লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে টানা বিদ্যুৎহীন জনজীবন, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি

টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। কোথাও টানা দুই দিন, আবার কোথাও তিন দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে অসংখ্য গ্রাম। বিদ্যুৎ না থাকার পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্কও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যা সাধারণ জনজীবনের পাশাপাশি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার ৭১ হাজার ১১৬ জন পরীক্ষার্থী এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি, এইচএসসি (বিএম/ভোকেশনাল) ও আলিম পরীক্ষায় বোর্ডের অধীনে মোট ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। ১১৪টি কেন্দ্রে ২৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে গত বুধবারের (৮ জুলাই) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। তবে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১১ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংকটের কারণে পড়াশোনার প্রস্তুতি নিতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। পটিয়া সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থী বেলাল হোসেন ও বাকলিয়া শহীদ নূর হোসেন ডিগ্রি কলেজের মো. আরফাত জানান, দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় তারা মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করছেন। প্রয়োজনীয় নোট বা ক্লাসের উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ না থাকায় এবং মোবাইল চার্জ দিতে না পারায় পরীক্ষার প্রস্তুতি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ফটিকছড়ির পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে আনোয়ারা, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, পটিয়া, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িতে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও সাতকানিয়ার বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে ৩৩ কেভি প্রধান সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়নের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে গাছ পড়ে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোথাও কোথাও খুঁটি ভেঙে গেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অনেক এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রকৌশলী ও লাইনম্যানরা ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করছেন এবং আবহাওয়া অনুকূলে এলে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। তিনি গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার এবং ছেঁড়া তার দেখলে তা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ তোষণের অভিযোগ রাশেদ খাঁনের

চট্টগ্রামে টানা বিদ্যুৎহীন জনজীবন, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

টানা ভারী বর্ষণ ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। কোথাও টানা দুই দিন, আবার কোথাও তিন দিন ধরে বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে অসংখ্য গ্রাম। বিদ্যুৎ না থাকার পাশাপাশি মোবাইল নেটওয়ার্কও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যা সাধারণ জনজীবনের পাশাপাশি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার ৭১ হাজার ১১৬ জন পরীক্ষার্থী এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি, এইচএসসি (বিএম/ভোকেশনাল) ও আলিম পরীক্ষায় বোর্ডের অধীনে মোট ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। ১১৪টি কেন্দ্রে ২৮৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও বৈরী আবহাওয়া ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতির কারণে গত বুধবারের (৮ জুলাই) পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের সই করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। তবে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী আগামী ১১ জুলাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংকটের কারণে পড়াশোনার প্রস্তুতি নিতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। পটিয়া সরকারি কলেজের পরীক্ষার্থী বেলাল হোসেন ও বাকলিয়া শহীদ নূর হোসেন ডিগ্রি কলেজের মো. আরফাত জানান, দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকায় তারা মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করছেন। প্রয়োজনীয় নোট বা ক্লাসের উপকরণ সংগ্রহের সুযোগ না থাকায় এবং মোবাইল চার্জ দিতে না পারায় পরীক্ষার প্রস্তুতি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন ফটিকছড়ির পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে আনোয়ারা, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, পটিয়া, বোয়ালখালী, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান ও ফটিকছড়িতে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি ও সাতকানিয়ার বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে ৩৩ কেভি প্রধান সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় পৌরসভাসহ ১৭টি ইউনিয়নের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে গাছ পড়ে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কোথাও কোথাও খুঁটি ভেঙে গেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অনেক এলাকায় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রকৌশলী ও লাইনম্যানরা ঝুঁকি নিয়ে মাঠে কাজ করছেন এবং আবহাওয়া অনুকূলে এলে পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। তিনি গ্রাহকদের ধৈর্য ধরার এবং ছেঁড়া তার দেখলে তা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।