লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তালাকের অজুহাতে সন্তানের ভরণপোষণ এড়ানো যাবে না: হাইকোর্ট

আইন অনুযায়ী প্রমাণিত বা কার্যকর নয় এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি আবদুর রহমানের একক বেঞ্চ সম্প্রতি এই রায় দেন, যা ১৬ জুলাই প্রকাশিত হয়। আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ মা-বাবার মধ্যকার তালাকসংক্রান্ত বিরোধের ওপর নির্ভর করে না; এটি শিশুর একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার। কোনো বাবা তালাকসংক্রান্ত বিরোধের অজুহাতে তার সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালে বিয়ে হওয়ার পর স্ত্রী ও তাদের নাবালক কন্যার পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা করা হয়। স্বামী তখন দাবি করেন যে তিনি আগেই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন, কিন্তু ফ্যামিলি কোর্টে তিনি আইনিভাবে সেই তালাক প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন। ফলে আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে ডিক্রি প্রদান করেন। পরবর্তীতে স্বামী নতুন করে একটি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করে তালাক কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করেন এবং ভরণপোষণের ডিক্রি স্থগিতের আবেদন জানান। নিম্ন আদালত সেই আবেদন খারিজ করলে বিষয়টি হাইকোর্টে আসে।

হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দিয়ে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রেখেছেন। রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছেন, নতুন মামলা দায়ের করলেই পূর্বে দেওয়া চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যায় না। কোনো सक्षम আদালত ডিক্রি স্থগিত না করা পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে এবং এক্সিকিউশন কোর্ট তা বাস্তবায়নে বাধ্য। আদালত আরও উল্লেখ করেন, এক্সিকিউশন কোর্টের কাজ কেবল বিদ্যমান ডিক্রি বাস্তবায়ন করা, নতুন করে তালাকের বৈধতা বা বৈবাহিক সম্পর্কের অস্তিত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া তাদের এখতিয়ার নয়।

আদালত স্বামীকে তার বকেয়া দেনমোহর এবং স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের সব বকেয়া ভরণপোষণ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এই মামলায় স্বামীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. শহিদুল ইসলাম এবং স্ত্রীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান, যাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান ও ইফাত হাসান শাম্মি। আইনজীবী ইশরাত হাসান এই রায়কে পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবিধান সংশোধন কমিটির চতুর্থ বৈঠকে সাংবাদিকদের মতামত গ্রহণ

তালাকের অজুহাতে সন্তানের ভরণপোষণ এড়ানো যাবে না: হাইকোর্ট

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

আইন অনুযায়ী প্রমাণিত বা কার্যকর নয় এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি আবদুর রহমানের একক বেঞ্চ সম্প্রতি এই রায় দেন, যা ১৬ জুলাই প্রকাশিত হয়। আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ মা-বাবার মধ্যকার তালাকসংক্রান্ত বিরোধের ওপর নির্ভর করে না; এটি শিশুর একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার। কোনো বাবা তালাকসংক্রান্ত বিরোধের অজুহাতে তার সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারেন না।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালে বিয়ে হওয়ার পর স্ত্রী ও তাদের নাবালক কন্যার পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা করা হয়। স্বামী তখন দাবি করেন যে তিনি আগেই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন, কিন্তু ফ্যামিলি কোর্টে তিনি আইনিভাবে সেই তালাক প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন। ফলে আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে ডিক্রি প্রদান করেন। পরবর্তীতে স্বামী নতুন করে একটি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করে তালাক কার্যকর হয়েছে বলে দাবি করেন এবং ভরণপোষণের ডিক্রি স্থগিতের আবেদন জানান। নিম্ন আদালত সেই আবেদন খারিজ করলে বিষয়টি হাইকোর্টে আসে।

হাইকোর্ট রুল খারিজ করে দিয়ে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রেখেছেন। রায়ে আদালত স্পষ্ট করেছেন, নতুন মামলা দায়ের করলেই পূর্বে দেওয়া চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যায় না। কোনো सक्षम আদালত ডিক্রি স্থগিত না করা পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে এবং এক্সিকিউশন কোর্ট তা বাস্তবায়নে বাধ্য। আদালত আরও উল্লেখ করেন, এক্সিকিউশন কোর্টের কাজ কেবল বিদ্যমান ডিক্রি বাস্তবায়ন করা, নতুন করে তালাকের বৈধতা বা বৈবাহিক সম্পর্কের অস্তিত্ব নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া তাদের এখতিয়ার নয়।

আদালত স্বামীকে তার বকেয়া দেনমোহর এবং স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের সব বকেয়া ভরণপোষণ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন। এই মামলায় স্বামীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. শহিদুল ইসলাম এবং স্ত্রীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ইশরাত হাসান, যাকে সহযোগিতা করেন তানজিলা রহমান ও ইফাত হাসান শাম্মি। আইনজীবী ইশরাত হাসান এই রায়কে পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন।