লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জে বাসমালিকদের ধর্মঘট স্থগিতের সিদ্ধান্ত মানছেন না শ্রমিকেরা

হবিগঞ্জে বাসমালিকদের পক্ষ থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা মানছেন না পরিবহনশ্রমিকেরা। এর ফলে আজ শুক্রবারও জেলাটিতে বাস ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। তবে হবিগঞ্জ থেকে সিলেট রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও ঢাকা রুটে কয়েকটি বাস ছেড়ে গেছে। আকস্মিক এই ধর্মঘটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট সড়কে বাস আটকে রাখা এবং মালিক-শ্রমিক বিরোধের জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ। এর আগে গত বুধবার বিকেলে সংগঠনটি ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমকে জানায় এবং সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে।

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী আজ সকালে জানান, বাংলাদেশ বাস মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শিমুল বিশ্বাসের অনুরোধে আজ থেকে পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছিল। আগামী রোববার ঢাকায় হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার বাস মালিক সমিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠকে বসবেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে শ্রমিকেরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত না মানায় বিষয়টি নিয়ে আজ নিজেরা বৈঠকে বসবেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, পরিবহনশ্রমিক জাহাঙ্গীর মিয়া জানান, বাসমালিক সমিতি ধর্মঘট ডাকার বা স্থগিত করার আগে শ্রমিকদের সাথে কোনো আলোচনা করেনি। টার্মিনাল থেকে বাস নিয়ে বের হলে বিভিন্ন স্থানে হামলার শিকার হতে পারেন শ্রমিকেরা। এই ঝুঁকির দায় কেউ নেবে না বলেই তারা বাস চালাচ্ছেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জের বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসের মালিক ও শ্রমিকদের সাথে মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ ও ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে মৌলভীবাজারে যাওয়ার পথে হবিগঞ্জের তিনটি বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস আটকে রাখা হয়। প্রশাসন একাধিকবার এ নিয়ে আলোচনা করলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

আজ সকাল সাড়ে ১০টায় হবিগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীবাহী বাসগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে এবং শ্রমিকেরা জটলা বেঁধে আলোচনা করছেন। সিলেটগামী এক যাত্রী শরিফুল ইসলাম জানান, তাঁর মেয়ে সিলেটে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে যাবে। ধর্মঘট প্রত্যাহারের খবর শুনে টার্মিনালে এসে দেখেন কোনো গাড়ি ছাড়ছে না। অন্যদিকে, চাকরির পরীক্ষা দিতে সিলেট যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভোর ছয়টা থেকে অপেক্ষা করেও বাস না পেয়ে পরীক্ষা দিতে পারেননি বানিয়াচং উপজেলার শিক্ষার্থী গৌতম দাস (২২)।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানি জাতির সাহসিকতায় বিশ্ব বিস্মিত, মন্তব্য পুতিনের

হবিগঞ্জে বাসমালিকদের ধর্মঘট স্থগিতের সিদ্ধান্ত মানছেন না শ্রমিকেরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

হবিগঞ্জে বাসমালিকদের পক্ষ থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা মানছেন না পরিবহনশ্রমিকেরা। এর ফলে আজ শুক্রবারও জেলাটিতে বাস ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। তবে হবিগঞ্জ থেকে সিলেট রুটে যাত্রীবাহী বাস চলাচল বন্ধ থাকলেও ঢাকা রুটে কয়েকটি বাস ছেড়ে গেছে। আকস্মিক এই ধর্মঘটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।

হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট সড়কে বাস আটকে রাখা এবং মালিক-শ্রমিক বিরোধের জেরে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দেয় হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ। এর আগে গত বুধবার বিকেলে সংগঠনটি ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমকে জানায় এবং সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে।

হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী আজ সকালে জানান, বাংলাদেশ বাস মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক শিমুল বিশ্বাসের অনুরোধে আজ থেকে পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছিল। আগামী রোববার ঢাকায় হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার বাস মালিক সমিতি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠকে বসবেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে শ্রমিকেরা ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত না মানায় বিষয়টি নিয়ে আজ নিজেরা বৈঠকে বসবেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, পরিবহনশ্রমিক জাহাঙ্গীর মিয়া জানান, বাসমালিক সমিতি ধর্মঘট ডাকার বা স্থগিত করার আগে শ্রমিকদের সাথে কোনো আলোচনা করেনি। টার্মিনাল থেকে বাস নিয়ে বের হলে বিভিন্ন স্থানে হামলার শিকার হতে পারেন শ্রমিকেরা। এই ঝুঁকির দায় কেউ নেবে না বলেই তারা বাস চালাচ্ছেন না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জের বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাসের মালিক ও শ্রমিকদের সাথে মৌলভীবাজারের এসএমএস পরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ ও ২৪ সেপ্টেম্বর সিলেট থেকে মৌলভীবাজারে যাওয়ার পথে হবিগঞ্জের তিনটি বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস আটকে রাখা হয়। প্রশাসন একাধিকবার এ নিয়ে আলোচনা করলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

আজ সকাল সাড়ে ১০টায় হবিগঞ্জ পৌর বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীবাহী বাসগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে এবং শ্রমিকেরা জটলা বেঁধে আলোচনা করছেন। সিলেটগামী এক যাত্রী শরিফুল ইসলাম জানান, তাঁর মেয়ে সিলেটে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে যাবে। ধর্মঘট প্রত্যাহারের খবর শুনে টার্মিনালে এসে দেখেন কোনো গাড়ি ছাড়ছে না। অন্যদিকে, চাকরির পরীক্ষা দিতে সিলেট যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভোর ছয়টা থেকে অপেক্ষা করেও বাস না পেয়ে পরীক্ষা দিতে পারেননি বানিয়াচং উপজেলার শিক্ষার্থী গৌতম দাস (২২)।