লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই অধিবেশন শেষেও ৩৫ সংসদীয় কমিটি গঠন বাকি, ধীরগতিতে উদ্বেগ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দুটি অধিবেশন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অধিকাংশ সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করতে পারেনি ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। সংসদীয় কার্যপ্রণালিবিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, ৫০টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির মধ্যে মাত্র ১৫টি গঠিত হয়েছে। ফলে এখনও ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটি গঠনের কাজ বাকি রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কমিটি গঠনে এই ধীরগতি সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চাকে ব্যাহত করছে এবং মন্ত্রণালয়গুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে দিচ্ছে।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে সংসদীয় কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি এবং এক ধরনের 'ছায়া সরকার' হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তাদের সফলতা-ব্যর্থতার পাশাপাশি কোথাও কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা স্বজনপ্রীতির ঘটনা ঘটছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব এই কমিটিগুলোর। এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা অসীম না হলেও তারা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও ভালো-মন্দ তদারকি করতে পারে। মন্ত্রণালয়গুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত ইতিবাচক। কমিটি গঠনে দেরি হলে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম দেখভালের ক্ষেত্রে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে কমিটি গঠনে বিলম্বের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি জানান, অনেক সময় চাইলেই দ্রুততার সঙ্গে সব কমিটি গঠন করা সম্ভব হয় না। যেগুলো দ্রুত করা প্রয়োজন ছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে করা হয়েছে। কিছু কমিটি রয়েছে যা স্পিকার নিজে গঠন করবেন। এছাড়া সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে নামের তালিকা চাওয়া হয়েছে, তারা নাম দিলেই বাকি কমিটিগুলোর গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। কার্যপ্রণালিবিধি অনুযায়ী তিনটি অধিবেশনের মধ্যে সব কমিটি গঠন করার নিয়ম উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যেই সব কমিটি গঠিত হয়ে যাবে।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালিবিধির ২৪৬ বিধি এবং সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যেই প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি করে স্থায়ী কমিটি গঠন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই কমিটিগুলোর মূল কাজ হলো খসড়া বিল ও অন্যান্য আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাব পরীক্ষা করা, আইনের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা, কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ দেওয়া এবং সংসদের অর্পিত অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা।

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের নেতৃত্বে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করার পর এটি বিএনপির প্রথম মেয়াদ। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদের বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াতে ইসলামী। গত ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ২৫ কার্যদিবস চলে, যেখানে ৯৪টি বিল পাস হওয়ার পাশাপাশি ৫টি স্থায়ী ও ২টি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়। এরপর গত ৭ জুন শুরু হয় দ্বিতীয় তথা বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন। ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন এবং ৩০ জুন তা পাস হয়। ১৫ জুলাই সমাপ্ত হওয়া ২৬ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে আরও ১০টি স্থায়ী কমিটি এবং ১টি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। সব মিলিয়ে দুই অধিবেশনের ৫১ কার্যদিবসে ৩টি বিশেষ সমিতিসহ মোট ১৮টি কমিটি গঠিত হলেও মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৩৫টি কমিটির কাজ এখনও ঝুলে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিটি করপোরেশন হচ্ছে কক্সবাজার, শুরু হলো প্রশাসনিক কার্যক্রম

দুই অধিবেশন শেষেও ৩৫ সংসদীয় কমিটি গঠন বাকি, ধীরগতিতে উদ্বেগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৫৮:০০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দুটি অধিবেশন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত অধিকাংশ সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করতে পারেনি ক্ষমতাসীন দল বিএনপি। সংসদীয় কার্যপ্রণালিবিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব কমিটি গঠনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও, ৫০টি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির মধ্যে মাত্র ১৫টি গঠিত হয়েছে। ফলে এখনও ৩৫টি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটি গঠনের কাজ বাকি রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, কমিটি গঠনে এই ধীরগতি সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বাভাবিক চর্চাকে ব্যাহত করছে এবং মন্ত্রণালয়গুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে দিচ্ছে।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে সংসদীয় কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি এবং এক ধরনের 'ছায়া সরকার' হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় সঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তাদের সফলতা-ব্যর্থতার পাশাপাশি কোথাও কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা স্বজনপ্রীতির ঘটনা ঘটছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব এই কমিটিগুলোর। এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা অসীম না হলেও তারা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও ভালো-মন্দ তদারকি করতে পারে। মন্ত্রণালয়গুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত ইতিবাচক। কমিটি গঠনে দেরি হলে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম দেখভালের ক্ষেত্রে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

তবে কমিটি গঠনে বিলম্বের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি জানান, অনেক সময় চাইলেই দ্রুততার সঙ্গে সব কমিটি গঠন করা সম্ভব হয় না। যেগুলো দ্রুত করা প্রয়োজন ছিল, সেগুলো ইতোমধ্যে করা হয়েছে। কিছু কমিটি রয়েছে যা স্পিকার নিজে গঠন করবেন। এছাড়া সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে নামের তালিকা চাওয়া হয়েছে, তারা নাম দিলেই বাকি কমিটিগুলোর গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। কার্যপ্রণালিবিধি অনুযায়ী তিনটি অধিবেশনের মধ্যে সব কমিটি গঠন করার নিয়ম উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যেই সব কমিটি গঠিত হয়ে যাবে।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালিবিধির ২৪৬ বিধি এবং সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের মধ্যেই প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি করে স্থায়ী কমিটি গঠন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই কমিটিগুলোর মূল কাজ হলো খসড়া বিল ও অন্যান্য আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত প্রস্তাব পরীক্ষা করা, আইনের বাস্তবায়ন পর্যালোচনা করা, কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সুপারিশ দেওয়া এবং সংসদের অর্পিত অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখা।

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের নেতৃত্বে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করার পর এটি বিএনপির প্রথম মেয়াদ। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদের বিরোধী দলের আসনে বসেছে জামায়াতে ইসলামী। গত ১২ মার্চ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ২৫ কার্যদিবস চলে, যেখানে ৯৪টি বিল পাস হওয়ার পাশাপাশি ৫টি স্থায়ী ও ২টি বিশেষ কমিটি গঠিত হয়। এরপর গত ৭ জুন শুরু হয় দ্বিতীয় তথা বর্তমান সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন। ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন এবং ৩০ জুন তা পাস হয়। ১৫ জুলাই সমাপ্ত হওয়া ২৬ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে আরও ১০টি স্থায়ী কমিটি এবং ১টি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। সব মিলিয়ে দুই অধিবেশনের ৫১ কার্যদিবসে ৩টি বিশেষ সমিতিসহ মোট ১৮টি কমিটি গঠিত হলেও মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৩৫টি কমিটির কাজ এখনও ঝুলে রয়েছে।