লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় দেয়ালে কিশোর গ্যাংয়ের নাম, অভিযানেও থামছে না অপরাধ

কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ের টাউন হল এলাকায় সবসময়ই মানুষের আনাগোনা থাকে। কিন্তু এখানকার দেয়ালে দেয়ালে এখন শোভা পাচ্ছে ‘সিবিকে’, ‘ডিবিএক্স’ ও ‘কেজিএস’-এর মতো কিশোর গ্যাংয়ের নাম। সম্প্রতি কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পুলিশি অভিযান চালানো হলেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। পুলিশের সুনির্দিষ্ট তালিকা না থাকা এবং আইনি দুর্বলতার কারণে গ্রেপ্তার হওয়া অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

টাউন হলের সামনের ফুটপাতে পোশাক বিক্রেতা আবদুল মোত্তালেব জানান, সন্ধ্যার দিকে উঠতি বয়সী ছেলেরা মাঠে এসে দেয়ালে এসব নাম লেখে। তিনি বলেন, ‘আমরা ওই দিকে তাকাইও না। পোলাপান ভালো না। সন্ধ্যার দিকে উঠতি বয়সী ছেলেরা মাঠে আসে। লেখাগুলো তারাই লিখেছে।’ ২০১৫ সালের দিকে কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এরপর দলবদ্ধভাবে সড়কে নামা, মোটরসাইকেলে মহড়া ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে। ২০২২ সালে ধর্মসাগরপাড়সহ নগরের বিভিন্ন দেয়ালে গ্যাংয়ের নাম ও লোগো দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের দিকে আলোচিত দলের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০টিতে দাঁড়ায়। বর্তমানে কুমিল্লা শহরে অন্তত ২০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ‘সিবিকে’ বা ‘কুমিল্লা ব্রাদার্স কমিউনিটি’ পুলিশের কাছে পরিচিত। ২০২৪ সালের অক্টোবরে এই দলের নেতা তানজিম আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যার অধীনে প্রায় ৭৫০ সদস্য থাকার তথ্য মিলেছিল। এছাড়া ‘ডিবিএক্স’ (ডেডলি বয়েজ) ও ‘কেজিএস’ (কিং গ্যাংস্টার স্কোয়াড) নামের গ্যাংগুলোর পেছনে কারা রয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ডিবিএক্স লেখার পাশে একই কালিতে ‘প্রিন্স নেহাল’ নামটি দেখা গেছে। বর্তমানে কিং স্কোয়াড, রতন গ্রুপ (স্কোয়াড), ইগল, সিবিকে, ক্রাইম সেটআপ, অপু ও সাব্বির গ্রুপ বেশি আলোচনায় রয়েছে। দেয়ালের পাশাপাশি টিকток ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ ব্যবহার করে এসব দল ভারী করা হচ্ছে।

কুমিল্লায় গত এক দশকে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বাড়লেও ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ১২টি হত্যাকাণ্ডে এদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ৯ মাসে অন্তত ২৫টি আলোচিত অপরাধের ঘটনায় এসব দলের নাম এসেছে। সম্প্রতি কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার পর কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন লালমাই পাহাড় থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার পাশাপাশি বয়সে বড়দের সঙ্গে অপ্রতিমের যোগাযোগ ও টিকটক ভিডিও তৈরির প্রলোভনের বিষয় সামনে এসেছে।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জনকে আটক করে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান জানান, যাচাই-বাছাই শেষে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যাদের বড় অংশই শিক্ষার্থী। বাকি ১৭৩ জনকে বিভিন্ন অভিযোগে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানা এলাকা থেকে ৭১ জনকে আটক করে ৩০ জনকে জিম্মায় দেওয়া হয় এবং বাকিদের মাদক সেবন ও নিয়মিত মামলায় আদালতে পাঠানো হয়। কোতোয়ালি থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, যাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে চারজন পরিচিত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। সদর দক্ষিণ মডেল থানা এলাকা থেকে আটক ৪৪ জনের মধ্যে ৩০ জনকে ছেড়ে দিয়ে বাকি ১৪ জনকে ৩৪ ও ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়।

