লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বর্ষণে স্থবির রাজধানী, বিভিন্ন এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত

রাজধানীতে শনিবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি রোববারও বিরামহীনভাবে অব্যাহত রয়েছে। টানা এই বর্ষণে দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল ও আরামবাগসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে যাওয়ায় কর্মস্থলে ও জরুরি কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ঝরেছে ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টি।

জলাবদ্ধতার কারণে যাত্রাবাড়ী, কুতুবখালী, শনির আখড়া এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ রোববার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পানির নিচে ছিল। এছাড়া দৈনিক বাংলা মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত সড়ক, পুরানা পল্টন কালভার্ট রোড, শাপলা চত্বর থেকে টিকাটুলি মোড় এবং আরামবাগ ও ফকিরাপুলের অলিগলি পানিতে তলিয়ে গেছে। পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে হাঁটুপানি জমে কয়েকটি ছোট দোকানে পানি ঢুকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। দিলকুশা ও মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় অফিসগামীরা বিপাকে পড়েন।

শান্তিনগর, রাজারবাগ, নয়াপল্টনের প্রধান সড়কসহ কাকরাইলের বিভিন্ন অলিগলিতেও হাঁটুপানি দেখা গেছে। এমনকি প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের ভেতরেও পানি জমেছে। এছাড়া খিলক্ষেত থেকে লেকসিটি পর্যন্ত সড়ক প্রায় হাঁটুপানিতে ডুবে ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, রিকশাচালকরা এই সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। মহাখালী এলাকার দক্ষিণপাড়ার মূল সড়কও প্লাবিত হয়েছে। বেসরকারি চাকরিজীবী আকাশ রহমান জানান, অবিরাম এই বৃষ্টিতে পুরো ঢাকা শহর যেন ডুবে গেছে।

ট্রাফিক গুলশান বিভাগ জানিয়েছে, ভারী বর্ষণের ফলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী র‍্যাম্পের নিচের অংশ, বনানী, খিলক্ষেত ও ঢাকা গেটসহ নিচু এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সড়কগুলোতে যানবাহনের গতি কমে গেছে এবং যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কাকলী মোড়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামা যানবাহন ও নিচের সড়কের গাড়িগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হচ্ছে।

বৃষ্টির মধ্যেও মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও যাত্রীচাপ ছিল অনেক বেশি। সচিবালয় ও মতিঝিল স্টেশনে কর্মজীবী মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেলের উপস্থিতি কম থাকলেও গণপরিবহনে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভিড় ছিল। এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক, দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী ও একাদশ শ্রেণির ব্যবহারিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া ধানমন্ডি কামরুন্নেছা স্কুলের অর্ধবার্ষিকী ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষাও স্থগিতের কথা জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

খিলক্ষেত থেকে লেকসিটি এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে গণমাধ্যমকে একজন বলেন, “খিলক্ষেত থেকে লেকসিটি পর্যন্ত রিকশা ভাড়া ৩০ টাকা করে। কয়েকজন মিলে গেলে ১০-২০ টাকা করে নেয়। পুরো রাস্তায় হাঁটুর কাছাকাছি পানি থাকায় কয়েকজন মিলে চড়লেও প্রত্যেকের থেকে ১০০ টাকা রিকশায় ভাড়া নিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “অতিরিক্ত যান হিসেবে ভ্যান চলাচল করতে দেখা যায়। তারা ভাড়া নিচ্ছে প্রত্যেকের থেকে ৫০ টাকা। দূর যাতায়াতের জন্য খুঁজলেও সিএনজি মেলেনি।”

জনপ্রিয় সংবাদ

রাউজানে আলোচিত করিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৪

টানা বর্ষণে স্থবির রাজধানী, বিভিন্ন এলাকা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:১৬:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

রাজধানীতে শনিবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি রোববারও বিরামহীনভাবে অব্যাহত রয়েছে। টানা এই বর্ষণে দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল ও আরামবাগসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি জমে যাওয়ায় কর্মস্থলে ও জরুরি কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ঝরেছে ৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টি।

জলাবদ্ধতার কারণে যাত্রাবাড়ী, কুতুবখালী, শনির আখড়া এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ রোববার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পানির নিচে ছিল। এছাড়া দৈনিক বাংলা মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত সড়ক, পুরানা পল্টন কালভার্ট রোড, শাপলা চত্বর থেকে টিকাটুলি মোড় এবং আরামবাগ ও ফকিরাপুলের অলিগলি পানিতে তলিয়ে গেছে। পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে হাঁটুপানি জমে কয়েকটি ছোট দোকানে পানি ঢুকে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। দিলকুশা ও মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হওয়ায় অফিসগামীরা বিপাকে পড়েন।

শান্তিনগর, রাজারবাগ, নয়াপল্টনের প্রধান সড়কসহ কাকরাইলের বিভিন্ন অলিগলিতেও হাঁটুপানি দেখা গেছে। এমনকি প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ের ভেতরেও পানি জমেছে। এছাড়া খিলক্ষেত থেকে লেকসিটি পর্যন্ত সড়ক প্রায় হাঁটুপানিতে ডুবে ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, রিকশাচালকরা এই সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন। মহাখালী এলাকার দক্ষিণপাড়ার মূল সড়কও প্লাবিত হয়েছে। বেসরকারি চাকরিজীবী আকাশ রহমান জানান, অবিরাম এই বৃষ্টিতে পুরো ঢাকা শহর যেন ডুবে গেছে।

ট্রাফিক গুলশান বিভাগ জানিয়েছে, ভারী বর্ষণের ফলে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী র‍্যাম্পের নিচের অংশ, বনানী, খিলক্ষেত ও ঢাকা গেটসহ নিচু এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সড়কগুলোতে যানবাহনের গতি কমে গেছে এবং যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কাকলী মোড়ে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামা যানবাহন ও নিচের সড়কের গাড়িগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হচ্ছে।

বৃষ্টির মধ্যেও মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও যাত্রীচাপ ছিল অনেক বেশি। সচিবালয় ও মতিঝিল স্টেশনে কর্মজীবী মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও মোটরসাইকেলের উপস্থিতি কম থাকলেও গণপরিবহনে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভিড় ছিল। এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির অর্ধবার্ষিক, দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী ও একাদশ শ্রেণির ব্যবহারিক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া ধানমন্ডি কামরুন্নেছা স্কুলের অর্ধবার্ষিকী ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষাও স্থগিতের কথা জানিয়েছেন অভিভাবকরা।

খিলক্ষেত থেকে লেকসিটি এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরে গণমাধ্যমকে একজন বলেন, “খিলক্ষেত থেকে লেকসিটি পর্যন্ত রিকশা ভাড়া ৩০ টাকা করে। কয়েকজন মিলে গেলে ১০-২০ টাকা করে নেয়। পুরো রাস্তায় হাঁটুর কাছাকাছি পানি থাকায় কয়েকজন মিলে চড়লেও প্রত্যেকের থেকে ১০০ টাকা রিকশায় ভাড়া নিচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “অতিরিক্ত যান হিসেবে ভ্যান চলাচল করতে দেখা যায়। তারা ভাড়া নিচ্ছে প্রত্যেকের থেকে ৫০ টাকা। দূর যাতায়াতের জন্য খুঁজলেও সিএনজি মেলেনি।”