লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাদ্য উৎপাদনে অগ্রগতি সত্ত্বেও নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে দুই কোটি মানুষ

চলতি বছরে বাংলাদেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে দেশের নিরাপদ খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর গত ৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় এক কোটি ৮১ লাখ মানুষ এই সংকটের কবলে পড়তে পারেন, যার মধ্যে সাত লাখ ৮৭ হাজার মানুষ জরুরি পরিস্থিতির (আইপিসি ফেজ-৪) ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা ও সেমিনার আজ শুক্রবার রাজধানীর ফার্মগেটের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কৃষি সচিব মো. সেলিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মাসুদ রানা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও এফএও প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি এবং ইফাদের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ভ্যালেন্টাইন আচানচো এতে অংশ নেবেন।

বাংলাদেশ কৃষক মজুর সংহতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম জানান, কৃষিজমি হ্রাস এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার অনুপাতে খাদ্যশস্য উৎপাদন না বাড়ায় খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া নকল ও নিম্নমানের বীজের প্রভাব, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশকের ব্যবহারে নিরাপদ খাদ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব, জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে অসময়ে বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো চরম আবহাওয়া উপকূলীয় ও হাওর অঞ্চলের ফসলকে নিয়মিত ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এতসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ধান, চাল, মাছ ও সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম মনে করেন, ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট মোকাবিলায় জলবায়ুর সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া নতুন উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিকর জাতের ফসলের গবেষণা বাড়াতে হবে। তিনি জৈব কৃষি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে মাটির উর্বরতা রক্ষা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের ফসলের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি জেলা-উপজেলা পর্যায়েও র‍্যালি, কৃষক সমাবেশ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া গণসংহতি আন্দোলনের উদ্যোগে রাজধানীর হাতিরপুলে ‘বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি: রাষ্ট্রের দায় ও করণীয়’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। কৃষি সচিব মো. সেলিম খানের মতে, বিশ্ব খাদ্য দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ক্ষুধামুক্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি হিসেবে সরকার, গবেষক ও কৃষকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বর্তমান সংকট উত্তরণের লক্ষ্যে কাজ করছে।

এবার বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য—‘আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি’। দিনটি উপলক্ষে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ১৯৪৫ সালে ১৬ অক্টোবরকে বিশ্ব খাদ্য দিবস ঘোষণা করলেও ১৯৭৯ সাল থেকে প্রতি বছর দিবসটি পালন করা হয়।

বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপন উপলক্ষে দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিস্তারিত কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় রাজধানীর ফার্মগেটের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে বিশ্ব খাদ্য দিবসের মূল আলোচনা সভা ও সেমিনার হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরাজগঞ্জে সরকারি খেলার মাঠ দখল করে ট্রাক্টরে হাল-চাষ

খাদ্য উৎপাদনে অগ্রগতি সত্ত্বেও নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে দুই কোটি মানুষ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০২:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬

চলতি বছরে বাংলাদেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে দেশের নিরাপদ খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-এর গত ৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় এক কোটি ৮১ লাখ মানুষ এই সংকটের কবলে পড়তে পারেন, যার মধ্যে সাত লাখ ৮৭ হাজার মানুষ জরুরি পরিস্থিতির (আইপিসি ফেজ-৪) ঝুঁকিতে রয়েছেন।

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা ও সেমিনার আজ শুক্রবার রাজধানীর ফার্মগেটের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কৃষি সচিব মো. সেলিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন-উর রশীদ, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মাসুদ রানা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও এফএও প্রতিনিধি ড. জিয়াওকুন শি এবং ইফাদের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. ভ্যালেন্টাইন আচানচো এতে অংশ নেবেন।

বাংলাদেশ কৃষক মজুর সংহতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম জানান, কৃষিজমি হ্রাস এবং ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার অনুপাতে খাদ্যশস্য উৎপাদন না বাড়ায় খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া নকল ও নিম্নমানের বীজের প্রভাব, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত রাসায়নিক ও কীটনাশকের ব্যবহারে নিরাপদ খাদ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব, জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক চাপের কারণে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে অসময়ে বন্যা, খরা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির মতো চরম আবহাওয়া উপকূলীয় ও হাওর অঞ্চলের ফসলকে নিয়মিত ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

এতসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ধান, চাল, মাছ ও সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম মনে করেন, ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট মোকাবিলায় জলবায়ুর সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া নতুন উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিকর জাতের ফসলের গবেষণা বাড়াতে হবে। তিনি জৈব কৃষি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে মাটির উর্বরতা রক্ষা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকের ফসলের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন।

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি জেলা-উপজেলা পর্যায়েও র‍্যালি, কৃষক সমাবেশ ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া গণসংহতি আন্দোলনের উদ্যোগে রাজধানীর হাতিরপুলে ‘বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি: রাষ্ট্রের দায় ও করণীয়’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। কৃষি সচিব মো. সেলিম খানের মতে, বিশ্ব খাদ্য দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ক্ষুধামুক্ত ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি হিসেবে সরকার, গবেষক ও কৃষকদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বর্তমান সংকট উত্তরণের লক্ষ্যে কাজ করছে।

এবার বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য—‘আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি’। দিনটি উপলক্ষে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ১৯৪৫ সালে ১৬ অক্টোবরকে বিশ্ব খাদ্য দিবস ঘোষণা করলেও ১৯৭৯ সাল থেকে প্রতি বছর দিবসটি পালন করা হয়।

বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপন উপলক্ষে দেশে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিস্তারিত কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল ৯টায় রাজধানীর ফার্মগেটের বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) মিলনায়তনে বিশ্ব খাদ্য দিবসের মূল আলোচনা সভা ও সেমিনার হবে।