লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিমলায় কৃত্রিম সংকটের প্রতিবাদ করায় গ্রাহককে রডপেটা, পাম্প বন্ধ

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রতিবাদ করায় গ্রাহকদের লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক ফিলিং স্টেশন মালিকের বিরুদ্ধে। গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ / 2026) দিবাগত রাত ২টার দিকে ডিমলার ‘মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টার’-এ এই ঘটনা ঘটে। এ হামলায় এক কেমিস্টসহ দুইজন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন, যাদের মধ্যে গুরুতর আহত এক গ্রাহক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রবিবার রাতে সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের ঘোষণার পরপরই মেসার্স আলম ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। রাত ১২টা থেকে নতুন বর্ধিত দাম কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, রাত সাড়ে ১০টা থেকেই পাম্পের কর্মচারীরা সংযোগ বন্ধ করে সটকে পড়েন। গ্রাহকদের অভিযোগ, মূল ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও পাম্পের ডিজিটাল কানেকশন বন্ধ রাখা হয়েছিল। মূলত রাত ১২টার পর বর্ধিত মূল্যে তেল বিক্রি করে অবৈধ মুনাফা লোটার উদ্দেশ্যেই প্রোপাইটর শাহ আলমের নির্দেশে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়।

ঠিক রাত ১২টায় পাম্পের মালিক শাহ আলম মেশিনে নতুন বর্ধিত দাম সেটআপ করা শুরু করলে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষায় থাকা ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা এর প্রতিবাদ জানান। তারা পূর্বনির্ধারিত আগের দামেই তেল দেওয়ার দাবি তোলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহ আলম ক্যাশ কাউন্টার থেকে একটি ভারী লোহার রড এনে গ্রাহকদের ওপর চড়াও হন। তার অতর্কিত হামলায় কেমিস্ট আব্দুল কাদের ও মাহবুবুর রহমান (২৭) নামের এক গ্রাহক রক্তাক্ত আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় মাহবুবুর রহমানকে উদ্ধার করে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পাম্প চত্বরে এই হট্টগোলের খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ডিমলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ডিমলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই ফিলিং স্টেশনের সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে পাম্প মালিক শাহ আলম দাবি করেছেন, বিদ্যুৎ সংযোগে ত্রুটি থাকার কারণে সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ ছিল। উল্টো তাদের কর্মচারীদের ওপরই প্রথমে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তার। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তার পাম্পে আগের দামে কেনা ১০ হাজার ৪৯৭ লিটার পেট্রোল, ১০ হাজার ৩৮০ লিটার অকটেন এবং প্রায় ১১ হাজার লিটার ডিজেল মজুদ রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের ৬ মামলা

ডিমলায় কৃত্রিম সংকটের প্রতিবাদ করায় গ্রাহককে রডপেটা, পাম্প বন্ধ

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:১০:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রতিবাদ করায় গ্রাহকদের লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক ফিলিং স্টেশন মালিকের বিরুদ্ধে। গত রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ / 2026) দিবাগত রাত ২টার দিকে ডিমলার ‘মেসার্স আলম ফিলিং সেন্টার’-এ এই ঘটনা ঘটে। এ হামলায় এক কেমিস্টসহ দুইজন রক্তাক্ত জখম হয়েছেন, যাদের মধ্যে গুরুতর আহত এক গ্রাহক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রবিবার রাতে সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের ঘোষণার পরপরই মেসার্স আলম ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। রাত ১২টা থেকে নতুন বর্ধিত দাম কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, রাত সাড়ে ১০টা থেকেই পাম্পের কর্মচারীরা সংযোগ বন্ধ করে সটকে পড়েন। গ্রাহকদের অভিযোগ, মূল ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও পাম্পের ডিজিটাল কানেকশন বন্ধ রাখা হয়েছিল। মূলত রাত ১২টার পর বর্ধিত মূল্যে তেল বিক্রি করে অবৈধ মুনাফা লোটার উদ্দেশ্যেই প্রোপাইটর শাহ আলমের নির্দেশে এই কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়।

ঠিক রাত ১২টায় পাম্পের মালিক শাহ আলম মেশিনে নতুন বর্ধিত দাম সেটআপ করা শুরু করলে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা ধরে অপেক্ষায় থাকা ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা এর প্রতিবাদ জানান। তারা পূর্বনির্ধারিত আগের দামেই তেল দেওয়ার দাবি তোলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহ আলম ক্যাশ কাউন্টার থেকে একটি ভারী লোহার রড এনে গ্রাহকদের ওপর চড়াও হন। তার অতর্কিত হামলায় কেমিস্ট আব্দুল কাদের ও মাহবুবুর রহমান (২৭) নামের এক গ্রাহক রক্তাক্ত আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় মাহবুবুর রহমানকে উদ্ধার করে ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

পাম্প চত্বরে এই হট্টগোলের খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ডিমলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ডিমলা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দিবাকর অধিকারী জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই ফিলিং স্টেশনের সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

তবে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে পাম্প মালিক শাহ আলম দাবি করেছেন, বিদ্যুৎ সংযোগে ত্রুটি থাকার কারণে সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ ছিল। উল্টো তাদের কর্মচারীদের ওপরই প্রথমে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি তার। তিনি আরও জানান, বর্তমানে তার পাম্পে আগের দামে কেনা ১০ হাজার ৪৯৭ লিটার পেট্রোল, ১০ হাজার ৩৮০ লিটার অকটেন এবং প্রায় ১১ হাজার লিটার ডিজেল মজুদ রয়েছে।