লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপে কেন সব জায়গায় ডেভিড বেকহামের উপস্থিতি?

এবারের বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম কিংবা লামিনে ইয়ামালরা আলো কেড়ে নিলেও মাঠের বাইরে দর্শকদের মূল নজর ছিল ডেভিড বেকহামের দিকে। বিশ্বকাপের ভেন্যু থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বেকহামের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি ছিলেন ফিফার আনুষ্ঠানিক অ্যাম্বাসেডর এবং অ্যাডিডাসের বিজ্ঞাপনের অন্যতম মুখ। এ ছাড়াও ম্যাকডোনাল্ড, এমএলএস, হোম ডিপো ও ব্যাংক অব আমেরিকার মতো প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনেও তাকে দেখা গেছে। ইংল্যান্ডের প্রতিটি ম্যাচে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি ফাইনাল ম্যাচে টম ক্রুজের সঙ্গেও তাকে দেখা গেছে।

বেকহামের এই বিশাল জনপ্রিয়তার মূলে রয়েছে ২০০৭ সালে তার এলএ গ্যালাক্সিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত। তৎকালীন রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ইউরোপের বড় দলগুলোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অপরিচিত এক লিগে যোগ দিয়েছিলেন। তার সেই সিদ্ধান্তের এক বছরের মধ্যেই মেজর লিগ সকার (এমএলএস) রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মূলত বেকহামের হাত ধরেই আমেরিকার অধিকাংশ মানুষের ফুটবলের সঙ্গে পরিচয় ঘটে।

এমএলএসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান কোর্টমানশ বেকহামের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তিনি এমএলএসের ভাগ্য দুবার পরিবর্তন করেছেন—একবার খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দিয়ে এবং দ্বিতীয়বার দল কিনে। ২০১৯ সালে ইন্টার মায়ামি ক্লাবটি কেনার পর থেকেই তিনি নিজের স্টারপাওয়ার কাজে লাগিয়ে একের পর এক তারকা খেলোয়াড় দলে ভেড়াতে থাকেন। ২০২৩ সালে তার উদ্যোগেই লিওনেল মেসি আমেরিকায় পাড়ি জমান, যা এমএলএসের জনপ্রিয়তা ও দর্শক সংখ্যা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

১৯৯৪ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা যখন পড়তির দিকে ছিল, তখন বেকহামের আগমন সেই চিত্র বদলে দেয়। তার ফেসভ্যালু মাঠে লাখো সমর্থককে ফিরিয়ে আনে। বলা হচ্ছে, বেকহাম না থাকলে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বপ্ন আমেরিকার জন্য অধরাই থেকে যেত। লস অ্যাঞ্জেলেসে ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও সময়ের পরিক্রমায় তিনি আজ এক কালচারাল আইকন। তাই এমএলএসের সঙ্গে দুই দশক ধরে জড়িয়ে থাকা এই মানুষটিকে বিশ্বকাপের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখা যাওয়াটা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কিন্তু বেকহামের এক ফোন বদলে দিয়েছে সবকিছু।.‘৮০০ পাসে মৃত্যু’ থেকে ‘স্বপ্নের সমাপ্তি’—মেসিদের বিদায়ে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম.গত তিন বছরে বিদেশে যেমন এমএলএসের দর্শক বেড়েছে, তেমনইভাবে আমেরিকানরাও নিচ্ছেন এমএলএসের সাবস্ক্রিপশন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুর কলেজে দেয়াল ধসে ২ জনের মৃত্যু, আহত অন্তত ৭

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপে কেন সব জায়গায় ডেভিড বেকহামের উপস্থিতি?

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৪৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

এবারের বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ে কিলিয়ান এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম কিংবা লামিনে ইয়ামালরা আলো কেড়ে নিলেও মাঠের বাইরে দর্শকদের মূল নজর ছিল ডেভিড বেকহামের দিকে। বিশ্বকাপের ভেন্যু থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বেকহামের সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। তিনি ছিলেন ফিফার আনুষ্ঠানিক অ্যাম্বাসেডর এবং অ্যাডিডাসের বিজ্ঞাপনের অন্যতম মুখ। এ ছাড়াও ম্যাকডোনাল্ড, এমএলএস, হোম ডিপো ও ব্যাংক অব আমেরিকার মতো প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনেও তাকে দেখা গেছে। ইংল্যান্ডের প্রতিটি ম্যাচে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি ফাইনাল ম্যাচে টম ক্রুজের সঙ্গেও তাকে দেখা গেছে।

বেকহামের এই বিশাল জনপ্রিয়তার মূলে রয়েছে ২০০৭ সালে তার এলএ গ্যালাক্সিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত। তৎকালীন রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ইউরোপের বড় দলগুলোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অপরিচিত এক লিগে যোগ দিয়েছিলেন। তার সেই সিদ্ধান্তের এক বছরের মধ্যেই মেজর লিগ সকার (এমএলএস) রাতারাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মূলত বেকহামের হাত ধরেই আমেরিকার অধিকাংশ মানুষের ফুটবলের সঙ্গে পরিচয় ঘটে।

এমএলএসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান কোর্টমানশ বেকহামের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তিনি এমএলএসের ভাগ্য দুবার পরিবর্তন করেছেন—একবার খেলোয়াড় হিসেবে যোগ দিয়ে এবং দ্বিতীয়বার দল কিনে। ২০১৯ সালে ইন্টার মায়ামি ক্লাবটি কেনার পর থেকেই তিনি নিজের স্টারপাওয়ার কাজে লাগিয়ে একের পর এক তারকা খেলোয়াড় দলে ভেড়াতে থাকেন। ২০২৩ সালে তার উদ্যোগেই লিওনেল মেসি আমেরিকায় পাড়ি জমান, যা এমএলএসের জনপ্রিয়তা ও দর্শক সংখ্যা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

১৯৯৪ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবলের জনপ্রিয়তা যখন পড়তির দিকে ছিল, তখন বেকহামের আগমন সেই চিত্র বদলে দেয়। তার ফেসভ্যালু মাঠে লাখো সমর্থককে ফিরিয়ে আনে। বলা হচ্ছে, বেকহাম না থাকলে ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বপ্ন আমেরিকার জন্য অধরাই থেকে যেত। লস অ্যাঞ্জেলেসে ফুটবলার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও সময়ের পরিক্রমায় তিনি আজ এক কালচারাল আইকন। তাই এমএলএসের সঙ্গে দুই দশক ধরে জড়িয়ে থাকা এই মানুষটিকে বিশ্বকাপের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেখা যাওয়াটা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কিন্তু বেকহামের এক ফোন বদলে দিয়েছে সবকিছু।.‘৮০০ পাসে মৃত্যু’ থেকে ‘স্বপ্নের সমাপ্তি’—মেসিদের বিদায়ে আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম.গত তিন বছরে বিদেশে যেমন এমএলএসের দর্শক বেড়েছে, তেমনইভাবে আমেরিকানরাও নিচ্ছেন এমএলএসের সাবস্ক্রিপশন।