লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের গুঞ্জনে বিএনপিতে দৌড়ঝাঁপ ও অস্থিরতা

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এর ঠিক চার দিন পর, ২০ আগস্ট, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০ বা ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন। দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির শপথ নেওয়ার পরপরই বর্তমান মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল আনা হতে পারে। এই সম্ভাবনাকে ঘিরে বিএনপির সর্বস্তরে চলছে জোর আলোচনা ও গুঞ্জন।

মন্ত্রিসভায় নতুন করে স্থান পেতে আগ্রহীদের মধ্যে যেমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তেমনি বাদ পড়ার আশঙ্কায় থাকা বর্তমান মন্ত্রীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা, সিনিয়র মন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ করছেন। নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশায় অনেকে দলের জন্য বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ত্যাগ ও ভূমিকার কথা তুলে ধরছেন। এমনকি কেউ কেউ বর্তমান মন্ত্রীদের অতীত কাজের সমালোচনাও করছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থর নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া টেকনোক্রেট কোটায় ড. আসাদুজ্জামান রিপন মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। বিগত ছয় মাসে পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হওয়া এবং বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সিনিয়র নেতাদের পরামর্শকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার আগে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য, সংসদের সব হুইপ এবং বেশ কয়েকজন যুগ্ম মহাসচিবের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী পদটি বর্তমানে খালি রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন রয়েছে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তিনি যদি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান, তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তবে এ্যানি এ ধরনের খবরের বিষয়ে বিব্রতবোধ প্রকাশ করেছেন।

মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, বেশ কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে দু-একজন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স ভালো হওয়ায় তারা পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি পেতে পারেন। এছাড়া সংসদ সদস্য, বিএনপি ও সমমনা দলের নেতাদের মধ্য থেকে টেকনোক্রেট কোটায় নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে লুৎফুজ্জামান বাবর, শামসুজ্জামান দুদু, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিব উন নবী খান সোহেলের মতো নেতাদের নাম আলোচনায় রয়েছে।

সংসদ উপনেতা পদটি নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ১৯৯১ সালে ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং ২০০১ সালে বা ২০০৮ সালে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার কারণে যেভাবে এই পদটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, এবারও তেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদটি কে পাবেন, তা নিয়েও নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় প্রধানের ওপরই নির্ভর করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় গাড়িতে হামলার ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আমির হামজার

মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের গুঞ্জনে বিএনপিতে দৌড়ঝাঁপ ও অস্থিরতা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এর ঠিক চার দিন পর, ২০ আগস্ট, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন ধার্য করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২০ বা ২১ আগস্ট রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন। দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির শপথ নেওয়ার পরপরই বর্তমান মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল আনা হতে পারে। এই সম্ভাবনাকে ঘিরে বিএনপির সর্বস্তরে চলছে জোর আলোচনা ও গুঞ্জন।

মন্ত্রিসভায় নতুন করে স্থান পেতে আগ্রহীদের মধ্যে যেমন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তেমনি বাদ পড়ার আশঙ্কায় থাকা বর্তমান মন্ত্রীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রভাবশালী কর্মকর্তা, সিনিয়র মন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ করছেন। নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশায় অনেকে দলের জন্য বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ত্যাগ ও ভূমিকার কথা তুলে ধরছেন। এমনকি কেউ কেউ বর্তমান মন্ত্রীদের অতীত কাজের সমালোচনাও করছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ হিসেবে বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থর নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া টেকনোক্রেট কোটায় ড. আসাদুজ্জামান রিপন মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন। বিগত ছয় মাসে পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হওয়া এবং বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সিনিয়র নেতাদের পরামর্শকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়ার আগে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য, সংসদের সব হুইপ এবং বেশ কয়েকজন যুগ্ম মহাসচিবের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করেছেন। মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী পদটি বর্তমানে খালি রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুঞ্জন রয়েছে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তিনি যদি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান, তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তবে এ্যানি এ ধরনের খবরের বিষয়ে বিব্রতবোধ প্রকাশ করেছেন।

মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য জানান, বেশ কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে দু-একজন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স ভালো হওয়ায় তারা পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি পেতে পারেন। এছাড়া সংসদ সদস্য, বিএনপি ও সমমনা দলের নেতাদের মধ্য থেকে টেকনোক্রেট কোটায় নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে লুৎফুজ্জামান বাবর, শামসুজ্জামান দুদু, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিব উন নবী খান সোহেলের মতো নেতাদের নাম আলোচনায় রয়েছে।

সংসদ উপনেতা পদটি নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ১৯৯১ সালে ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং ২০০১ সালে বা ২০০৮ সালে অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার কারণে যেভাবে এই পদটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, এবারও তেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব পদটি কে পাবেন, তা নিয়েও নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক কৌতূহল বিরাজ করছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় প্রধানের ওপরই নির্ভর করছে।