লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোমে চরম ভোগান্তি শেষে ঢাকায় ফিরল বিমানের ২৫৯ যাত্রী

রোমে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘ প্রায় ৪০ ঘণ্টা চরম ভোগান্তি পোহানোর পর অবশেষে ২৫৯ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৩০৬। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানের বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তবে দেশে ফেরার আনন্দের বদলে যাত্রীদের দীর্ঘ এ সফর রূপ নিয়েছিল চরম অনিশ্চয়তা, ক্লান্তি আর ক্ষোভে।

গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ১৮ মিনিটে কানাডার টরন্টোর পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ফ্লাইটটি। রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে রিফুয়েলিংয়ের জন্য জরুরি অবতরণের পর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর প্রায় ৮ ঘণ্টা যাত্রীদের বিমানের ভেতরেই বসিয়ে রাখা হয়, যার মধ্যে এসিও বন্ধ ছিল। প্রথমে ১৫-২০ মিনিটে ত্রুটি সারানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পর শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।

বিমান থেকে নামার পর শুরু হয় ভোগান্তির আরেক অধ্যায়। ফ্লাইটের ২৫৯ জন যাত্রীর মধ্যে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারীদের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হলেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী প্রায় ১৭৪ জনকে থাকতে হয় বিমানবন্দরের লাউঞ্জে। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আনিকা তাসনিম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চেয়ারে বসেই তাদের ৪০ ঘণ্টা কেটে গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশিদের অন-অার্ভাল ভিসা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতিতে সেই সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি।

আরেক যাত্রী সাবিনা রহমান তার চার মাসের শিশু সন্তানকে নিয়ে একা ভ্রমণ করছিলেন। শাহজালাল বিমানবন্দরে নেমে তিনি জানান, পুরো সময়টা তাকে নির্ঘুম কাটাতে হয়েছে। ঘুমানোর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনেক যাত্রীকে মেঝেতেই রাত কাটাতে হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ৯৬ ঘণ্টার ভোগান্তি শেষে দেশে ফেরা আরাফাত হোসেন প্রশ্ন তোলেন, "আমাদের বাংলাদেশি পাসপোর্টের কি কোনো দাম নেই?" তিনি জানান, বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীরা বিমান ও বিমানবন্দরের ভেতরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাদের প্রাথমিক চিকিৎসাও নিতে হয়েছে। বিমান থেকে নামার পর প্রায় ৬ ঘণ্টা কোনো স্টাফের দেখাও মেলেনি।

এদিকে ঢাকায় অপেক্ষমাণ স্বজনদেরও চরম উৎকণ্ঠায় দিন কেটেছে। গুলশানের বাসিন্দা শেখ বখতিয়ার হোসেন তার ছেলে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক মেহরাব বিন বখতিয়ারের অপেক্ষায় বিমানবন্দরে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বিমানের অব্যবস্থাপনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের পতাকাবাহী সংস্থার এমন অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অন্য কোনো এয়ারলাইন্স হলে বিশেষ বিমান পাঠিয়ে যাত্রীদের নিয়ে আসত।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানান, স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টায় (বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৩টা) বিজি-৩০৬ ফ্লাইটটি রোম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। ঢাকা থেকে বিমানের প্রকৌশলী দল পাঠিয়ে উড়োজাহাজটি মেরামত করার পর এটি উড্ডয়ন করে। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, ইতালিতে বিমান মেরামতের জন্য যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করা হয়েছিল, তারা প্রত্যাশিত সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রয়োজনীয় পার্টস সরবরাহ করতে না পারায় রোমে ফ্লাইটটি গ্রাউন্ডেড থাকে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতা

রোমে চরম ভোগান্তি শেষে ঢাকায় ফিরল বিমানের ২৫৯ যাত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

রোমে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘ প্রায় ৪০ ঘণ্টা চরম ভোগান্তি পোহানোর পর অবশেষে ২৫৯ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় ফিরেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৩০৬। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানের বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তবে দেশে ফেরার আনন্দের বদলে যাত্রীদের দীর্ঘ এ সফর রূপ নিয়েছিল চরম অনিশ্চয়তা, ক্লান্তি আর ক্ষোভে।

গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ১৮ মিনিটে কানাডার টরন্টোর পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ফ্লাইটটি। রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে রিফুয়েলিংয়ের জন্য জরুরি অবতরণের পর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। এরপর প্রায় ৮ ঘণ্টা যাত্রীদের বিমানের ভেতরেই বসিয়ে রাখা হয়, যার মধ্যে এসিও বন্ধ ছিল। প্রথমে ১৫-২০ মিনিটে ত্রুটি সারানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও দীর্ঘ সময় পর শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়।

বিমান থেকে নামার পর শুরু হয় ভোগান্তির আরেক অধ্যায়। ফ্লাইটের ২৫৯ জন যাত্রীর মধ্যে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারীদের হোটেলে নিয়ে যাওয়া হলেও বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী প্রায় ১৭৪ জনকে থাকতে হয় বিমানবন্দরের লাউঞ্জে। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আনিকা তাসনিম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, চেয়ারে বসেই তাদের ৪০ ঘণ্টা কেটে গেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশিদের অন-অার্ভাল ভিসা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতিতে সেই সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি।

আরেক যাত্রী সাবিনা রহমান তার চার মাসের শিশু সন্তানকে নিয়ে একা ভ্রমণ করছিলেন। শাহজালাল বিমানবন্দরে নেমে তিনি জানান, পুরো সময়টা তাকে নির্ঘুম কাটাতে হয়েছে। ঘুমানোর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনেক যাত্রীকে মেঝেতেই রাত কাটাতে হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ৯৬ ঘণ্টার ভোগান্তি শেষে দেশে ফেরা আরাফাত হোসেন প্রশ্ন তোলেন, "আমাদের বাংলাদেশি পাসপোর্টের কি কোনো দাম নেই?" তিনি জানান, বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীরা বিমান ও বিমানবন্দরের ভেতরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাদের প্রাথমিক চিকিৎসাও নিতে হয়েছে। বিমান থেকে নামার পর প্রায় ৬ ঘণ্টা কোনো স্টাফের দেখাও মেলেনি।

এদিকে ঢাকায় অপেক্ষমাণ স্বজনদেরও চরম উৎকণ্ঠায় দিন কেটেছে। গুলশানের বাসিন্দা শেখ বখতিয়ার হোসেন তার ছেলে ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক মেহরাব বিন বখতিয়ারের অপেক্ষায় বিমানবন্দরে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বিমানের অব্যবস্থাপনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশের পতাকাবাহী সংস্থার এমন অবস্থা কোনোভাবেই কাম্য নয়। অন্য কোনো এয়ারলাইন্স হলে বিশেষ বিমান পাঠিয়ে যাত্রীদের নিয়ে আসত।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানান, স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১১টায় (বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৩টা) বিজি-৩০৬ ফ্লাইটটি রোম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। ঢাকা থেকে বিমানের প্রকৌশলী দল পাঠিয়ে উড়োজাহাজটি মেরামত করার পর এটি উড্ডয়ন করে। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, ইতালিতে বিমান মেরামতের জন্য যে প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) করা হয়েছিল, তারা প্রত্যাশিত সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রয়োজনীয় পার্টস সরবরাহ করতে না পারায় রোমে ফ্লাইটটি গ্রাউন্ডেড থাকে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।