লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামে যেসব স্থলজ প্রাণী খাওয়া নিষিদ্ধ

মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলাম সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট সমাধান দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খাদ্যগ্রহণ। শরিয়তে কোন প্রাণী খাওয়া হালাল এবং কোনটি হারাম বা নিষিদ্ধ, তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা আনআমের ১৪৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনি বলে দিন, আমার প্রতি যে ওহি বা প্রত্যাদেশ করা হয়েছে, তাতে মানুষ যা আহার করে তার কিছুই নিষিদ্ধ পাই না মৃত, প্রবহমান রক্ত ও শূকরের মাংস ছাড়া। কারণ তা অপবিত্র।’

ইসলামের আবির্ভাবের আগে আরবরা তাদের ইচ্ছামতো অনেক কিছু আহার করত এবং অনেক কিছু ঘৃণাবশত বর্জন করত। পরবর্তীতে মহান আল্লাহর আদেশে রাসুলুল্লাহ (সা.) হালাল ও হারাম নির্ধারণ করে দেন। সুরা আরাফের ১৫৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুগুলো হালাল করেছেন এবং অপবিত্র ও নোংরা বস্তুগলো হারাম করেছেন।’

সাধারণত প্রাণীকুলকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়—মাটিতে বিচরণকারী বা স্থলজ প্রাণী এবং পানিতে বসবাসকারী বা জলজ প্রাণী। জলজ প্রাণীদের মধ্যে একমাত্র মাছ ছাড়া অন্য সব প্রাণী খাওয়া নিষিদ্ধ বা হারাম। অন্যদিকে স্থলজ প্রাণীদের তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রথম ভাগে রয়েছে যেসব প্রাণীর শরীরে কোনো রক্ত নেই, যেমন—মশা, মাছি, মাকড়সা ও পিঁপড়া। দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে প্রবাহিত রক্তহীন প্রাণী, যেমন—সাপ ও ইঁদুর। এই দুই প্রকার প্রাণীর মধ্যে কেবল ‘টিড্ডি’ (এক ধরনের ফড়িং) ছাড়া বাকি সব প্রাণীই ঘৃণিত ও নিকৃষ্ট হওয়ার কারণে খাওয়া হারাম করা হয়েছে।

তৃতীয় ভাগে রয়েছে প্রবাহিত রক্তবিশিষ্ট প্রাণী, যার মধ্যে পাখি ও চতুষ্পদ জন্তু অন্তর্ভুক্ত। পাখির ক্ষেত্রে যেসব পাখি থাবা ও নখের সাহায্যে শিকার করে, যেমন—চিল, শকুন, বাজ ও ঈগল, সেগুলো খাওয়া মাকরুহে তাহরিমি বা নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে সহিহ বুখারির ৫৫৩০ নম্বর হাদিসে আবু সালাবা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক শিকারি দাঁতবিশিষ্ট হিংস্র প্রাণী ও প্রত্যেক শিকারি নখবিশিষ্ট পাখি খেতে নিষেধ করেছেন।’ তবে যেসব পাখি ঠোঁটের সাহায্যে খাবার খায়, সেগুলো খাওয়া হালাল। এ ধরনের পাখির মধ্যে যেগুলো সাধারণত নাপাকি বা নোংরা জিনিস খায়, সেগুলো খাওয়া মাকরুহ। তবে তাদের বেশিরভাগ খাবার যদি হালাল হয়, তবে সেগুলো খাওয়া হালাল হিসেবে গণ্য হবে।

পশুদের মধ্যে যেসব হিংস্র প্রাণী থাবা মেরে ও আক্রমণ করে শিকার করে, যেমন—সিংহ, বাঘ, কুকুর, শিয়াল, বিড়াল, বানর ও হাতি, সেগুলো খাওয়া হারাম। অন্যদিকে অহিংস্র পশুদের মধ্যে যেগুলোর পুরো শরীর পবিত্র, সেগুলো খাওয়া হালাল। এর মধ্যে রয়েছে গৃহপালিত গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া, উট ও দুম্বা। বন্য পশুর মধ্যে বন্য গরু, হরিণ, খরগোশ ও বন্য গাধা খাওয়া যাবে। তবে যেসব প্রাণীর পুরো শরীর অপবিত্র, যেমন—শূকর, তা সম্পূর্ণ হারাম।

এছাড়া সব ধরনের ঘোড়া ও গৃহপালিত গাধা খাওয়া মাকরুহ। হালাল প্রাণীর তালিকায় থাকা সত্ত্বেও যেসব প্রাণী সবসময় অপবিত্র জিনিস খেয়ে বেঁচে থাকে, সেগুলো খাওয়াও মাকরুহ। এ বিষয়ে সাহাবি জাবের (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) খায়বার যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধা খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪২১৬)

