লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন, বিরোধীদের সংসদ বর্জন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকার জুলাই ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে, বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে ১৭ সদস্যের এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম। প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে পাস হলেও, বিরোধী দল এতে নাম না দেওয়ায় প্রাথমিকভাবে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

চিফ হুইপ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও জোট এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা এখনো কোনো নাম জমা দেননি। ১৭ সদস্যের প্রস্তাবিত কাঠামোয় বিএনপি থেকে ৭ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি থেকে ১ জন, গণসংহতি আন্দোলন থেকে ১ জন, গণঅধিকার পরিষদ থেকে ১ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ১ জন, স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্য থেকে ১ জন এবং বিরোধী দল থেকে ৫ জন সদস্য থাকার কথা ছিল। বিরোধী দলের জন্য ৫টি পদ শূন্য রেখে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের নাম পাওয়া গেলে কমিটি পুনর্গঠন করা হবে।

কমিটির ১২ সদস্য হলেন: সালাউদ্দিন আহমেদ (কক্সবাজার-১, সভাপতি), মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম (বরগুনা-২), মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (ঝিনাইদহ-১), জয়নাল আবেদিন (বরিশাল-৩), মোহাম্মদ জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), হাবিবুর রহমান (ভোলা-১), মোহাম্মদ নুরুল হক (পটুয়াখালী-৩), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (চট্টগ্রাম-৫), ফারজানা শারমিন (নাটোর-১), সাকিলা ফারজানা (মহিলা আসন-১), মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুবেল (শেরপুর-৩) এবং মোহাম্মদ অলিউল্লাহ (বরগুনা-১)।

গণভোটের রায় উপেক্ষা করে কমিটি গঠন করা হয়েছে অভিযোগ এনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদে ওয়াকআউট করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে সেই রায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। তারা সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নিয়েছেন, যা এখনো বহাল রয়েছে। তাই গণরায়কে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠন করা হলে তা তারা গ্রহণ করবেন না। তিনি আরও বলেন, প্রায় ৬৮.৬ শতাংশ মানুষ গণভোটে যে মতামত দিয়েছেন, সেটিকে এভাবে উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে জনগণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাবে। জনগণের রায়কে অসম্মান করার প্রতিবাদে তারা কমিটিতে অংশ না নেওয়ার পাশাপাশি সংসদ থেকেও ওয়াকআউট করেন।

বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনী বাতিল করা প্রয়োজন, যা সংসদের মাধ্যমেই শুরু করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন ও সংসদ পরিচালিত হচ্ছে। তাই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ নেওয়ার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই এবং সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ ও তৃতীয় তফসিলে এমন কোনো বিধান নেই, ফলে এ ধরনের শপথ আইনগতভাবে ‘নাল অ্যান্ড ভয়েড’।

মন্ত্রী আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হলেও আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংসদ ভবিষ্যতে সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিধান সংযোজন করলে তখন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি দাবি করেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংস্কার আদেশ’ রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে জারি করা হয়েছে এবং এটি সংবিধানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ও আদালতে বিচারাধীন। তাই সংসদের বাইরে বিকল্প কোনো কাঠামোর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ নেই। সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের এবং ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণ সেই ক্ষমতা সংসদকে দিয়েছে, তাই সংসদীয় প্রক্রিয়াই সংবিধান সংশোধনের একমাত্র বৈধ পথ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংবিধান সংশোধনী কমিটি বিচার বিভাগ, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, গণমাধ্যমের সম্পাদক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী এবং জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সুপারিশ চূড়ান্ত করে সংসদে ১৮তম সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে। তিনি বিরোধী দলকে আবেগতাড়িত রাজনীতি পরিহার করে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য সংবিধান প্রণয়নে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

বেক্সিমকো ফার্মার পর্ষদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন সালমান এফ রহমান

