লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদালত হাজতখানায় পাউরুটির ভেতর গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার

রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার সময় এক হাজতির হাতে থাকা পাউরুটির ভেতর থেকে গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। আদালত চত্বরেই হাজতির এক স্বজন ওই পাউরুটি দিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ঘটনাটি ধরা পড়ার পর ওই হাজতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) আদালত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আসামি মামুনকে সিএমএম ১১ নম্বর আদালতে নিয়মিত হাজিরার জন্য আনা হয়। শুনানি শেষে তাকে আবার হাজতখানায় নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে তার এক স্বজন খাবার হিসেবে একটি পাউরুটি দেন। পরে ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের এসকর্ট কনস্টেবলের সঙ্গে হাজতখানায় প্রবেশের আগে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত হাজত ইনচার্জের সন্দেহ হলে পাউরুটিটি পরীক্ষা করা হয়। এ সময় পাউরুটির ভেতরে কাগজে মোড়ানো তিনটি ছোট গাঁজার পুরিয়া এবং তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। পরে সেগুলো জব্দ করা হয়।

ঘটনার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত হাজত ইনচার্জ এসআই মোর্শেদ আলম ও আদালত পুলিশের কর্মকর্তারা বিষয়টি ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেলকে অবহিত করেন। এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল শাহেদ জানান, তিনি ১১ নম্বর আদালত থেকে মামুন নামের একজন আসামিকে হাজতখানায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, কোনো ধরনের খাবার, প্যাকেট বা অন্য কোনো বস্তু ভেতরে নেওয়া যাবে না। তাই সাধারণত তারা এসব গ্রহণ করেন না।

কনস্টেবল শাহেদ আরও বলেন, আসামির সঙ্গে কয়েকজন স্বজন ছিলেন। তারা সিঁড়ির কাছে এসে একটি পাউরুটি দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ ও চাপ দিতে থাকেন। পরে মানবিক দিক বিবেচনা করে পাউরুটিটি আসামির কাছে যেতে দেন। হাজতখানার গেটে দায়িত্বরত সদস্যরা সেটি নিয়ে তল্লাশি করেন। তিনি আসামিকে বুঝিয়ে দিয়ে আবার ডিউটিতে ফিরে যান। এরপর পাউরুটির ভেতর থেকে মাদক উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।

সিএমএম আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ এসআই মোর্শেদ আলম জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং ঘটনার সময় সেখানে ছিলেন না। তবে ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানান, তিনি দায়িত্বে থাকা কনস্টেবলের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, কনস্টেবল প্রথমে রাজি না হলেও মানবিক বিবেচনায় একটি পাউরুটি নিতে দিয়েছিলেন। রুটিন তল্লাশিতে প্রথমে কোনো সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি, কারণ তখন কারও ধারণা ছিল না যে পাউরুটির ভেতরে মাদক লুকিয়ে রাখা হতে পারে। পরে আবার পরীক্ষা করে পাউরুটিতে একটি ছোট ছিদ্র দেখতে পাওয়া যায়। সেটি খুঁটিয়ে দেখার পর ভেতর থেকে গাঁজার কয়েকটি ছোট প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্টদের খোঁজ করা হলেও যারা খাবারটি দিয়েছিল, তারা ইতোমধ্যে চলে যায়।

ডিসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল আরও জানান, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফুটেজ দেখে কে খাবারটি দিয়েছে, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে হাজতিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি একটি গুরুতর নিরাপত্তাজনিত বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকা সদস্যদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রতিদিন সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে বা জেলখানা থেকে আদালতে আসামি আনা-নেওয়ার সময়ও অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটে, যার নিরাপত্তা ও তদারকির দায়িত্ব মূলত কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সদস্যদের।

