লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুয়েতের উপহারের অবিক্রীত ১৫ টন চিংড়ি ও রূপচাঁদা আবার নিলামে

কুয়েত সরকারকে উপহার হিসেবে দেওয়ার জন্য সরকারি উদ্যোগে কেনা উচ্চমানের ২০ টন মাছের মধ্যে অবিক্রীত ১৫ টন মাছ বিক্রির জন্য পুনরায় নিলামের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এর আগে প্রথম দফায় ডাকা নিলামে পুরোপুরি সাড়া না মেলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে আগ্রহী ক্রেতাদের দরপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।

গত এপ্রিল মাসে কুয়েত সরকারকে উপহার পাঠানোর জন্য মোট ২০ টন মাছ কেনা হয়েছিল। যার মধ্যে ছিল ১০ টন গলদা চিংড়ি, ৫ টন বাগদা চিংড়ি ও ৫ টন রূপচাঁদা। তবে ফ্লাইট-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এই মাছগুলো কুয়েতে পাঠানো সম্ভব হয়নি। কুয়েত সরকার উপহারের চাল নিলেও পচনশীল পণ্য হওয়ায় বাণিজ্যিক ফ্লাইটে মাছ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর প্রায় পাঁচ মাস অপেক্ষায় থাকার পর গত ১৮ আগস্ট দেশের বাজারে এই মাছ বিক্রির জন্য প্রথমবার নিলাম ডেকেছিল টিসিবি। সেই নিলামে খুলনার একটি প্রতিষ্ঠান ৫ টন বাগদা চিংড়ি কিনে নিলেও বাকি ১৫ টন মাছ অবিক্রীত থেকে যায়।

বর্তমানে খুলনার বটিয়াঘাটার ভান্ডারকোটের ট্রাস্ট সি-ফুড眼前 ইন্ডাস্ট্রিজের প্রসেসিং প্ল্যান্টে এই মাছগুলো সংরক্ষিত রয়েছে। অবিক্রীত মাছের মধ্যে রয়েছে ১০ টন গলদা চিংড়ি ও ৫ টন রূপচাঁদা। আগ্রহী ক্রেতারা আগামী ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত খুলনার ভান্ডারকোটে জিটিএস সি-ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রসেসিং প্ল্যান্টে গিয়ে মাছের নমুনা দেখে দর প্রস্তাব করতে পারবেন। এছাড়া ঢাকার ক্রেতাদের সুবিধার্থে খুলনা থেকে কিছু মাছের নমুনা ঢাকায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে টিসিবি।

টিসিবির শর্ত অনুযায়ী, নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ন্যূনতম ৫০০ কেজি মাছের জন্য দর প্রস্তাব করতে হবে। গলদা চিংড়ি ও রূপচাঁদার জন্য পৃথক দরপত্র ও জামানত জমা দিতে হবে। ঢাকার টিসিবির প্রধান কার্যালয় ছাড়াও খুলনা ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কার্যালয়ে এই দরপত্র জমা দেওয়া যাবে। দরপত্রের সঙ্গে টিসিবির অনুকূলে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য জামানত হিসেবে পে-অর্ডার দিতে হবে। প্রস্তাবিত মাছের পরিমাণ বাড়লে আনুপাতিক হারে জামানতের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। দরদাতাদের নিজস্ব প্যাডে মাছের ধরন, পরিমাণ, প্রতি কেজির দর, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল এবং ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।

নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। বিজয়ী ক্রেতাকে বিধি অনুযায়ী মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। দরপত্র অনুমোদনের তিন কার্যদিবসের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং অর্থ পরিশোধের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নিজস্ব খরচে মাছ সংগ্রহ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে মাছ না নিলে নিলাম বাতিল হতে পারে এবং দেরি হলে প্রতিদিনের জন্য সংরক্ষণাগারের ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। প্রয়োজনীয় জামানত না দিলে দরপত্র বাতিল হবে এবং অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। টিসিবির মুখপাত্র ও উপপরিচালক শাহাদত হোসেন জানান, ৫ টন বাগদা চিংড়ি ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে এবং বাকি মাছগুলো এই দফায় বিক্রি হয়ে যাবে বলে তারা আশা করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়েতের উপহারের অবিক্রীত ১৫ টন চিংড়ি ও রূপচাঁদা আবার নিলামে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০২:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুয়েত সরকারকে উপহার হিসেবে দেওয়ার জন্য সরকারি উদ্যোগে কেনা উচ্চমানের ২০ টন মাছের মধ্যে অবিক্রীত ১৫ টন মাছ বিক্রির জন্য পুনরায় নিলামের উদ্যোগ নিয়েছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এর আগে প্রথম দফায় ডাকা নিলামে পুরোপুরি সাড়া না মেলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার মধ্যে আগ্রহী ক্রেতাদের দরপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।