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন, বিরোধীদের সংসদ বর্জন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৪৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকার জুলাই ইশতেহার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে, বর্তমান সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে প্রধান করে ১৭ সদস্যের এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম। প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে পাস হলেও, বিরোধী দল এতে নাম না দেওয়ায় প্রাথমিকভাবে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

চিফ হুইপ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশে সংসদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দল ও জোট এবং স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা এখনো কোনো নাম জমা দেননি। ১৭ সদস্যের প্রস্তাবিত কাঠামোয় বিএনপি থেকে ৭ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি থেকে ১ জন, গণসংহতি আন্দোলন থেকে ১ জন, গণঅধিকার পরিষদ থেকে ১ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ১ জন, স্বতন্ত্র সদস্যদের মধ্য থেকে ১ জন এবং বিরোধী দল থেকে ৫ জন সদস্য থাকার কথা ছিল। বিরোধী দলের জন্য ৫টি পদ শূন্য রেখে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের নাম পাওয়া গেলে কমিটি পুনর্গঠন করা হবে।

কমিটির ১২ সদস্য হলেন: সালাউদ্দিন আহমেদ (কক্সবাজার-১, সভাপতি), মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম (বরগুনা-২), মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান (ঝিনাইদহ-১), জয়নাল আবেদিন (বরিশাল-৩), মোহাম্মদ জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), হাবিবুর রহমান (ভোলা-১), মোহাম্মদ নুরুল হক (পটুয়াখালী-৩), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (চট্টগ্রাম-৫), ফারজানা শারমিন (নাটোর-১), সাকিলা ফারজানা (মহিলা আসন-১), মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুবেল (শেরপুর-৩) এবং মোহাম্মদ অলিউল্লাহ (বরগুনা-১)।

গণভোটের রায় উপেক্ষা করে কমিটি গঠন করা হয়েছে অভিযোগ এনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংসদে ওয়াকআউট করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে সেই রায় বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। তারা সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নিয়েছেন, যা এখনো বহাল রয়েছে। তাই গণরায়কে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠন করা হলে তা তারা গ্রহণ করবেন না। তিনি আরও বলেন, প্রায় ৬৮.৬ শতাংশ মানুষ গণভোটে যে মতামত দিয়েছেন, সেটিকে এভাবে উপেক্ষা করলে ভবিষ্যতে জনগণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাবে। জনগণের রায়কে অসম্মান করার প্রতিবাদে তারা কমিটিতে অংশ না নেওয়ার পাশাপাশি সংসদ থেকেও ওয়াকআউট করেন।

বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধনী বাতিল করা প্রয়োজন, যা সংসদের মাধ্যমেই শুরু করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন ও সংসদ পরিচালিত হচ্ছে। তাই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ নেওয়ার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই এবং সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ ও তৃতীয় তফসিলে এমন কোনো বিধান নেই, ফলে এ ধরনের শপথ আইনগতভাবে ‘নাল অ্যান্ড ভয়েড’।

মন্ত্রী আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হলেও আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সংসদ ভবিষ্যতে সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিধান সংযোজন করলে তখন সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি দাবি করেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংস্কার আদেশ’ রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে জারি করা হয়েছে এবং এটি সংবিধানের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ও আদালতে বিচারাধীন। তাই সংসদের বাইরে বিকল্প কোনো কাঠামোর মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তনের সুযোগ নেই। সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের এবং ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণ সেই ক্ষমতা সংসদকে দিয়েছে, তাই সংসদীয় প্রক্রিয়াই সংবিধান সংশোধনের একমাত্র বৈধ পথ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংবিধান সংশোধনী কমিটি বিচার বিভাগ, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন, গণমাধ্যমের সম্পাদক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বুদ্ধিজীবী এবং জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরকারী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে একটি সুপারিশ চূড়ান্ত করে সংসদে ১৮তম সংবিধান সংশোধনী বিল উত্থাপন করা হবে। তিনি বিরোধী দলকে আবেগতাড়িত রাজনীতি পরিহার করে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য সংবিধান প্রণয়নে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।