লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেতাগীতে সরকারি জমি দখল করে তোলা বিএনপি নেতার দোকান গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

বরগুনার বেতাগী পৌর শহরে সরকারি জমি দখল করে রাতের আঁধারে গড়ে তোলা দুটি অবৈধ দোকানঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় অবৈধ ঘর নির্মাণকাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই শ্রমিককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত অর্থদণ্ড দিয়েছে।

অভিযান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেতাগী পৌর শহরের সদর রোডের সাকিব মেডিকেল হল ও বণিক পট্টির শ্রী গুরু জেনারেল স্টোর সংলগ্ন সরকারি জমিটি দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে ছিল। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক নেছার উদ্দিন খানের নেতৃত্বে একদল লোক বৃহস্পতিবার রাতের আঁধারে ওই জমিতে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করেন। খবর পেয়ে ওই রাতেই আনুমানিক ২টার দিকে ঘটনাস্থলে যান ইউএনও মুহ. সাদ্দাম হোসেন। তখন সরকারি জায়গা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা অমান্য করে কাজ চালিয়ে যান। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মো. রুবেল হাওলাদার ও জামাল হাওলাদার নামের দুই নির্মাণ শ্রমিককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পরদিন শুক্রবার দুপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। ঘর তোলার মাত্র ১০ ঘণ্টার মাথায় দোকান দুটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সাথে আটক দুই শ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা করে মোট ৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহীন বলেন, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিএনপি নেতা পরিচয়ে রাতের আঁধারে নেছার খানের নেতৃত্বে এই ঘর তোলা হয়েছিল। তিনি দলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছেন এবং তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ প্রশাসনের নজরে রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাও নেছার খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। তারা জানান, এর আগে নেছার খানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে মানববন্ধনও হয়েছে। চাঁদাবাজির মামলা থাকার পরও দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের পশ্চিম করুণা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন এবং উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে চলাফেরা করছেন।

নেছার খানের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শাহজাহান কবির বলেন, এখানে কোনো অবৈধ দখলবাজ ও লুটেরার জায়গা নেই। এ ধরনের অপকর্মে জড়িতদের আমরা দলের লোক মনে করি না এবং তাদের সাথে কোনো আপস নেই। যেহেতু সে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ঘর তুলেছে, তাই সে দলের কেউ হতে পারে না। তিনি আরও জানান, জাতীয় সংসদের মাননীয় চিফ হুইপের নির্দেশেই ইতোমধ্যে অবৈধ দোকানঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং এখন তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানাচ্ছি।

উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. সাদ্দাম হোসেন জানান, পৌর এলাকায় নিজস্ব জমিতে কোনো স্থাপনা তৈরি করতে গেলেও পৌরসভার অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু গভীর রাতে কিছু লোক বাজারের সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করছিল। খবর পেয়ে রাতেই অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় অবৈধ দোকানঘরগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য বন্ধে ভারতকে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ

বেতাগীতে সরকারি জমি দখল করে তোলা বিএনপি নেতার দোকান গুঁড়িয়ে দিল প্রশাসন

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

বরগুনার বেতাগী পৌর শহরে সরকারি জমি দখল করে রাতের আঁধারে গড়ে তোলা দুটি অবৈধ দোকানঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) দুপুরে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় অবৈধ ঘর নির্মাণকাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই শ্রমিককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত অর্থদণ্ড দিয়েছে।

অভিযান ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেতাগী পৌর শহরের সদর রোডের সাকিব মেডিকেল হল ও বণিক পট্টির শ্রী গুরু জেনারেল স্টোর সংলগ্ন সরকারি জমিটি দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে ছিল। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ও বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক নেছার উদ্দিন খানের নেতৃত্বে একদল লোক বৃহস্পতিবার রাতের আঁধারে ওই জমিতে দুটি দোকানঘর নির্মাণ করেন। খবর পেয়ে ওই রাতেই আনুমানিক ২টার দিকে ঘটনাস্থলে যান ইউএনও মুহ. সাদ্দাম হোসেন। তখন সরকারি জায়গা ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও তারা তা অমান্য করে কাজ চালিয়ে যান। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে মো. রুবেল হাওলাদার ও জামাল হাওলাদার নামের দুই নির্মাণ শ্রমিককে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পরদিন শুক্রবার দুপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। ঘর তোলার মাত্র ১০ ঘণ্টার মাথায় দোকান দুটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সাথে আটক দুই শ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা করে মোট ৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। বেতাগী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহীন বলেন, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিএনপি নেতা পরিচয়ে রাতের আঁধারে নেছার খানের নেতৃত্বে এই ঘর তোলা হয়েছিল। তিনি দলের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছেন এবং তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ প্রশাসনের নজরে রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতাও নেছার খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছেন। তারা জানান, এর আগে নেছার খানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে মানববন্ধনও হয়েছে। চাঁদাবাজির মামলা থাকার পরও দলীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের পশ্চিম করুণা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনোনীত হয়েছেন এবং উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি পরিচয় দিয়ে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে চলাফেরা করছেন।

নেছার খানের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. শাহজাহান কবির বলেন, এখানে কোনো অবৈধ দখলবাজ ও লুটেরার জায়গা নেই। এ ধরনের অপকর্মে জড়িতদের আমরা দলের লোক মনে করি না এবং তাদের সাথে কোনো আপস নেই। যেহেতু সে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ঘর তুলেছে, তাই সে দলের কেউ হতে পারে না। তিনি আরও জানান, জাতীয় সংসদের মাননীয় চিফ হুইপের নির্দেশেই ইতোমধ্যে অবৈধ দোকানঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং এখন তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করার দাবি জানাচ্ছি।

উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহ. সাদ্দাম হোসেন জানান, পৌর এলাকায় নিজস্ব জমিতে কোনো স্থাপনা তৈরি করতে গেলেও পৌরসভার অনুমতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু গভীর রাতে কিছু লোক বাজারের সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে দোকান নির্মাণ করছিল। খবর পেয়ে রাতেই অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় অবৈধ দোকানঘরগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে।