লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদে ব্যাংক রেজোল্যুশন বিল পাস, বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিল

জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। এই সংশোধনীর মাধ্যমে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ১৮(ক) ধারাটি বাতিল করা হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিলটির ওপর তাদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছিল।

বাতিল হওয়া ১৮(ক) ধারাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা চলছিল। এই ধারার সুযোগ নিয়ে রেজোল্যুশনের আওতায় আসা কোনো ব্যাংকের সাবেক ও বিতর্কিত পরিচালক এবং শেয়ারহোল্ডাররা পুনরায় সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায়ের মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেতে পারতেন। বিশেষ করে পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এই ধারাটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। তখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সাবেক বিতর্কিত পরিচালকরা আবারও মালিকানায় ফিরে আসতে পারেন বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

বিলটি পাসের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বলেন, ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারায় নির্ধারিত কঠোর নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এগিয়ে আসেননি। তাই সরকার এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত সংকটে পড়া তফসিলি ব্যাংকগুলো পুনর্গঠনের জন্য একটি বাজারভিত্তিক বিকল্প কাঠামো দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই ধারাটি আইনে যুক্ত করা হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট মোকাবিলা করা, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন না করে সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ কমানো।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ব্যাংক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কেবল যোগ্য ও সক্ষম ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই ধারায় দুই পৃষ্ঠা জুড়ে অত্যন্ত কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছিল। তবে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে কোনো শেয়ারহোল্ডার, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ওই সব শর্ত পূরণ করতে পারেনি। ফলে ধারাটির মূল উদ্দেশ্য বাস্তবে অর্জিত না হওয়ায় এবং এখন পর্যন্ত কেউ আবেদন না করায় এটি বাতিল করা সমীচীন বলে মনে করেছে সরকার।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মূল ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশে এই বিতর্কিত ধারাটি ছিল না। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাদেশটি সংশোধন ও অনুমোদনের সময় ১৮(ক) ধারাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ধারাটির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশন প্রক্রিয়ার অধীনে যাওয়ার আগে ওই ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা পুনরায় শেয়ার, সম্পদ ও দায় অধিগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারতেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এই সুযোগ দিতে পারত। বিলটি পাসের সময় অর্থমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের আইন প্রণয়নের মূল কাজের প্রতি কঠোরভাবে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সংসদের শৃঙ্খলা ও কার্যক্রমের উদ্দেশ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের উপসর্গে আরও ৭ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৯ জন

সংসদে ব্যাংক রেজোল্যুশন বিল পাস, বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা বাতিল

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’। এই সংশোধনীর মাধ্যমে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ১৮(ক) ধারাটি বাতিল করা হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বিলটির ওপর তাদের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছিল।

বাতিল হওয়া ১৮(ক) ধারাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা চলছিল। এই ধারার সুযোগ নিয়ে রেজোল্যুশনের আওতায় আসা কোনো ব্যাংকের সাবেক ও বিতর্কিত পরিচালক এবং শেয়ারহোল্ডাররা পুনরায় সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায়ের মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেতে পারতেন। বিশেষ করে পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এই ধারাটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। তখন সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর সাবেক বিতর্কিত পরিচালকরা আবারও মালিকানায় ফিরে আসতে পারেন বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

বিলটি পাসের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে বলেন, ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারায় নির্ধারিত কঠোর নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণ করে কোনো ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এগিয়ে আসেননি। তাই সরকার এটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত সংকটে পড়া তফসিলি ব্যাংকগুলো পুনর্গঠনের জন্য একটি বাজারভিত্তিক বিকল্প কাঠামো দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই ধারাটি আইনে যুক্ত করা হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি ও তারল্য সংকট মোকাবিলা করা, আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়ন না করে সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ কমানো।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, ব্যাংক পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় কেবল যোগ্য ও সক্ষম ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এই ধারায় দুই পৃষ্ঠা জুড়ে অত্যন্ত কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছিল। তবে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে কোনো শেয়ারহোল্ডার, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ওই সব শর্ত পূরণ করতে পারেনি। ফলে ধারাটির মূল উদ্দেশ্য বাস্তবে অর্জিত না হওয়ায় এবং এখন পর্যন্ত কেউ আবেদন না করায় এটি বাতিল করা সমীচীন বলে মনে করেছে সরকার।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মূল ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশে এই বিতর্কিত ধারাটি ছিল না। পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাদেশটি সংশোধন ও অনুমোদনের সময় ১৮(ক) ধারাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ধারাটির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশন প্রক্রিয়ার অধীনে যাওয়ার আগে ওই ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডাররা পুনরায় শেয়ার, সম্পদ ও দায় অধিগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন করতে পারতেন। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এই সুযোগ দিতে পারত। বিলটি পাসের সময় অর্থমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের আইন প্রণয়নের মূল কাজের প্রতি কঠোরভাবে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং সংসদের শৃঙ্খলা ও কার্যক্রমের উদ্দেশ্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।