বেশি কষ্ট দিচ্ছে।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতির নেতাদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সমিতির সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ জানান, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তাঁরা মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, সমিতির কোনো সদস্য অপ্রতিম হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেবেন না। তবে একতরফা বিচার এড়াতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয়ভাবে আসামিদের জন্য আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থা থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় উপাচার্য অধ্যাপক এম এম শরীফুল করীম, সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ, পিপি কাইমুল হক, জিপি তারেক আবদুল্লাহসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, অপ্রতিম হত্যা মামলায় ইতিমধ্যে তিন আসামি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বৃদ্ধি

অপ্রতিম হত্যা: ভিকটিম ব্লেমিংয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ মায়ের, আসামিপক্ষে লড়বেন না আইনজীবীরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লায় নিহত ১৩ বছর বয়সী কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁর মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তাঁর সন্তানকে কেন ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ বা দোষারোপ করা হচ্ছে। এদিকে, অপ্রতিম হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী লড়াই না করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি।

গত মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা এবং আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) কাইমুল হক নিহত অপ্রতিমের মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে তাঁদের বাসায় যান। এ সময় নাহিদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার দুধের শিশু, তাকে ব্লেমিং করা আমি কোনো দিন মেনে নেব না। আমার ছেলে বোঝে না। তাকে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে, দীর্ঘদিন সময় নিয়ে বন্ধু বানিয়ে, সবার কাছে ভিকটিম বানিয়ে দিয়ে বলছে, ও নাকি তাদেরই একজন সদস্য, ওদের সঙ্গে খেলছে এবং ওর কারণেই ও মরে গেছে—আমি তা মানবো না।"

নাহিদা বেগম মনে করছেন অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পেছনে দুটি কারণ থাকতে পারে। তিনি জানান, ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি অনেক মাদকসেবী ও মাদক কারবারিকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেই আক্রোশ থেকে যদি তাঁর ছেলেকে টার্গেট করা হয়ে থাকে, তবে তা তিনি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। ছেলের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে তিনি বলেন, এই ঘাতকেরা জেল থেকে বের হলে আরও অনেক শিশুর জীবন ধ্বংস করবে।

পিপি কাইমুল হক জানান, পরিবারটিকে সমবেদনা জানাতে তাঁরা গিয়েছিলেন। নাহিদা বেগম তাঁদের জানিয়েছেন যে, একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছে অপ্রতিম উচ্ছৃঙ্খল চলাফেরা করত। সন্তান হারানোর শোকের মধ্যে এমন অপপ্রচার তাঁকে আরও বেশি কষ্ট দিচ্ছে।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতির নেতাদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে সমিতির সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ জানান, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে তাঁরা মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, সমিতির কোনো সদস্য অপ্রতিম হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেবেন না। তবে একতরফা বিচার এড়াতে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রীয়ভাবে আসামিদের জন্য আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থা থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত ওই মতবিনিময় সভায় উপাচার্য অধ্যাপক এম এম শরীফুল করীম, সহ–উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ, পিপি কাইমুল হক, জিপি তারেক আবদুল্লাহসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, অপ্রতিম হত্যা মামলায় ইতিমধ্যে তিন আসামি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।