জনপ্রিয় সংবাদ

যাত্রাবাড়ীর গণহত্যার বিচার দ্রুত শেষ করার অঙ্গীকার ট্রাইব্যুনালের

আদালত হাজতখানায় পাউরুটির ভেতর গাঁজা ও ইয়াবা উদ্ধার

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১৮:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার সময় এক হাজতির হাতে থাকা পাউরুটির ভেতর থেকে গাঁজা ও ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। আদালত চত্বরেই হাজতির এক স্বজন ওই পাউরুটি দিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ঘটনাটি ধরা পড়ার পর ওই হাজতির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

রোববার (২ আগস্ট) আদালত-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আসামি মামুনকে সিএমএম ১১ নম্বর আদালতে নিয়মিত হাজিরার জন্য আনা হয়। শুনানি শেষে তাকে আবার হাজতখানায় নেওয়ার সময় আদালত প্রাঙ্গণে তার এক স্বজন খাবার হিসেবে একটি পাউরুটি দেন। পরে ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের এসকর্ট কনস্টেবলের সঙ্গে হাজতখানায় প্রবেশের আগে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত হাজত ইনচার্জের সন্দেহ হলে পাউরুটিটি পরীক্ষা করা হয়। এ সময় পাউরুটির ভেতরে কাগজে মোড়ানো তিনটি ছোট গাঁজার পুরিয়া এবং তিনটি ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। পরে সেগুলো জব্দ করা হয়।

ঘটনার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত হাজত ইনচার্জ এসআই মোর্শেদ আলম ও আদালত পুলিশের কর্মকর্তারা বিষয়টি ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেলকে অবহিত করেন। এ বিষয়ে দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল শাহেদ জানান, তিনি ১১ নম্বর আদালত থেকে মামুন নামের একজন আসামিকে হাজতখানায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে, কোনো ধরনের খাবার, প্যাকেট বা অন্য কোনো বস্তু ভেতরে নেওয়া যাবে না। তাই সাধারণত তারা এসব গ্রহণ করেন না।

কনস্টেবল শাহেদ আরও বলেন, আসামির সঙ্গে কয়েকজন স্বজন ছিলেন। তারা সিঁড়ির কাছে এসে একটি পাউরুটি দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ ও চাপ দিতে থাকেন। পরে মানবিক দিক বিবেচনা করে পাউরুটিটি আসামির কাছে যেতে দেন। হাজতখানার গেটে দায়িত্বরত সদস্যরা সেটি নিয়ে তল্লাশি করেন। তিনি আসামিকে বুঝিয়ে দিয়ে আবার ডিউটিতে ফিরে যান। এরপর পাউরুটির ভেতর থেকে মাদক উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।

সিএমএম আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ এসআই মোর্শেদ আলম জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং ঘটনার সময় সেখানে ছিলেন না। তবে ডিএমপি প্রসিকিউশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল জানান, তিনি দায়িত্বে থাকা কনস্টেবলের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, কনস্টেবল প্রথমে রাজি না হলেও মানবিক বিবেচনায় একটি পাউরুটি নিতে দিয়েছিলেন। রুটিন তল্লাশিতে প্রথমে কোনো সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি, কারণ তখন কারও ধারণা ছিল না যে পাউরুটির ভেতরে মাদক লুকিয়ে রাখা হতে পারে। পরে আবার পরীক্ষা করে পাউরুটিতে একটি ছোট ছিদ্র দেখতে পাওয়া যায়। সেটি খুঁটিয়ে দেখার পর ভেতর থেকে গাঁজার কয়েকটি ছোট প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্টদের খোঁজ করা হলেও যারা খাবারটি দিয়েছিল, তারা ইতোমধ্যে চলে যায়।

ডিসি মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল আরও জানান, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফুটেজ দেখে কে খাবারটি দিয়েছে, তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনে হাজতিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি একটি গুরুতর নিরাপত্তাজনিত বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, দায়িত্বে থাকা সদস্যদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে প্রতিদিন সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে বা জেলখানা থেকে আদালতে আসামি আনা-নেওয়ার সময়ও অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটে, যার নিরাপত্তা ও তদারকির দায়িত্ব মূলত কারা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সদস্যদের।