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, জবাই করার সময় আল্লাহর নাম নেওয়া বাধ্যতামূলক। আল্লাহর নাম নেওয়া ছাড়া কোনো হালাল প্রাণী জবাই করা হলেও তা খাওয়া যাবে না। সুরা আনআমের ১২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমরা তা থেকে আহার করো না, যার ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়নি।’

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এসব নিষিদ্ধ বা হারাম প্রাণী খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ হলেও বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে শিথিলতা রয়েছে। চরম খাদ্যসংকট, জীবন বাঁচানো কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজনে অত্যন্ত জরুরি অবস্থায় নিষিদ্ধ প্রাণী ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সুরা আনআমের ১১৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের কী হয়েছে যে, যাতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে তা তোমরা খাবে না? তোমাদের জন্য যা হারাম করা হয়েছে তা তোমাদের জন্য বিশদভাবে বাতলে দেওয়া হয়েছে, তবে যদি তোমরা নিরুপায় হও, (তবে ততটুকু নিষিদ্ধ বস্তু খেতে পার যাতে প্রাণে বাঁচতে পার)।’

স্থলজ প্রাণী তিন প্রকার। ১. ওই সব প্রাণী, যার কোনো রক্ত নেই। যথা- মশা, মাছি, মাকড়সা, পিঁপড়া ইত্যাদি। ২. প্রবাহিত রক্তবিশিষ্ট প্রাণী নয়। যেমন- সাপ, ইুঁদর ইত্যাদি। উভয় প্রকার প্রাণীর মধ্যে টিড্ডি ছাড়া বাকি সব ঘৃণিত ও নিকৃষ্ট হওয়ায় সেগুলো খাওয়া হারাম। ৩. ওই সব প্রাণী, যা প্রবাহিত রক্তবিশিষ্ট হয়। যেমন- পাখি ও অন্যান্য চতুষ

জনপ্রিয় সংবাদ

পঞ্চগড়ে সীমান্ত থেকে বাংলাদেশী বৃদ্ধকে ধরে যাওয়ার পরে ভারতীয় এক যুবককে ধরে আনলো স্থানীয়রা

ইসলামে যেসব স্থলজ প্রাণী খাওয়া নিষিদ্ধ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০৩:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলাম সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট সমাধান দিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো খাদ্যগ্রহণ। শরিয়তে কোন প্রাণী খাওয়া হালাল এবং কোনটি হারাম বা নিষিদ্ধ, তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা আনআমের ১৪৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনি বলে দিন, আমার প্রতি যে ওহি বা প্রত্যাদেশ করা হয়েছে, তাতে মানুষ যা আহার করে তার কিছুই নিষিদ্ধ পাই না মৃত, প্রবহমান রক্ত ও শূকরের মাংস ছাড়া। কারণ তা অপবিত্র।’

ইসলামের আবির্ভাবের আগে আরবরা তাদের ইচ্ছামতো অনেক কিছু আহার করত এবং অনেক কিছু ঘৃণাবশত বর্জন করত। পরবর্তীতে মহান আল্লাহর আদেশে রাসুলুল্লাহ (সা.) হালাল ও হারাম নির্ধারণ করে দেন। সুরা আরাফের ১৫৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তিনি তাদের জন্য পবিত্র বস্তুগুলো হালাল করেছেন এবং অপবিত্র ও নোংরা বস্তুগলো হারাম করেছেন।’

সাধারণত প্রাণীকুলকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়—মাটিতে বিচরণকারী বা স্থলজ প্রাণী এবং পানিতে বসবাসকারী বা জলজ প্রাণী। জলজ প্রাণীদের মধ্যে একমাত্র মাছ ছাড়া অন্য সব প্রাণী খাওয়া নিষিদ্ধ বা হারাম। অন্যদিকে স্থলজ প্রাণীদের তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রথম ভাগে রয়েছে যেসব প্রাণীর শরীরে কোনো রক্ত নেই, যেমন—মশা, মাছি, মাকড়সা ও পিঁপড়া। দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে প্রবাহিত রক্তহীন প্রাণী, যেমন—সাপ ও ইঁদুর। এই দুই প্রকার প্রাণীর মধ্যে কেবল ‘টিড্ডি’ (এক ধরনের ফড়িং) ছাড়া বাকি সব প্রাণীই ঘৃণিত ও নিকৃষ্ট হওয়ার কারণে খাওয়া হারাম করা হয়েছে।

