লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাতারটেকে সাত খুনের মামলায় হাসিনা-হারুনসহ ১০ জনের বিচার শুরুর শুনানি

গাজীপুরের পাতারটেকে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই আবেদন করা হয়।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মামুনুর রশিদ ও মার্জিনা রায়হান। শুনানিতে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ভিন্ন দলমত বা ইসলামী মতাদর্শ নির্মূলে বিচারবহির্ভূত হত্যার ভীতিকর সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছিল। সে সময় গুম-খুনের মাধ্যমে ভীতি ছড়ানো হতো এবং বিভিন্ন বাহিনীর গোপন বন্দিশালায় মানুষকে আটকে রাখা হতো।

পাতারটেকে সংঘটিত ঘটনা সম্পর্কে প্রসিকিউশন জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাতজনকে তুলে নিয়ে বগুড়ায় পুলিশের একটি গোপন বন্দিশালায় রাখা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় সোলায়মান সরকারের বাড়িতে তাদের নিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নেতৃত্বে ‘অপারেশন শরতের তুফান’ নামে একটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে সোয়াত সদস্যরা গুলি করে সাতজনকেই হত্যা করেন।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে—মো. ইবরাহীম, ফরিদুল ইসলাম আকাশ ও সাইফুর রহমান। বাকি চারজনের পরিচয় এখনও অজানা। শেখ হাসিনার পতনের পর ইবরাহীমের বাবা ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন। প্রসিকিউশন আরও জানায়, ঘটনার পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল লাশ নিতে আসা পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তের হুমকি দিয়েছিলেন।

এ মামলায় অভিযুক্ত অন্যরা হলেন—তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক, এসবি প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, বগুড়ার তৎকালীন পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, গাজীপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার ও ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল এবং সিটিটিসির সহকারী পুলিশ কমিশনার এসএম জাহাঙ্গীর হাছান।

বর্তমানে শহীদুল হক ও আসাদুজ্জামান মিয়া গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি এই ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় এবং ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নিয়ে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা কাগজপত্র দেরিতে পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রস্তুতির জন্য সময় প্রার্থনা করলে ট্রাইব্যুনাল আগামী ১০ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

মূলত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বলপূর্বক গুম করে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন প্রসিকিউটর তামিম। এ সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি আবেদন শুরু ১১ নভেম্বর

পাতারটেকে সাত খুনের মামলায় হাসিনা-হারুনসহ ১০ জনের বিচার শুরুর শুনানি

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৩৩:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

গাজীপুরের পাতারটেকে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে সাতজনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই আবেদন করা হয়।

প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, আবদুস সাত্তার পালোয়ান, মামুনুর রশিদ ও মার্জিনা রায়হান। শুনানিতে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে ভিন্ন দলমত বা ইসলামী মতাদর্শ নির্মূলে বিচারবহির্ভূত হত্যার ভীতিকর সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছিল। সে সময় গুম-খুনের মাধ্যমে ভীতি ছড়ানো হতো এবং বিভিন্ন বাহিনীর গোপন বন্দিশালায় মানুষকে আটকে রাখা হতো।

পাতারটেকে সংঘটিত ঘটনা সম্পর্কে প্রসিকিউশন জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সাতজনকে তুলে নিয়ে বগুড়ায় পুলিশের একটি গোপন বন্দিশালায় রাখা হয়। এরপর ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় সোলায়মান সরকারের বাড়িতে তাদের নিয়ে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের নেতৃত্বে ‘অপারেশন শরতের তুফান’ নামে একটি অভিযান চালানো হয়। সেখানে সোয়াত সদস্যরা গুলি করে সাতজনকেই হত্যা করেন।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেছে—মো. ইবরাহীম, ফরিদুল ইসলাম আকাশ ও সাইফুর রহমান। বাকি চারজনের পরিচয় এখনও অজানা। শেখ হাসিনার পতনের পর ইবরাহীমের বাবা ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন। প্রসিকিউশন আরও জানায়, ঘটনার পর তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল লাশ নিতে আসা পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্তের হুমকি দিয়েছিলেন।

এ মামলায় অভিযুক্ত অন্যরা হলেন—তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক, এসবি প্রধান ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, বগুড়ার তৎকালীন পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, গাজীপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার ও ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ, বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল এবং সিটিটিসির সহকারী পুলিশ কমিশনার এসএম জাহাঙ্গীর হাছান।

বর্তমানে শহীদুল হক ও আসাদুজ্জামান মিয়া গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি এই ১০ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয় এবং ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নিয়ে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা কাগজপত্র দেরিতে পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রস্তুতির জন্য সময় প্রার্থনা করলে ট্রাইব্যুনাল আগামী ১০ আগস্ট পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেন।

মূলত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বলপূর্বক গুম করে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন প্রসিকিউটর তামিম। এ সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আবেদন করেন।