লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৮১ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ ২০০

কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মৃতের এই সংখ্যা ২৪০ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা ইতিমধ্যেই জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে অন্তত ২ হাজার ৬০০ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া ১ হাজার ১০০টির বেশি বাড়ি পুরোপুরি এবং ৮ হাজারের বেশি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর থেকে পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ৭০টিরও বেশি আফটার শক অনুভূত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কালি ও পেরেইরা শহরে উদ্ধারকাজ চলছে। কালিতে ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ২৩৯ জন এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। সেখানে ৪৫টি ভবন ধসে পড়েছে, যার মধ্যে একটি হাসপাতালের ওপরের তলাও রয়েছে যেখানে শিশুরা চিকিৎসাধীন ছিল। কালিমা এলাকায় একটি স্কুলের অংশ ধসে চার শিশু নিহত হয়েছে এবং ৩০ শিশুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। লুটপাট এড়াতে কালিতে রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।

পেরেইরা শহরে এখন পর্যন্ত ৭৯ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে দমকল বিভাগ। সেখানে উদ্ধার অভিযান নির্বিঘ্ন রাখতে 'কার-ফ্রি ডে' ঘোষণা করা হয়েছে। শহরের বলিভার স্কয়ারে ভবন ধসে পড়ায় জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। মানিজালেস শহরে আরও পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং সেখানে ৬০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন আফটার শকের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছেন মেয়র হোর্হে এদুয়ার্দো রোহাস।

মঙ্গলবার ভোরে সান হোসে দেল পালমার ও সান্তান্দার এলাকায় ৩ দশমিক ৬ মাত্রার আরও দুটি কম্পন অনুভূত হয়েছে। দুর্যোগের কারণে অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। কলম্বিয়ার এই সংকটের মুহূর্তে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সংহতি প্রকাশ করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইকুয়েডর, ব্রাজিল, এল সালভাদর ও ভেনেজুয়েলাও সাহায্যের প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এসেছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেটের রায়নগরে বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ১৮১ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ ২০০

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৪৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৮১ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মৃতের এই সংখ্যা ২৪০ ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা ইতিমধ্যেই জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে অন্তত ২ হাজার ৬০০ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ২০০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া ১ হাজার ১০০টির বেশি বাড়ি পুরোপুরি এবং ৮ হাজারের বেশি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর থেকে পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ৭০টিরও বেশি আফটার শক অনুভূত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কালি ও পেরেইরা শহরে উদ্ধারকাজ চলছে। কালিতে ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং ২৩৯ জন এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। সেখানে ৪৫টি ভবন ধসে পড়েছে, যার মধ্যে একটি হাসপাতালের ওপরের তলাও রয়েছে যেখানে শিশুরা চিকিৎসাধীন ছিল। কালিমা এলাকায় একটি স্কুলের অংশ ধসে চার শিশু নিহত হয়েছে এবং ৩০ শিশুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। লুটপাট এড়াতে কালিতে রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।

পেরেইরা শহরে এখন পর্যন্ত ৭৯ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে দমকল বিভাগ। সেখানে উদ্ধার অভিযান নির্বিঘ্ন রাখতে 'কার-ফ্রি ডে' ঘোষণা করা হয়েছে। শহরের বলিভার স্কয়ারে ভবন ধসে পড়ায় জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে। মানিজালেস শহরে আরও পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং সেখানে ৬০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন আফটার শকের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছেন মেয়র হোর্হে এদুয়ার্দো রোহাস।

মঙ্গলবার ভোরে সান হোসে দেল পালমার ও সান্তান্দার এলাকায় ৩ দশমিক ৬ মাত্রার আরও দুটি কম্পন অনুভূত হয়েছে। দুর্যোগের কারণে অনেক মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। কলম্বিয়ার এই সংকটের মুহূর্তে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সংহতি প্রকাশ করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সরকার ১ কোটি ৫৫ লাখ ডলার সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ইকুয়েডর, ব্রাজিল, এল সালভাদর ও ভেনেজুয়েলাও সাহায্যের প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে এসেছে। উদ্ধারকর্মীরা এখনো ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।