তৃতীয় ভাগে রয়েছে প্রবাহিত রক্তবিশিষ্ট প্রাণী, যার মধ্যে পাখি ও চতুষ্পদ জন্তু অন্তর্ভুক্ত। পাখির ক্ষেত্রে যেসব পাখি থাবা ও নখের সাহায্যে শিকার করে, যেমন—চিল, শকুন, বাজ ও ঈগল, সেগুলো খাওয়া মাকরুহে তাহরিমি বা নিষিদ্ধ। এ প্রসঙ্গে সহিহ বুখারির ৫৫৩০ নম্বর হাদিসে আবু সালাবা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক শিকারি দাঁতবিশিষ্ট হিংস্র প্রাণী ও প্রত্যেক শিকারি নখবিশিষ্ট পাখি খেতে নিষেধ করেছেন।’ তবে যেসব পাখি ঠোঁটের সাহায্যে খাবার খায়, সেগুলো খাওয়া হালাল। এ ধরনের পাখির মধ্যে যেগুলো সাধারণত নাপাকি বা নোংরা জিনিস খায়, সেগুলো খাওয়া মাকরুহ। তবে তাদের বেশিরভাগ খাবার যদি হালাল হয়, তবে সেগুলো খাওয়া হালাল হিসেবে গণ্য হবে।

পশুদের মধ্যে যেসব হিংস্র প্রাণী থাবা মেরে ও আক্রমণ করে শিকার করে, যেমন—সিংহ, বাঘ, কুকুর, শিয়াল, বিড়াল, বানর ও হাতি, সেগুলো খাওয়া হারাম। অন্যদিকে অহিংস্র পশুদের মধ্যে যেগুলোর পুরো শরীর পবিত্র, সেগুলো খাওয়া হালাল। এর মধ্যে রয়েছে গৃহপালিত গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া, উট ও দুম্বা। বন্য পশুর মধ্যে বন্য গরু, হরিণ, খরগোশ ও বন্য গাধা খাওয়া যাবে। তবে যেসব প্রাণীর পুরো শরীর অপবিত্র, যেমন—শূকর, তা সম্পূর্ণ হারাম।

এছাড়া সব ধরনের ঘোড়া ও গৃহপালিত গাধা খাওয়া মাকরুহ। হালাল প্রাণীর তালিকায় থাকা সত্ত্বেও যেসব প্রাণী সবসময় অপবিত্র জিনিস খেয়ে বেঁচে থাকে, সেগুলো খাওয়াও মাকরুহ। এ বিষয়ে সাহাবি জাবের (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) খায়বার যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধা খেতে নিষেধ করেছেন এবং ঘোড়ার গোশত খাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪২১৬)

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, জবাই করার সময় আল্লাহর নাম নেওয়া বাধ্যতামূলক। আল্লাহর নাম নেওয়া ছাড়া কোনো হালাল প্রাণী জবাই করা হলেও তা খাওয়া যাবে না। সুরা আনআমের ১২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমরা তা থেকে আহার করো না, যার ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়নি।’

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এসব নিষিদ্ধ বা হারাম প্রাণী খাওয়া সম্পূর্ণ নিষেধ হলেও বিশেষ কিছু পরিস্থিতিতে শিথিলতা রয়েছে। চরম খাদ্যসংকট, জীবন বাঁচানো কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজনে অত্যন্ত জরুরি অবস্থায় নিষিদ্ধ প্রাণী ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। এ প্রসঙ্গে সুরা আনআমের ১১৯ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের কী হয়েছে যে, যাতে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়েছে তা তোমরা খাবে না? তোমাদের জন্য যা হারাম করা হয়েছে তা তোমাদের জন্য বিশদভাবে বাতলে দেওয়া হয়েছে, তবে যদি তোমরা নিরুপায় হও, (তবে ততটুকু নিষিদ্ধ বস্তু খেতে পার যাতে প্রাণে বাঁচতে পার)।’

স্থলজ প্রাণী তিন প্রকার। ১. ওই সব প্রাণী, যার কোনো রক্ত নেই। যথা- মশা, মাছি, মাকড়সা, পিঁপড়া ইত্যাদি। ২. প্রবাহিত রক্তবিশিষ্ট প্রাণী নয়। যেমন- সাপ, ইুঁদর ইত্যাদি। উভয় প্রকার প্রাণীর মধ্যে টিড্ডি ছাড়া বাকি সব ঘৃণিত ও নিকৃষ্ট হওয়ায় সেগুলো খাওয়া হারাম। ৩. ওই সব প্রাণী, যা প্রবাহিত রক্তবিশিষ্ট হয়। যেমন- পাখি ও অন্যান্য চতুষ