লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকার অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে ৮ জোনে ভাগ করে নতুন নীতিমালা

রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়ানো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এখন নগরবাসীর জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেপরোয়া গতি, সিগন্যাল অমান্য করা এবং উল্টোপথে চলাচলের কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এমনকি ভিআইপি সড়কে ট্রাফিক পুলিশের সামনে দিয়েই এসব রিকশা চলাচল করে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে চার্জ করার ফলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্বও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ট্রাফিক বিভাগ, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের কাছে এই যানবাহনগুলো এখন একটি বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে।

গত দুই বছরে রাজধানীতে অটোরিকশার সংখ্যা গাণিতিক হারে বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব রিকশার বিস্তার ঘটেছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই সরকারদলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগে এসব রিকশা প্রধান সড়কে দাপট দেখাতে শুরু করে। অথচ এর আগে ট্রাফিক সার্জেন্টরা মূল সড়কে এসব রিকশা দেখলেই বড় অঙ্কের জরিমানা করতেন। বর্তমানে ঢাকা শহরে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ লাখের বেশি আনরেজিস্ট্রার্ড অটোরিকশা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই বিশৃঙ্খলা নিরসনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং সিটি করপোরেশন দফায় দফায় বৈঠক করলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমন্বয়ের অভাবে কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি। তবে এবার সরকার বিপজ্জনক এসব যানবাহনের লাগাম টানতে কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো ঢাকা শহরকে ৮টি ভৌগোলিক জোনে ভাগ করা হবে। প্রতিটি জোনের রিকশার জন্য আলাদা রং এবং ডিজিটাল নম্বর প্লেট ও কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হবে। এক জোনের নিবন্ধিত রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না। সীমানা অতিক্রম করলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, সরকার দ্রুতই এই নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে, যেখানে যানবাহনের মান, কারিগরি সক্ষমতা এবং চালকদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম মানবজমিনকে জানান, ঢাকার বাইরে থেকে আসা কোনো অটোরিকশা এখানে চলতে পারবে না। এছাড়া অটোরিকশার জন্য আলাদা কারখানার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যা বুয়েটের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হবে এবং এরপর সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। এছাড়া অবৈধ চার্জিং স্টেশন বন্ধ করে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহায়তায় পরিবেশবান্ধব সোলার চার্জিং হাব স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।

জনপ্রিয় সংবাদ

যে চার জিকিরে বান্দার গুনাহ ঝরে পড়ার বার্তা হাদিসে

ঢাকার অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে ৮ জোনে ভাগ করে নতুন নীতিমালা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩২:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়ানো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এখন নগরবাসীর জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেপরোয়া গতি, সিগন্যাল অমান্য করা এবং উল্টোপথে চলাচলের কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। এমনকি ভিআইপি সড়কে ট্রাফিক পুলিশের সামনে দিয়েই এসব রিকশা চলাচল করে। অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে চার্জ করার ফলে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্বও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ট্রাফিক বিভাগ, যাত্রী ও সাধারণ মানুষের কাছে এই যানবাহনগুলো এখন একটি বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছে।

গত দুই বছরে রাজধানীতে অটোরিকশার সংখ্যা গাণিতিক হারে বেড়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব রিকশার বিস্তার ঘটেছে এবং এর সঙ্গে জড়িতদের অনেকেই সরকারদলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অতীতে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগে এসব রিকশা প্রধান সড়কে দাপট দেখাতে শুরু করে। অথচ এর আগে ট্রাফিক সার্জেন্টরা মূল সড়কে এসব রিকশা দেখলেই বড় অঙ্কের জরিমানা করতেন। বর্তমানে ঢাকা শহরে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ লাখের বেশি আনরেজিস্ট্রার্ড অটোরিকশা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই বিশৃঙ্খলা নিরসনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং সিটি করপোরেশন দফায় দফায় বৈঠক করলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমন্বয়ের অভাবে কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি। তবে এবার সরকার বিপজ্জনক এসব যানবাহনের লাগাম টানতে কঠোর নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো ঢাকা শহরকে ৮টি ভৌগোলিক জোনে ভাগ করা হবে। প্রতিটি জোনের রিকশার জন্য আলাদা রং এবং ডিজিটাল নম্বর প্লেট ও কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হবে। এক জোনের নিবন্ধিত রিকশা অন্য জোনে প্রবেশ করতে পারবে না। সীমানা অতিক্রম করলেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, সরকার দ্রুতই এই নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে, যেখানে যানবাহনের মান, কারিগরি সক্ষমতা এবং চালকদের প্রশিক্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম মানবজমিনকে জানান, ঢাকার বাইরে থেকে আসা কোনো অটোরিকশা এখানে চলতে পারবে না। এছাড়া অটোরিকশার জন্য আলাদা কারখানার ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যা বুয়েটের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হবে এবং এরপর সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। এছাড়া অবৈধ চার্জিং স্টেশন বন্ধ করে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহায়তায় পরিবেশবান্ধব সোলার চার্জিং হাব স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।