লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুর মাউশিতে হাসিনার আত্মীয় মাহমুদকে পদায়নের তোড়জোড়

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ৪০

ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর ও তার নিকটাত্মীয়, ছাত্রলীগের সাবেক ক্যাডার মাহমুদুর রহমানকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক (কলেজ) হিসেবে পদায়নের জোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের ঘুস লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে, যা মাউশির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দাবি তুলেছেন, বিতর্কিত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন ব্যক্তির পরিবর্তে দেশ ও দপ্তরের স্বার্থে গ্রহণযোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হোক।

পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা হান্নান মিয়া ও মাসুদ করিমের ভাষ্যমতে, মাহমুদুর রহমান ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার ভাতিজা এবং পীরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র শামীমের খালাতো ভাই। শামীম ও সজীব ওয়াজেদ জয় আপন চাচাতো-জেঠাতো ভাই হওয়ায় মাহমুদুর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের থানা ও উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা মাহমুদুর সরকারি চাকরির সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে লোভনীয় পদে থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন। বর্তমানেও তিনি দলটিকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আশঙ্কা, এমন চিহ্নিত ফ্যাসিস্টের দোসরকে সরকারি উচ্চপর্যায়ে পদায়ন করা হলে তা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে এবং আওয়ামী লীগকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেবে।

রংপুর কারমাইকেল কলেজের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২৭তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যোগদানের পর থেকে মাহমুদুর রহমান সব ধরনের সুবিধা ভোগ করেছেন। বর্তমানে কারমাইকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত এই কর্মকর্তার ক্ষমতার দাপটে সহকর্মীরা সবসময় তটস্থ থাকতেন। ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর আওয়ামী প্রভাব খাটিয়ে তিনি মাউশি রংপুর অঞ্চলে সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক) হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে ঘুস বাণিজ্যের সুবিধা করতে না পেরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিকে ম্যানেজ করে ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক হিসেবে প্রাইস পোস্টিং বাগিয়ে নেন। বোর্ডের দায়িত্ব পালনকালে তিনি কোটি টাকার ঘুস সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং পীরগঞ্জের স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সব অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতা ও সশরীরে উপস্থিতি বজায় রাখতেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে একসঙ্গে চাকরি করার সুবাদে কলেজ শাখার এক কর্মকর্তা বর্তমানে মাহমুদুর রহমানকে মাউশির কলেজ শাখার এডি পদে নিয়ে আসার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। বর্তমানে তার নিয়োগের ফাইলটি ঢাকা থেকে অতিরিক্ত সচিব ও সচিবের দপ্তর পার হয়ে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর টেবিলে রয়েছে। মাউশির সাবেক এক পরিচালক জানান, মাউশির মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও কলেজ শাখার পরিচালক ও সহকারী পরিচালক পদগুলো অত্যন্ত লোভনীয়, যেখানে বাড়তি আয়ের সুযোগ থাকায় কর্মকর্তাদের মধ্যে এসব পদে আসার প্রতিযোগিতা থাকে।

এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন জুলাই যোদ্ধা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমতিয়াজ ইমতি। তিনি বলেন, কোনো ফ্যাসিস্টের দোসরকে সরকারি উচ্চপর্যায়ে নিয়োগ দেওয়া ঠিক হবে না, কারণ এতে এলাকায় ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসিত হবে। রংপুর মাউশির কলেজ শাখার উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান পাইকার ও পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মাজেদও জানিয়েছেন, বিতর্কিত কাউকে নিয়োগ দিলে দপ্তরে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ বিষয়ে মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। এছাড়া মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের কাছে মাহমুদুর রহমানের ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা ও আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের প্রমাণসহ ডকুমেন্ট পাঠানো হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জনপ্রিয় সংবাদ

