লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নড়াইলে রাজনৈতিক সংঘর্ষে যুবদল কর্মী নিহত, আহত ৭

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় মিরচাঁন সরদার (৩৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। নিহত মিরচাঁন ওই গ্রামের মৃত লোকমান সরদারের ছেলে।

স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় কোটাকোল ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আজমল মুন্সি ও বর্তমান ইউপি সদস্য কালাম মুন্সি সমর্থিত একটি গ্রুপ এবং কোটাকোল ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল মোল্যা এবং হিরাঙ্গীর মোল্যার নেতৃত্বাধীন আরেকটি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধ চলছিল।

ইউপি সদস্য কালাম মুন্সির অভিযোগ, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মিরচাঁন বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় শহিদুল মোল্যা ও হিরাঙ্গীর মোল্যার নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একটি সশস্ত্র দল তার ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মিরচাঁন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মাদারীপুরের পাঁচচর এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

একই ঘটনায় সালাম মুন্সি নামে আরেক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে খাজা সরদার, সিয়ামিন সরদার ও সারফিনা বেগমসহ উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন, যারা লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে হামলার অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল মোল্যার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর মাটিয়াডাঙ্গা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশি অভিযান চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে ভারতের সাথে ইতিবাচক আলোচনা

নড়াইলে রাজনৈতিক সংঘর্ষে যুবদল কর্মী নিহত, আহত ৭

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:০১:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় মিরচাঁন সরদার (৩৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। নিহত মিরচাঁন ওই গ্রামের মৃত লোকমান সরদারের ছেলে।

স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় কোটাকোল ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি আজমল মুন্সি ও বর্তমান ইউপি সদস্য কালাম মুন্সি সমর্থিত একটি গ্রুপ এবং কোটাকোল ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল মোল্যা এবং হিরাঙ্গীর মোল্যার নেতৃত্বাধীন আরেকটি গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে বিরোধ চলছিল।

ইউপি সদস্য কালাম মুন্সির অভিযোগ, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে মিরচাঁন বাড়ির দিকে যাওয়ার সময় শহিদুল মোল্যা ও হিরাঙ্গীর মোল্যার নেতৃত্বে ৫০-৬০ জনের একটি সশস্ত্র দল তার ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মিরচাঁন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মাদারীপুরের পাঁচচর এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

একই ঘটনায় সালাম মুন্সি নামে আরেক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষে খাজা সরদার, সিয়ামিন সরদার ও সারফিনা বেগমসহ উভয় পক্ষের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন, যারা লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে হামলার অভিযোগের বিষয়ে সাবেক ইউপি সদস্য শহিদুল মোল্যার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর মাটিয়াডাঙ্গা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশি অভিযান চলছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।