অভিযান চলাকালে বুধবার রাতে দাউদকান্দি মডেল থানায় ৫৯ জন কিশোরকে আটক করা হলে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে একটি পরিত্যক্ত কক্ষে রাখা ২৮ জন কিশোরের অধিকাংশ দরজা ভেঙে বেরিয়ে যায় এবং বাইরে থাকা অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেয়। তবে পুলিশ থানায় হামলা বা ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দাউদকান্দি থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান জানান, কক্ষটির দরজা আগে থেকেই ভাঙা ছিল এবং সেখানে কোনো ভাঙচুর হয়নি। পরে যাচাই-বাছাই শেষে আটক ৫৯ জনের কারও অপরাধে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় সবাইকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, গত বছরের ৩০ নভেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি ২৫০ জনের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছেন। তবে অনেকে দ্রুত মুক্তি পেয়ে আবারও অপরাধে জড়াচ্ছে। এ বিষয়ে জেলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) কাইমুল হক বলেন, মামলার এজাহারে অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও আগের অপরাধের তথ্য না থাকলে আসামিরা সহজে আইনি সুবিধা পেয়ে যায়। বিশেষ করে ৩৪ ও ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হলে তাদের আটকে রাখার সুযোগ কম থাকে। অন্যদিকে, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১-এর সিপিসি-২-এর উপপরিচালক মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, তারা চলতি বছরেই অন্তত ২০ জন গ্যাং লিডারকে গ্রেপ্তার করেছেন এবং গ্যাং প্রধানদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কুমিল্লা নাগরিক অধিকার ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক মো. আবদুল লতিফ বলেন, কিশোর গ্যাং দমনে নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি সন্তানদের গতিবিধির ওপর অভিভাবকদেরও নজর রাখা জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গে ১ লাখ কোটি রুপি বিনিয়োগ করবে আদানি গোষ্ঠী

কুমিল্লায় দেয়ালে কিশোর গ্যাংয়ের নাম, অভিযানেও থামছে না অপরাধ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩৯:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ের টাউন হল এলাকায় সবসময়ই মানুষের আনাগোনা থাকে। কিন্তু এখানকার দেয়ালে দেয়ালে এখন শোভা পাচ্ছে ‘সিবিকে’, ‘ডিবিএক্স’ ও ‘কেজিএস’-এর মতো কিশোর গ্যাংয়ের নাম। সম্প্রতি কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পুলিশি অভিযান চালানো হলেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। পুলিশের সুনির্দিষ্ট তালিকা না থাকা এবং আইনি দুর্বলতার কারণে গ্রেপ্তার হওয়া অপরাধীরা সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

টাউন হলের সামনের ফুটপাতে পোশাক বিক্রেতা আবদুল মোত্তালেব জানান, সন্ধ্যার দিকে উঠতি বয়সী ছেলেরা মাঠে এসে দেয়ালে এসব নাম লেখে। তিনি বলেন, ‘আমরা ওই দিকে তাকাইও না। পোলাপান ভালো না। সন্ধ্যার দিকে উঠতি বয়সী ছেলেরা মাঠে আসে। লেখাগুলো তারাই লিখেছে।’ ২০১৫ সালের দিকে কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। এরপর দলবদ্ধভাবে সড়কে নামা, মোটরসাইকেলে মহড়া ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটেছে। ২০২২ সালে ধর্মসাগরপাড়সহ নগরের বিভিন্ন দেয়ালে গ্যাংয়ের নাম ও লোগো দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের দিকে আলোচিত দলের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২০টিতে দাঁড়ায়। বর্তমানে কুমিল্লা শহরে অন্তত ২০টি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ‘সিবিকে’ বা ‘কুমিল্লা ব্রাদার্স কমিউনিটি’ পুলিশের কাছে পরিচিত। ২০২৪ সালের অক্টোবরে এই দলের নেতা তানজিম আবদুল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যার অধীনে প্রায় ৭৫০ সদস্য থাকার তথ্য মিলেছিল। এছাড়া ‘ডিবিএক্স’ (ডেডলি বয়েজ) ও ‘কেজিএস’ (কিং গ্যাংস্টার স্কোয়াড) নামের গ্যাংগুলোর পেছনে কারা রয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া না গেলেও ডিবিএক্স লেখার পাশে একই কালিতে ‘প্রিন্স নেহাল’ নামটি দেখা গেছে। বর্তমানে কিং স্কোয়াড, রতন গ্রুপ (স্কোয়াড), ইগল, সিবিকে, ক্রাইম সেটআপ, অপু ও সাব্বির গ্রুপ বেশি আলোচনায় রয়েছে। দেয়ালের পাশাপাশি টিকток ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ ব্যবহার করে এসব দল ভারী করা হচ্ছে।

