লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দেশের শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবীরা যাতে শিক্ষকতাকে তাদের কর্মজীবনের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন, সেই লক্ষ্যে বর্তমান সরকার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ও সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শিক্ষকতা কোনো সাধারণ চাকরির মতো বা উপায়হীন কোনো বিকল্প পেশা হতে পারে না। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপ্তি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ২১ হাজার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিন লাখের বেশি শিক্ষক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিচ্ছেন। এ পর্যায়ের শিক্ষার বড় অংশই বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।’

এ বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন’। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান এবং সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অভিনন্দন জানান।

সরকারপ্রধান বলেন, শিক্ষকরাই প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে পারিবারিক গণ্ডি পেরিয়ে প্রথম আদর্শ রোল মডেল হয়ে ওঠেন। শিক্ষকরা যাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সরকার সেই লক্ষ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের কারণে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির বাইরে গিয়ে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই সিলেবাস আধুনিকায়ন ও শিক্ষণ পদ্ধতির কৌশল পরিবর্তনের ওপর তিনি জোর দেন। এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী বই পাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

শিক্ষার্থীদের কৌতূহলী করে তোলার গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু মুখস্থ করার পরিবর্তে ‘কেন’ ও ‘কীভাবে’—এই প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের মনে জাগিয়ে তুলতে হবে। এছাড়া ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণাটি জনপ্রিয় করতে সরকার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণিতেও সম্প্রসারিত হবে।

প্রযুক্তিকে শিক্ষকের শক্তি হিসেবে ব্যবহারের লক্ষ্যে সরকার ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা ডিজিটাল লেসন প্ল্যান ও প্রয়োজনীয় শিক্ষণসামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা বাড়ানোর কাজ চলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো শিশু যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয় এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরাও যেন বেকার না থাকে, তা নিশ্চিত করা সরকারের লক্ষ্য।

শিক্ষার মানোন্নয়নে বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহর ও গ্রামের শিক্ষার সুযোগের পার্থক্য কমিয়ে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, চলতি বছর থেকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাধ্যতামূলকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের বেতন ও অবসরভাতা প্রাপ্তিতে হয়রানি বন্ধ করে ব্যাংকের মাধ্যমে যথাসময়ে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

মেঘনায় ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা, চাল পাবেন ৪২ হাজার জেলে

শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০১:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দেশের শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবীরা যাতে শিক্ষকতাকে তাদের কর্মজীবনের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন, সেই লক্ষ্যে বর্তমান সরকার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ও সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, শিক্ষকতা কোনো সাধারণ চাকরির মতো বা উপায়হীন কোনো বিকল্প পেশা হতে পারে না। সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপ্তি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ২১ হাজার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিন লাখের বেশি শিক্ষক কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিচ্ছেন। এ পর্যায়ের শিক্ষার বড় অংশই বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল।’

এ বছরের বিশ্ব শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন’। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান এবং সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অভিনন্দন জানান।

সরকারপ্রধান বলেন, শিক্ষকরাই প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছে পারিবারিক গণ্ডি পেরিয়ে প্রথম আদর্শ রোল মডেল হয়ে ওঠেন। শিক্ষকরা যাতে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সরকার সেই লক্ষ্যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের কারণে প্রচলিত শিক্ষা পদ্ধতির বাইরে গিয়ে কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই সিলেবাস আধুনিকায়ন ও শিক্ষণ পদ্ধতির কৌশল পরিবর্তনের ওপর তিনি জোর দেন। এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাস অনুযায়ী বই পাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

শিক্ষার্থীদের কৌতূহলী করে তোলার গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু মুখস্থ করার পরিবর্তে ‘কেন’ ও ‘কীভাবে’—এই প্রশ্নগুলো শিক্ষার্থীদের মনে জাগিয়ে তুলতে হবে। এছাড়া ‘আনন্দময় শিক্ষা’ বা ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণাটি জনপ্রিয় করতে সরকার ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে অন্যান্য শ্রেণিতেও সম্প্রসারিত হবে।

প্রযুক্তিকে শিক্ষকের শক্তি হিসেবে ব্যবহারের লক্ষ্যে সরকার ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা ডিজিটাল লেসন প্ল্যান ও প্রয়োজনীয় শিক্ষণসামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা বাড়ানোর কাজ চলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো শিশু যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয় এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীরাও যেন বেকার না থাকে, তা নিশ্চিত করা সরকারের লক্ষ্য।

শিক্ষার মানোন্নয়নে বাজেটে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহর ও গ্রামের শিক্ষার সুযোগের পার্থক্য কমিয়ে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, চলতি বছর থেকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বাধ্যতামূলকভাবে আমন্ত্রণ জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষকদের বেতন ও অবসরভাতা প্রাপ্তিতে হয়রানি বন্ধ করে ব্যাংকের মাধ্যমে যথাসময়ে অর্থ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।