লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলা: সংসদে ক্ষোভ, কড়া ব্যবস্থার আশ্বাস

ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাকে দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। জাতীয় সংসদকে তিনি জানিয়েছেন, রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল বাঁধনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। অভিনেত্রী বাঁধন স্থানীয় পুলিশ ও দূতাবাসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবেন। এরপর দূতাবাস বিষয়টি ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরবে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

এর আগে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী এবং এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাটি উত্থাপন করেন এবং এ বিষয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, অভিনেত্রী আজমিরী হক বাঁধন ইতালিতে আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ভিডিও দেখে আক্রমণকারীদের ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা গেছে। তিনি যখন বিষয়টি নিয়ে কথা বলছিলেন, তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা দুই প্রতিমন্ত্রীর কেউ সংসদকক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। জহরত আদিবের বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত অমার্জনীয়, নিন্দনীয় অপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং নির্মমতার চরম বহিঃপ্রকাশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্ট কেউ সে সময় সংসদে না থাকায় তিনি জানান, প্রতিমন্ত্রী সংসদে এলে তাঁর বক্তব্য শোনা হবে।

পরে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন পয়েন্ট অব অর্ডারে বলেন, দেশের একজন অতি পরিচিত অভিনেত্রীর ওপর বিদেশে পলাতক আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা বর্বর হামলা চালিয়েছে। বাঁধন জুলাই বিপ্লবে অংশ নিয়েছিলেন, হামলাকারীরা সেটাকেই তাঁর অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জাতিসংঘের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময়ও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান।

জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা মানে এই দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা। ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে পার্কে হাঁটার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীরা বাঁধনের ওপর এই কাপুরুষোচিত হামলা চালায়। প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি আজ সকালে পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ইতালির পুলিশ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি দ্রুত অবহিত করা হয় এবং বাঁধনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হয়।

হুমায়ুন কবির সংসদকে আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আজ বিকেলে তিনি নিজে বাঁধনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ ইতিমধ্যে এই ঘটনার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল বাঁধনকে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা ও সহযোগিতা দিচ্ছে। বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে কোনোভাবেই পিছপা হবে না বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আজ বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গর্বের দিন। কারণ, বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতি এখন সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ এখন আর কোনো দেশের দাসত্ব বা গোলামি করবে না এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলবে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এই বিষয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ ও অগ্রগতির বিষয়ে আগামীতে সংসদকে অবহিত করার নির্দেশ দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারকে ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকার লভ্যাংশ দিল গ্রামীণ ব্যাংক

ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলা: সংসদে ক্ষোভ, কড়া ব্যবস্থার আশ্বাস

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাকে দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা হিসেবে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। জাতীয় সংসদকে তিনি জানিয়েছেন, রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল বাঁধনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। অভিনেত্রী বাঁধন স্থানীয় পুলিশ ও দূতাবাসে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করবেন। এরপর দূতাবাস বিষয়টি ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরবে। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

এর আগে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী এবং এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ইতালিতে বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাটি উত্থাপন করেন এবং এ বিষয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান। জহরত আদিব চৌধুরী বলেন, অভিনেত্রী আজমিরী হক বাঁধন ইতালিতে আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ভিডিও দেখে আক্রমণকারীদের ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা গেছে। তিনি যখন বিষয়টি নিয়ে কথা বলছিলেন, তখন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা দুই প্রতিমন্ত্রীর কেউ সংসদকক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। জহরত আদিবের বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত অমার্জনীয়, নিন্দনীয় অপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ এবং নির্মমতার চরম বহিঃপ্রকাশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্ট কেউ সে সময় সংসদে না থাকায় তিনি জানান, প্রতিমন্ত্রী সংসদে এলে তাঁর বক্তব্য শোনা হবে।

পরে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন পয়েন্ট অব অর্ডারে বলেন, দেশের একজন অতি পরিচিত অভিনেত্রীর ওপর বিদেশে পলাতক আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা বর্বর হামলা চালিয়েছে। বাঁধন জুলাই বিপ্লবে অংশ নিয়েছিলেন, হামলাকারীরা সেটাকেই তাঁর অপরাধ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জাতিসংঘের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময়ও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে তিনি হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান।

জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, একজন জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা মানে এই দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা। ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে পার্কে হাঁটার সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীরা বাঁধনের ওপর এই কাপুরুষোচিত হামলা চালায়। প্রতিমন্ত্রী জানান, তিনি আজ সকালে পররাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন এবং উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে ইতালির পুলিশ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি দ্রুত অবহিত করা হয় এবং বাঁধনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেওয়া হয়।

হুমায়ুন কবির সংসদকে আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আজ বিকেলে তিনি নিজে বাঁধনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ ইতিমধ্যে এই ঘটনার বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। রোমে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিলানে বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল বাঁধনকে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা ও সহযোগিতা দিচ্ছে। বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার এই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে কোনোভাবেই পিছপা হবে না বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আজ বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গর্বের দিন। কারণ, বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতি এখন সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশ এখন আর কোনো দেশের দাসত্ব বা গোলামি করবে না এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলবে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এই বিষয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ ও অগ্রগতির বিষয়ে আগামীতে সংসদকে অবহিত করার নির্দেশ দেন।