কুমিল্লায় গত এক দশকে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বাড়লেও ২০১৭ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অন্তত ১২টি হত্যাকাণ্ডে এদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ৯ মাসে অন্তত ২৫টি আলোচিত অপরাধের ঘটনায় এসব দলের নাম এসেছে। সম্প্রতি কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার পর কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন লালমাই পাহাড় থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার পাশাপাশি বয়সে বড়দের সঙ্গে অপ্রতিমের যোগাযোগ ও টিকটক ভিডিও তৈরির প্রলোভনের বিষয় সামনে এসেছে।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার ১৮টি থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জনকে আটক করে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান জানান, যাচাই-বাছাই শেষে ৪৫১ জনকে মুচলেকায় অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যাদের বড় অংশই শিক্ষার্থী। বাকি ১৭৩ জনকে বিভিন্ন অভিযোগে আদালতে পাঠানো হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানা এলাকা থেকে ৭১ জনকে আটক করে ৩০ জনকে জিম্মায় দেওয়া হয় এবং বাকিদের মাদক সেবন ও নিয়মিত মামলায় আদালতে পাঠানো হয়। কোতোয়ালি থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার জানান, যাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে চারজন পরিচিত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। সদর দক্ষিণ মডেল থানা এলাকা থেকে আটক ৪৪ জনের মধ্যে ৩০ জনকে ছেড়ে দিয়ে বাকি ১৪ জনকে ৩৪ ও ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়।

অভিযান চলাকালে বুধবার রাতে দাউদকান্দি মডেল থানায় ৫৯ জন কিশোরকে আটক করা হলে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে একটি পরিত্যক্ত কক্ষে রাখা ২৮ জন কিশোরের অধিকাংশ দরজা ভেঙে বেরিয়ে যায় এবং বাইরে থাকা অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেয়। তবে পুলিশ থানায় হামলা বা ভাঙচুরের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দাউদকান্দি থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান জানান, কক্ষটির দরজা আগে থেকেই ভাঙা ছিল এবং সেখানে কোনো ভাঙচুর হয়নি। পরে যাচাই-বাছাই শেষে আটক ৫৯ জনের কারও অপরাধে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় সবাইকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, গত বছরের ৩০ নভেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি ২৫০ জনের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছেন। তবে অনেকে দ্রুত মুক্তি পেয়ে আবারও অপরাধে জড়াচ্ছে। এ বিষয়ে জেলার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) কাইমুল হক বলেন, মামলার এজাহারে অপরাধের সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও আগের অপরাধের তথ্য না থাকলে আসামিরা সহজে আইনি সুবিধা পেয়ে যায়। বিশেষ করে ৩৪ ও ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানো হলে তাদের আটকে রাখার সুযোগ কম থাকে। অন্যদিকে, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১-এর সিপিসি-২-এর উপপরিচালক মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, তারা চলতি বছরেই অন্তত ২০ জন গ্যাং লিডারকে গ্রেপ্তার করেছেন এবং গ্যাং প্রধানদের শনাক্তে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কুমিল্লা নাগরিক অধিকার ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক মো. আবদুল লতিফ বলেন, কিশোর গ্যাং দমনে নিয়মিত নজরদারির পাশাপাশি সন্তানদের গতিবিধির ওপর অভিভাবকদেরও নজর রাখা জরুরি।