লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় টিকটক ও অস্ত্রের মহড়া ঘিরে বেপরোয়া কিশোর গ্যাং, বাড়ছে আতঙ্ক

কুমিল্লা নগরীতে টিকটক ভিডিও তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে ‘কিশোর গ্যাং’। সম্প্রতি ১৩ বছরের কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে নির্জন পাহাড়ি জঙ্গলে নিয়ে আইফোন ছিনতাই ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা এই গ্যাং কালচারের ভয়াবহ রূপকে নতুন করে সামনে এনেছে। গোমতী নদীর তীর থেকে শুরু করে নগরের অলিগলিতে এখন অস্ত্রের মহড়া আর গ্যাংয়ের দাপটে তটস্থ সাধারণ মানুষ।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিন একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন। টিকটক ভিডিও বানানোর আড়ালে কিশোরদের দলে ভেড়াতেন তিনি। এই চক্রের সদস্যরা ‘গ্যাং পার্টি’ করে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে নিজেদের অবস্থান জানান দিত। গ্রেপ্তার হওয়া এক কিশোরের সৌদিপ্রবাসী বাবা তাকে আইফোন কিনে দিয়েছিলেন টিকটক করার জন্য, যা দিয়ে সে নিয়মিত ভিডিও বানাত। অন্য এক কিশোর কিনেছিল মোটরসাইকেল। অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর নাহিদা বেগম একসময় মাদকবিরোধী অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের পুলিশে সোপর্দ করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন, সেই ক্ষোভ থেকেই অপ্রতিমের ওপর প্রতিশোধ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এই দাবিতে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌন মিছিল ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের এই তৎপরতা নতুন নয়। ২০১৫ সালের দিকে শহরে ৩-৪টি গ্যাং দিয়ে এর শুরু হলেও ২০২২ সাল নাগাদ তা কমপক্ষে ২০টি গ্যাং ও অসংখ্য উপদলে রূপ নেয়। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ১২টি হত্যাকাণ্ডের পেছনে এসব গ্যাংয়ের নাম এসেছে। পূর্বে রয়েল বেঙ্গল, সিজলিন, জে অ্যান্ড জে, বিগ ব্রাদার, twist, ব্ল্যাক স্টার, ডার্ক, ইগল, আরজিএস, র‍্যাক্স, এক্স, এলআরএন, সিএমসি, মডার্ন, রকস্টার, ডিস্কো বয়েজ ও বসের মতো দলগুলো সক্রিয় ছিল। বর্তমানে কিং স্কোয়াড, স্কোয়াড বা রতন গ্রুপ, ইগল, সিবিকে ও ক্রাইম সেটআপ নামের পাঁচটি গ্রুপ সবচেয়ে বেশি আলোচিত। এছাড়া অপু ও সাব্বির গ্রুপের নামও রয়েছে।

গত মে মাসের এক শুক্রবারে ‘ক্রাইম সেটআপ’ নামের একটি নতুন গ্যাংয়ের ১০০ থেকে ১৫০ জন সদস্য রামদা, চাপাতি ও লাঠি নিয়ে কাপ্তানবাজার, বৌবাজার, চানপুর ও সংরাইশ এলাকায় মহড়া দেয়। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে ওই দিনই দলটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময় রানীর দিঘির পাড়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাজি ফুটিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় কিশোরেরা। একই দিন তালপুকুরপাড় ও আদালতপাড়ায় অস্ত্রের মহড়া চলে। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও রানীর দিঘির পাড়ে অস্ত্রের মহড়া দেখে ব্যবসায়ীরা ভয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দেন।

গ্যাংগুলোর মধ্যে প্রায়ই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল রানীর কুঠি এলাকায় নাফিজ অময় নামের এক তরুণকে কুপিয়ে হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেয় রতন গ্রুপের সদস্যরা। এর জেরে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলো এলাকায় শক্তি প্রদর্শন শুরু করলে দুর্গাপুর ও রেসকোর্স এলাকায় সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার এবং পিস্তল, রিভলভার ও মাদক উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট হাউজিং এলাকার কেটিসিসি মাঠে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ‘কিং স্কোয়াড’-এর ২১ সদস্যকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশ।

