লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১, পানিবন্দী লাখো মানুষ

চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ১২ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৪৪ জন। এখন পর্যন্ত কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বন্যার কবলে পড়া ৫৯টি উপজেলায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। সরকারি হিসাবে মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার পাশাপাশি সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও বন্যার প্রভাব বিস্তার করেছে।

বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের শেলী আক্তারের মতো হাজারো মানুষ এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। টানা পাঁচ দিন ধরে মাটির ঘরের মেঝে তলিয়ে থাকায় কাঠের তক্তা ও ঝুড়ির মাচায় দিন কাটছে তাদের। বাঁশখালীর মো. ফারুকের মতো অনেকের বাড়িঘর ধসে পড়েছে, যার ফলে তারা আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশের বিস্তীর্ণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সিলেট বিভাগের নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি বৃষ্টির পরিমাণের ওপর নির্ভর করছে।

কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, রামু ও সদর এলাকায় বন্যার পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কমেনি। কোথাও কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে, ফলে নৌকাই এখন যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। বেশিরভাগ এলাকায় নলকূপ তলিয়ে থাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে, সেই সঙ্গে রান্না করা খাবার ও গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিয়েও মানুষ চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালী নিয়ে ইরান-ওমান আলোচনার খবরে তেলের দাম হ্রাস

বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১, পানিবন্দী লাখো মানুষ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০০:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম অঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ১২ জুলাইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিন ছিল ৪৪ জন। এখন পর্যন্ত কক্সবাজারে সর্বোচ্চ ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

বন্যার কবলে পড়া ৫৯টি উপজেলায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার। সরকারি হিসাবে মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার পাশাপাশি সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জেও বন্যার প্রভাব বিস্তার করেছে।

বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের শেলী আক্তারের মতো হাজারো মানুষ এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। টানা পাঁচ দিন ধরে মাটির ঘরের মেঝে তলিয়ে থাকায় কাঠের তক্তা ও ঝুড়ির মাচায় দিন কাটছে তাদের। বাঁশখালীর মো. ফারুকের মতো অনেকের বাড়িঘর ধসে পড়েছে, যার ফলে তারা আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁশখালী, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশের বিস্তীর্ণ এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এই ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে ১ হাজার ৩৫৪ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া জানান, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও সিলেট বিভাগের নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতি বৃষ্টির পরিমাণের ওপর নির্ভর করছে।

কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী, রামু ও সদর এলাকায় বন্যার পানি কিছুটা কমলেও দুর্ভোগ কমেনি। কোথাও কোথাও বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে, ফলে নৌকাই এখন যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। বেশিরভাগ এলাকায় নলকূপ তলিয়ে থাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে, সেই সঙ্গে রান্না করা খাবার ও গবাদিপশুর নিরাপত্তা নিয়েও মানুষ চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।