চলচ্চিত্র সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

রংপুর মাউশিতে হাসিনার আত্মীয় মাহমুদকে পদায়নের তোড়জোড়

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ৪০

ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর ও তার নিকটাত্মীয়, ছাত্রলীগের সাবেক ক্যাডার মাহমুদুর রহমানকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক (কলেজ) হিসেবে পদায়নের জোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের ঘুস লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে, যা মাউশির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে তীব্র বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দাবি তুলেছেন, বিতর্কিত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন ব্যক্তির পরিবর্তে দেশ ও দপ্তরের স্বার্থে গ্রহণযোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হোক।

পীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা হান্নান মিয়া ও মাসুদ করিমের ভাষ্যমতে, মাহমুদুর রহমান ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনার ভাতিজা এবং পীরগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র শামীমের খালাতো ভাই। শামীম ও সজীব ওয়াজেদ জয় আপন চাচাতো-জেঠাতো ভাই হওয়ায় মাহমুদুর রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন। ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের থানা ও উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা মাহমুদুর সরকারি চাকরির সুযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে বিভিন্ন স্থানে লোভনীয় পদে থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন। বর্তমানেও তিনি দলটিকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের আশঙ্কা, এমন চিহ্নিত ফ্যাসিস্টের দোসরকে সরকারি উচ্চপর্যায়ে পদায়ন করা হলে তা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে এবং আওয়ামী লীগকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেবে।

রংপুর কারমাইকেল কলেজের একাধিক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ২৭তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে যোগদানের পর থেকে মাহমুদুর রহমান সব ধরনের সুবিধা ভোগ করেছেন। বর্তমানে কারমাইকেল কলেজে সহকারী অধ্যাপক পদে কর্মরত এই কর্মকর্তার ক্ষমতার দাপটে সহকর্মীরা সবসময় তটস্থ থাকতেন। ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর আওয়ামী প্রভাব খাটিয়ে তিনি মাউশি রংপুর অঞ্চলে সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক) হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তীতে ঘুস বাণিজ্যের সুবিধা করতে না পেরে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিকে ম্যানেজ করে ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ডে উপ-বিদ্যালয় পরিদর্শক হিসেবে প্রাইস পোস্টিং বাগিয়ে নেন। বোর্ডের দায়িত্ব পালনকালে তিনি কোটি টাকার ঘুস সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন এবং পীরগঞ্জের স্থানীয় ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সব অনুষ্ঠানে পৃষ্ঠপোষকতা ও সশরীরে উপস্থিতি বজায় রাখতেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে একসঙ্গে চাকরি করার সুবাদে কলেজ শাখার এক কর্মকর্তা বর্তমানে মাহমুদুর রহমানকে মাউশির কলেজ শাখার এডি পদে নিয়ে আসার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। বর্তমানে তার নিয়োগের ফাইলটি ঢাকা থেকে অতিরিক্ত সচিব ও সচিবের দপ্তর পার হয়ে বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীর টেবিলে রয়েছে। মাউশির সাবেক এক পরিচালক জানান, মাউশির মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও কলেজ শাখার পরিচালক ও সহকারী পরিচালক পদগুলো অত্যন্ত লোভনীয়, যেখানে বাড়তি আয়ের সুযোগ থাকায় কর্মকর্তাদের মধ্যে এসব পদে আসার প্রতিযোগিতা থাকে।

এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন জুলাই যোদ্ধা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক ইমতিয়াজ ইমতি। তিনি বলেন, কোনো ফ্যাসিস্টের দোসরকে সরকারি উচ্চপর্যায়ে নিয়োগ দেওয়া ঠিক হবে না, কারণ এতে এলাকায় ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসিত হবে। রংপুর মাউশির কলেজ শাখার উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান পাইকার ও পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মাজেদও জানিয়েছেন, বিতর্কিত কাউকে নিয়োগ দিলে দপ্তরে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ বিষয়ে মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। এছাড়া মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের কাছে মাহমুদুর রহমানের ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতা ও আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের প্রমাণসহ ডকুমেন্ট পাঠানো হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।