অপরাধের এই জাল শুধু কিশোরদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বড়দেরও এতে যুক্ত হতে দেখা গেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ‘আর স্কোয়াড’ সংশ্লিষ্ট অভিযানে ১৯ থেকে ৪৭ বছর বয়সীদের নাম আসে এবং মূল অস্ত্র সরবরাহকারী মো. রুবেলকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৪ সালের জুনে কাঁটাবিল এলাকায় অপু ও সাব্বির গ্রুপের মাদক সংক্রান্ত বিরোধের গুলিতে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়। একই বছরের ৪ ডিসেম্বর অশোকতলায় সজীব হোসেন ওরফে বাবুকে মাদক বিরোধের জেরে হত্যা করা হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল ধর্মসাগর পাড়ে নারী কনস্টেবলকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তাঁর পুলিশ কনস্টেবল স্বামী কাজী আব্দুল্লাহ মো. জোবায়েরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আহত করে রিফাত ও সিয়াম নামের দুই তরুণ।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, গত বছরের ৩০ নভেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২৫০ জনের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে বয়স কম হওয়ায় অনেকেই দ্রুত জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার অপরাধে জড়াচ্ছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা বলেন, কুমিল্লায় এখন এমন কোনো পাড়ামহল্লা নেই যেখানে কিশোর গ্যাং নেই। অতীতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা এদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নিখিল চন্দ্র রায় বলেন, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা এই কিশোরেরা ভবিষ্যতে বড় সন্ত্রাসী হয়ে উঠছে। এদের রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবারকেও সচেতন হতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘে ট্রাম্পের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের মতবিনিময়

কুমিল্লায় টিকটক ও অস্ত্রের মহড়া ঘিরে বেপরোয়া কিশোর গ্যাং, বাড়ছে আতঙ্ক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৫৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা নগরীতে টিকটক ভিডিও তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে ‘কিশোর গ্যাং’। সম্প্রতি ১৩ বছরের কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে নির্জন পাহাড়ি জঙ্গলে নিয়ে আইফোন ছিনতাই ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা এই গ্যাং কালচারের ভয়াবহ রূপকে নতুন করে সামনে এনেছে। গোমতী নদীর তীর থেকে শুরু করে নগরের অলিগলিতে এখন অস্ত্রের মহড়া আর গ্যাংয়ের দাপটে তটস্থ সাধারণ মানুষ।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিন একটি কিশোর গ্যাং গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন। টিকটক ভিডিও বানানোর আড়ালে কিশোরদের দলে ভেড়াতেন তিনি। এই চক্রের সদস্যরা ‘গ্যাং পার্টি’ করে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করে নিজেদের অবস্থান জানান দিত। গ্রেপ্তার হওয়া এক কিশোরের সৌদিপ্রবাসী বাবা তাকে আইফোন কিনে দিয়েছিলেন টিকটক করার জন্য, যা দিয়ে সে নিয়মিত ভিডিও বানাত। অন্য এক কিশোর কিনেছিল মোটরসাইকেল। অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর নাহিদা বেগম একসময় মাদকবিরোধী অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের পুলিশে সোপর্দ করেছিলেন। শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন, সেই ক্ষোভ থেকেই অপ্রতিমের ওপর প্রতিশোধ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এই দাবিতে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌন মিছিল ও বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের এই তৎপরতা নতুন নয়। ২০১৫ সালের দিকে শহরে ৩-৪টি গ্যাং দিয়ে এর শুরু হলেও ২০২২ সাল নাগাদ তা কমপক্ষে ২০টি গ্যাং ও অসংখ্য উপদলে রূপ নেয়। ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অন্তত ১২টি হত্যাকাণ্ডের পেছনে এসব গ্যাংয়ের নাম এসেছে। পূর্বে রয়েল বেঙ্গল, সিজলিন, জে অ্যান্ড জে, বিগ ব্রাদার, twist, ব্ল্যাক স্টার, ডার্ক, ইগল, আরজিএস, র‍্যাক্স, এক্স, এলআরএন, সিএমসি, মডার্ন, রকস্টার, ডিস্কো বয়েজ ও বসের মতো দলগুলো সক্রিয় ছিল। বর্তমানে কিং স্কোয়াড, স্কোয়াড বা রতন গ্রুপ, ইগল, সিবিকে ও ক্রাইম সেটআপ নামের পাঁচটি গ্রুপ সবচেয়ে বেশি আলোচিত। এছাড়া অপু ও সাব্বির গ্রুপের নামও রয়েছে।

