লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রিয়াদে আরামকোর তেল স্থাপনায় হুথিদের হামলার দাবি, প্রত্যাখ্যান সৌদির

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী দাবি করেছে যে তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। তবে হুথিদের এই দাবিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

শনিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, রিয়াদে আরামকোর তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো এই অভিযান ‘সফলভাবে লক্ষ্য অর্জন করেছে’। হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় আগুন ধরে যায় বলেও দাবি করেন তিনি। হুথিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও অন্যান্য প্রদেশে সৌদি জোটের বিমান হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইয়াহিয়া সারি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সানা ও অন্যান্য এলাকায় অন্তত ৬০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যা নিয়ে মোট হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২০টিতে। এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘অবরোধের জবাব অবরোধ দিয়ে, উত্তেজনার জবাব উত্তেজনা দিয়ে’ দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি হুথিদের এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন। সৌদি গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, রিয়াদে হামলার দাবিটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। হুথিদের নিজস্ব ক্ষয়ক্ষতি এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়তে থাকা অসন্তোষ থেকে দৃষ্টি সরাতেই এই মিথ্যা দাবি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, শনিবার রিয়াদে আরামকোর একটি স্থাপনার কাছে বিশাল আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডুলি দেখা গেছে বলে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন। অবশ্য এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকো কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে রিয়াদের ওই আগুনের সঙ্গে হুথিদের হামলার দাবির সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে গত সপ্তাহেও সৌদি আরবের ইয়ানবুতে আরামকোর তেল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছিল হুথিরা। সে সময় সৌদি আরব জানিয়েছিল, তারা তায়েফ ও ইয়ানবু এলাকার দিকে ছুড়ে দেওয়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, তবে আরামকোর কোনো ক্ষয়ক্ষতি প্রকাশ করেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে, বিপরীতে সৌদি জোটও ইয়েমেনে তাদের সামরিক অভিযান জোরালো করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, হুথিদের ক্রমাগত হামলায় দেশটির বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সৌদি সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি আসির প্রদেশে একটি প্রতিহত করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে একজন এশীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় একটি মসজিদ ও বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া গত শুক্রবার নাজরান শহরের একটি স্কুল ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে সিভিল ডিফেন্স, যাতে স্কুল ভবন ও আশপাশের কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে হুথিরা। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহাল করতে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক জোট গঠন করে অভিযান চালিয়ে আসছে সৌদি আরব।

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ২৬আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ২৯

জনপ্রিয় সংবাদ

১৬ সরকারি মেডিকেল কলেজে চরম শিক্ষক ও অবকাঠামোর সংকট

রিয়াদে আরামকোর তেল স্থাপনায় হুথিদের হামলার দাবি, প্রত্যাখ্যান সৌদির

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৩:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী দাবি করেছে যে তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালিয়েছে। তবে হুথিদের এই দাবিকে ‘বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

শনিবার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, রিয়াদে আরামকোর তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো এই অভিযান ‘সফলভাবে লক্ষ্য অর্জন করেছে’। হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় আগুন ধরে যায় বলেও দাবি করেন তিনি। হুথিদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও অন্যান্য প্রদেশে সৌদি জোটের বিমান হামলার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইয়াহিয়া সারি জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সানা ও অন্যান্য এলাকায় অন্তত ৬০টি বিমান হামলা চালানো হয়েছে, যা নিয়ে মোট হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২০টিতে। এ সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘অবরোধের জবাব অবরোধ দিয়ে, উত্তেজনার জবাব উত্তেজনা দিয়ে’ দেওয়া হবে।

অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি হুথিদের এই দাবিকে সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন। সৌদি গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, রিয়াদে হামলার দাবিটি অত্যন্ত বিভ্রান্তিকর। হুথিদের নিজস্ব ক্ষয়ক্ষতি এবং তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের মাঝে বাড়তে থাকা অসন্তোষ থেকে দৃষ্টি সরাতেই এই মিথ্যা দাবি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তবে রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, শনিবার রিয়াদে আরামকোর একটি স্থাপনার কাছে বিশাল আগুন ও ধোঁয়ার কুণ্ডুলি দেখা গেছে বলে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন। অবশ্য এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকো কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে রিয়াদের ওই আগুনের সঙ্গে হুথিদের হামলার দাবির সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে গত সপ্তাহেও সৌদি আরবের ইয়ানবুতে আরামকোর তেল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছিল হুথিরা। সে সময় সৌদি আরব জানিয়েছিল, তারা তায়েফ ও ইয়ানবু এলাকার দিকে ছুড়ে দেওয়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে, তবে আরামকোর কোনো ক্ষয়ক্ষতি প্রকাশ করেনি।

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। হুথিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে, বিপরীতে সৌদি জোটও ইয়েমেনে তাদের সামরিক অভিযান জোরালো করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, হুথিদের ক্রমাগত হামলায় দেশটির বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সৌদি সিভিল ডিফেন্সের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি আসির প্রদেশে একটি প্রতিহত করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে একজন এশীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় একটি মসজিদ ও বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া গত শুক্রবার নাজরান শহরের একটি স্কুল ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে সিভিল ডিফেন্স, যাতে স্কুল ভবন ও আশপাশের কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে হুথিরা। পরবর্তীতে ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহাল করতে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক জোট গঠন করে অভিযান চালিয়ে আসছে সৌদি আরব।

প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ২৬আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ২৯