লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক: মোদি সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ

ভারতে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। শিক্ষায় দুর্নীতি ও প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলোর যৌথ চাপ মোদি সরকারকে বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোও দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ধরনা কর্মসূচি পালিত হয়, যেখানে সমাজবাদী পার্টি ও উদ্ভব শিবসেনার মতো দলগুলোও অংশ নেয়।

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। বিরোধীদের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদের বাইরে প্রশ্নফাঁস নিয়ে কথা বললেও সংসদে এসে কেন নীরব থাকছেন। ছাত্র-যুবদের মিছিলে পুলিশি হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এবং এটি নিয়ে আলোচনার দাবি তুলে রাজ্যসভায় নোটিশ দিয়েছেন তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নাদিমুল হক। সংসদে সরকার পক্ষ নিট নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত বলে জানালেও বিরোধীদের দাবি স্পষ্ট—আগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। রাজ্যসভার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো বিতর্ক বা আলোচনা হবে না।

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি আবেদন করা হয়েছিল। এর শুনানিতে আদালত দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রকে নোটিশ জারি করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ সব প্রাসঙ্গিক নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে, আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, যেকোনো আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। দলের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, বিজেপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা তাদের আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানালেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। সৌরভ দাস বলেন, ‘আমরা কারও বাড়ি বা অফিসে যাব না। যন্তর মন্তরেই আমাদের জনতা দরবার চলছে, মন্ত্রীরা কথা বলতে চাইলে তাদের এখানেই আসতে হবে।’

আন্দোলনের অন্যতম সহযোগী লাদাখের পরিবেশবাদী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাতে মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জীতেন্দ্র সিং। তবে ওয়াংচুক শর্ত দিয়েছেন, সংসদ চলো কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে পুলিশ যেসব শিক্ষার্থীকে আটকে রেখেছে, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। অন্যদিকে, সিজেপির পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানানো হয়েছে। দলটি লিখেছে, ‘সোনম স্যারের আত্মত্যাগ একটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা তাকে স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার অনুরোধ করছি এবং প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, ন্যায়বিচারের লড়াই আরও শক্তিশালীভাবে চলবে।’

এই আন্দোলনের আঁচ এখন ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে নিউ ইয়র্ক ও লন্ডনের মতো আন্তর্জাতিক শহরেও পৌঁছেছে। অনশনরত ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়ে ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’ নামের একটি এডভোকেসি গ্রুপের সদস্যরা নিউ ইয়র্কের ইউনিয়ন স্কোয়্যার এবং সান হোসে শহরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। সেখান থেকেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি উঠেছে। এছাড়া লন্ডন এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনেও এই গ্রুপের সদস্যরা বিক্ষোভ করেছেন।

নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন: প্রথমত, ব্যর্থ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ; দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশনের নির্দেশদাতা ও বাস্তবায়নকারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা; এবং তৃতীয়ত, পুরো ব্যবস্থার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, গত ১০ বছরে দেশে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, যার ফলে প্রায় সাড়ে সাত কোটি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে একজন অপরাধীরও সাজা হয়নি।

তবে নিটের প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা পড়ুয়াদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে বলে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, দিল্লিতে এই ধারাবাহিক বিক্ষোভ গভীর উদ্বেগের বিষয় এবং কিছু মানুষ দেশের ছাত্র-যুবদের রাজনৈতিক স্বার্থে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রাজিলের জার্সিতে আর দেখা যাবে না নেইমারকে

নিট প্রশ্নফাঁস বিতর্ক: মোদি সরকারের ওপর বাড়ছে চাপ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩০:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ভারতে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। শিক্ষায় দুর্নীতি ও প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবং বিরোধী দলগুলোর যৌথ চাপ মোদি সরকারকে বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোও দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের নেতৃত্বে ধরনা কর্মসূচি পালিত হয়, যেখানে সমাজবাদী পার্টি ও উদ্ভব শিবসেনার মতো দলগুলোও অংশ নেয়।

পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। বিরোধীদের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংসদের বাইরে প্রশ্নফাঁস নিয়ে কথা বললেও সংসদে এসে কেন নীরব থাকছেন। ছাত্র-যুবদের মিছিলে পুলিশি হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এবং এটি নিয়ে আলোচনার দাবি তুলে রাজ্যসভায় নোটিশ দিয়েছেন তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নাদিমুল হক। সংসদে সরকার পক্ষ নিট নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত বলে জানালেও বিরোধীদের দাবি স্পষ্ট—আগে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। রাজ্যসভার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া কোনো বিতর্ক বা আলোচনা হবে না।

শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দিল্লি হাইকোর্টে একটি আবেদন করা হয়েছিল। এর শুনানিতে আদালত দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রকে নোটিশ জারি করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ সব প্রাসঙ্গিক নথি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। এদিকে, আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ স্পষ্ট জানিয়েছে যে, যেকোনো আলোচনার উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। দলের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, বিজেপি সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা তাদের আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানালেও তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। সৌরভ দাস বলেন, ‘আমরা কারও বাড়ি বা অফিসে যাব না। যন্তর মন্তরেই আমাদের জনতা দরবার চলছে, মন্ত্রীরা কথা বলতে চাইলে তাদের এখানেই আসতে হবে।’

আন্দোলনের অন্যতম সহযোগী লাদাখের পরিবেশবাদী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানাতে মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে যান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও জীতেন্দ্র সিং। তবে ওয়াংচুক শর্ত দিয়েছেন, সংসদ চলো কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে পুলিশ যেসব শিক্ষার্থীকে আটকে রেখেছে, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। অন্যদিকে, সিজেপির পক্ষ থেকে সমাজমাধ্যমে সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাকে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানানো হয়েছে। দলটি লিখেছে, ‘সোনম স্যারের আত্মত্যাগ একটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা তাকে স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার অনুরোধ করছি এবং প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, ন্যায়বিচারের লড়াই আরও শক্তিশালীভাবে চলবে।’

এই আন্দোলনের আঁচ এখন ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে নিউ ইয়র্ক ও লন্ডনের মতো আন্তর্জাতিক শহরেও পৌঁছেছে। অনশনরত ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়ে ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’ নামের একটি এডভোকেসি গ্রুপের সদস্যরা নিউ ইয়র্কের ইউনিয়ন স্কোয়্যার এবং সান হোসে শহরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। সেখান থেকেও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি উঠেছে। এছাড়া লন্ডন এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনেও এই গ্রুপের সদস্যরা বিক্ষোভ করেছেন।

নয়াদিল্লিতে কংগ্রেস সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আন্দোলনকারীদের তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরেন: প্রথমত, ব্যর্থ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের অবিলম্বে পদত্যাগ; দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশনের নির্দেশদাতা ও বাস্তবায়নকারীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা; এবং তৃতীয়ত, পুরো ব্যবস্থার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা। রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, গত ১০ বছরে দেশে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে, যার ফলে প্রায় সাড়ে সাত কোটি শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে একজন অপরাধীরও সাজা হয়নি।

তবে নিটের প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধীরা পড়ুয়াদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে বলে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, দিল্লিতে এই ধারাবাহিক বিক্ষোভ গভীর উদ্বেগের বিষয় এবং কিছু মানুষ দেশের ছাত্র-যুবদের রাজনৈতিক স্বার্থে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে।