লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহত ১২, প্লাবিত ৩৩ ইউনিয়ন

কক্সবাজারে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল এবং বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার ৯টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রামু ও চকরিয়া উপজেলার অন্তত ১৪টি ইউনিয়ন। সেখানে শত শত ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ার পাশাপাশি সড়ক ও কৃষিজমি তলিয়ে গেছে।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের মধ্যে পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত জেলায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আটজন, কক্সবাজার শহরের দরিয়ানগরে একজন নারী, পেকুয়ায় পাহাড়ধসে এক শিশু এবং উখিয়ায় মাটির ঘরের দেয়াল ধসে আরও দুজন রয়েছেন।

জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরপর সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত আরও ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড ও জনপ্রতিনিধিরা যৌথভাবে কাজ করছেন। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে সহস্রাধিক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। হ্নীলা, হোয়াইক্যং, সদর, সাবরাং ও বাহারছড়া ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ বসতবাড়ির বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ায় টানা পাঁচ দিন ধরে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দ্বীপে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া দুইজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদনের পাশাপাশি কোস্ট গার্ডের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

এদিকে কক্সবাজার পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নে একটি সেতু ধসে পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রশাসন সবাইকে প্রয়োজন ছাড়া পাহাড়ি এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহত ১২, প্লাবিত ৩৩ ইউনিয়ন

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:১৫:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

কক্সবাজারে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল এবং বাঁকখালী ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার ৯টি উপজেলার অন্তত ৩৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রামু ও চকরিয়া উপজেলার অন্তত ১৪টি ইউনিয়ন। সেখানে শত শত ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ার পাশাপাশি সড়ক ও কৃষিজমি তলিয়ে গেছে।

প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের মধ্যে পাহাড়ধস ও দেয়ালচাপায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দিবাগত রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত জেলায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে উখিয়ার তিনটি রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে আটজন, কক্সবাজার শহরের দরিয়ানগরে একজন নারী, পেকুয়ায় পাহাড়ধসে এক শিশু এবং উখিয়ায় মাটির ঘরের দেয়াল ধসে আরও দুজন রয়েছেন।

জেলা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এরপর সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত আরও ৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড ও জনপ্রতিনিধিরা যৌথভাবে কাজ করছেন। জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে সহস্রাধিক মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং মাইকিংয়ের মাধ্যমে সবাইকে সতর্ক করা হচ্ছে।

টেকনাফ উপজেলায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। হ্নীলা, হোয়াইক্যং, সদর, সাবরাং ও বাহারছড়া ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মো. অনীক চৌধুরী জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ বসতবাড়ির বাসিন্দাদের আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ায় টানা পাঁচ দিন ধরে টেকনাফ-সেন্ট মার্টিন নৌপথে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় দ্বীপে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া দুইজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদনের পাশাপাশি কোস্ট গার্ডের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

এদিকে কক্সবাজার পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নে একটি সেতু ধসে পড়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রশাসন সবাইকে প্রয়োজন ছাড়া পাহাড়ি এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।