গত এপ্রিল মাসে কুয়েত সরকারকে উপহার পাঠানোর জন্য মোট ২০ টন মাছ কেনা হয়েছিল। যার মধ্যে ছিল ১০ টন গলদা চিংড়ি, ৫ টন বাগদা চিংড়ি ও ৫ টন রূপচাঁদা। তবে ফ্লাইট-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এই মাছগুলো কুয়েতে পাঠানো সম্ভব হয়নি। কুয়েত সরকার উপহারের চাল নিলেও পচনশীল পণ্য হওয়ায় বাণিজ্যিক ফ্লাইটে মাছ নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর প্রায় পাঁচ মাস অপেক্ষায় থাকার পর গত ১৮ আগস্ট দেশের বাজারে এই মাছ বিক্রির জন্য প্রথমবার নিলাম ডেকেছিল টিসিবি। সেই নিলামে খুলনার একটি প্রতিষ্ঠান ৫ টন বাগদা চিংড়ি কিনে নিলেও বাকি ১৫ টন মাছ অবিক্রীত থেকে যায়।

বর্তমানে খুলনার বটিয়াঘাটার ভান্ডারকোটের ট্রাস্ট সি-ফুড眼前 ইন্ডাস্ট্রিজের প্রসেসিং প্ল্যান্টে এই মাছগুলো সংরক্ষিত রয়েছে। অবিক্রীত মাছের মধ্যে রয়েছে ১০ টন গলদা চিংড়ি ও ৫ টন রূপচাঁদা। আগ্রহী ক্রেতারা আগামী ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত খুলনার ভান্ডারকোটে জিটিএস সি-ফুড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রসেসিং প্ল্যান্টে গিয়ে মাছের নমুনা দেখে দর প্রস্তাব করতে পারবেন। এছাড়া ঢাকার ক্রেতাদের সুবিধার্থে খুলনা থেকে কিছু মাছের নমুনা ঢাকায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে টিসিবি।

টিসিবির শর্ত অনুযায়ী, নিলামে অংশ নিতে আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ন্যূনতম ৫০০ কেজি মাছের জন্য দর প্রস্তাব করতে হবে। গলদা চিংড়ি ও রূপচাঁদার জন্য পৃথক দরপত্র ও জামানত জমা দিতে হবে। ঢাকার টিসিবির প্রধান কার্যালয় ছাড়াও খুলনা ও চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কার্যালয়ে এই দরপত্র জমা দেওয়া যাবে। দরপত্রের সঙ্গে টিসিবির অনুকূলে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার টাকা ফেরতযোগ্য জামানত হিসেবে পে-অর্ডার দিতে হবে। প্রস্তাবিত মাছের পরিমাণ বাড়লে আনুপাতিক হারে জামানতের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। দরদাতাদের নিজস্ব প্যাডে মাছের ধরন, পরিমাণ, প্রতি কেজির দর, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল এবং ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।

নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। বিজয়ী ক্রেতাকে বিধি অনুযায়ী মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে। দরপত্র অনুমোদনের তিন কার্যদিবসের মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে এবং অর্থ পরিশোধের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নিজস্ব খরচে মাছ সংগ্রহ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে মাছ না নিলে নিলাম বাতিল হতে পারে এবং দেরি হলে প্রতিদিনের জন্য সংরক্ষণাগারের ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। প্রয়োজনীয় জামানত না দিলে দরপত্র বাতিল হবে এবং অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে। টিসিবির মুখপাত্র ও উপপরিচালক শাহাদত হোসেন জানান, ৫ টন বাগদা চিংড়ি ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে এবং বাকি মাছগুলো এই দফায় বিক্রি হয়ে যাবে বলে তারা আশা করছেন।