গত মে মাসের এক শুক্রবারে ‘ক্রাইম সেটআপ’ নামের একটি নতুন গ্যাংয়ের ১০০ থেকে ১৫০ জন সদস্য রামদা, চাপাতি ও লাঠি নিয়ে কাপ্তানবাজার, বৌবাজার, চানপুর ও সংরাইশ এলাকায় মহড়া দেয়। কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়ে ওই দিনই দলটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময় রানীর দিঘির পাড়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাজি ফুটিয়ে আতঙ্ক ছড়ায় কিশোরেরা। একই দিন তালপুকুরপাড় ও আদালতপাড়ায় অস্ত্রের মহড়া চলে। এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতেও রানীর দিঘির পাড়ে অস্ত্রের মহড়া দেখে ব্যবসায়ীরা ভয়ে দোকানপাট বন্ধ করে দেন।

গ্যাংগুলোর মধ্যে প্রায়ই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল রানীর কুঠি এলাকায় নাফিজ অময় নামের এক তরুণকে কুপিয়ে হাত প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেয় রতন গ্রুপের সদস্যরা। এর জেরে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলো এলাকায় শক্তি প্রদর্শন শুরু করলে দুর্গাপুর ও রেসকোর্স এলাকায় সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার এবং পিস্তল, রিভলভার ও মাদক উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট হাউজিং এলাকার কেটিসিসি মাঠে সংঘর্ষের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ‘কিং স্কোয়াড’-এর ২১ সদস্যকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশ।

অপরাধের এই জাল শুধু কিশোরদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বড়দেরও এতে যুক্ত হতে দেখা গেছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ‘আর স্কোয়াড’ সংশ্লিষ্ট অভিযানে ১৯ থেকে ৪৭ বছর বয়সীদের নাম আসে এবং মূল অস্ত্র সরবরাহকারী মো. রুবেলকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৪ সালের জুনে কাঁটাবিল এলাকায় অপু ও সাব্বির গ্রুপের মাদক সংক্রান্ত বিরোধের গুলিতে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ইথান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হয়। একই বছরের ৪ ডিসেম্বর অশোকতলায় সজীব হোসেন ওরফে বাবুকে মাদক বিরোধের জেরে হত্যা করা হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল ধর্মসাগর পাড়ে নারী কনস্টেবলকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তাঁর পুলিশ কনস্টেবল স্বামী কাজী আব্দুল্লাহ মো. জোবায়েরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আহত করে রিফাত ও সিয়াম নামের দুই তরুণ।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, গত বছরের ৩০ নভেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ২৫০ জনের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে বয়স কম হওয়ায় অনেকেই দ্রুত জামিনে মুক্তি পেয়ে আবার অপরাধে জড়াচ্ছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা বলেন, কুমিল্লায় এখন এমন কোনো পাড়ামহল্লা নেই যেখানে কিশোর গ্যাং নেই। অতীতে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা এদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নিখিল চন্দ্র রায় বলেন, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকা এই কিশোরেরা ভবিষ্যতে বড় সন্ত্রাসী হয়ে উঠছে। এদের রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিবারকেও সচেতন হতে হবে।