লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লোহিত সাগরে হুতিদের অবরোধের হুমকি, বিশ্ববাজারে অস্থিরতার শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি অবরোধের হুমকি দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার পর হুতিদের এই নতুন হুমকি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে তা একটি নতুন যুদ্ধফ্রন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, যা মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং ইউরোপে সৌদি আরবের ডিজেল রপ্তানি ব্যাহত করবে।

যদিও হুতিরা এখন পর্যন্ত তাদের ঘোষিত অবরোধ কার্যকর করতে পারেনি, তবুও তাদের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু জাহাজ লোহিত সাগর এড়িয়ে দক্ষিণমুখী যাত্রা বাতিল করেছে। তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬২ লাখ ব্যারেল তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালির সরু অংশটি হরমুজ প্রণালির চেয়েও প্রায় ৪০ শতাংশ সংকীর্ণ, যার প্রস্থ মাত্র ১৪ মাইল।

তেলের বাজারে এই অস্থিরতার প্রভাব ইতিমধ্যে দৃশ্যমান। চলতি মাসে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০ ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বুধবার (২২ জুলাই) তা ৯৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা জুনের পর সর্বোচ্চ। আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বৈশ্বিক কৌশল বিভাগের প্রধান হেলিমা ক্রফট জানান, সৌদি আরব বর্তমানে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পাঠাচ্ছে। যদি বাব আল-মান্দেব অচল হয়ে যায়, তবে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে গুরুতর সংকট দেখা দেবে। পিকারিং এনার্জি পার্টনারসের ড্যান পিকারিংয়ের মতে, এই পথ অবরুদ্ধ হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি আরও ৫ থেকে ১০ ডলার বেড়ে ১০০ ডলার অতিক্রম করতে পারে।

ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও বড় ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল ডিজেল সৌদি শোধনাগার থেকে সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপে যায়, যা হুতিদের হামলার মুখে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে অন্তত পাঁচটি তেলবাহী জাহাজ লোহিত সাগর এড়িয়ে চলার সতর্কতা পেয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুতিরা বড় ধরনের পদক্ষেপ নিলে মার্কিন সামরিক বাহিনী হস্তক্ষেপ করতে পারে। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সচল রাখতে ব্যস্ত রয়েছে, যেখানে ইরানের সাথে উত্তেজনার কারণে দৈনিক জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ৫০-৭০টি থেকে নেমে হাতে গোনা কয়েকটিতে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নাচোলে অবৈধভাবে মজুদের ১৫ ব্যারেল ডিজেল জব্দ ব্যবসায়ীকে জরিমানা।

লোহিত সাগরে হুতিদের অবরোধের হুমকি, বিশ্ববাজারে অস্থিরতার শঙ্কা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি অবরোধের হুমকি দিয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার পর হুতিদের এই নতুন হুমকি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে তা একটি নতুন যুদ্ধফ্রন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, যা মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং ইউরোপে সৌদি আরবের ডিজেল রপ্তানি ব্যাহত করবে।

যদিও হুতিরা এখন পর্যন্ত তাদের ঘোষিত অবরোধ কার্যকর করতে পারেনি, তবুও তাদের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু জাহাজ লোহিত সাগর এড়িয়ে দক্ষিণমুখী যাত্রা বাতিল করেছে। তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬২ লাখ ব্যারেল তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়েছে। বাব আল-মান্দেব প্রণালির সরু অংশটি হরমুজ প্রণালির চেয়েও প্রায় ৪০ শতাংশ সংকীর্ণ, যার প্রস্থ মাত্র ১৪ মাইল।

তেলের বাজারে এই অস্থিরতার প্রভাব ইতিমধ্যে দৃশ্যমান। চলতি মাসে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০ ডলারেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বুধবার (২২ জুলাই) তা ৯৫ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা জুনের পর সর্বোচ্চ। আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বৈশ্বিক কৌশল বিভাগের প্রধান হেলিমা ক্রফট জানান, সৌদি আরব বর্তমানে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পাঠাচ্ছে। যদি বাব আল-মান্দেব অচল হয়ে যায়, তবে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে গুরুতর সংকট দেখা দেবে। পিকারিং এনার্জি পার্টনারসের ড্যান পিকারিংয়ের মতে, এই পথ অবরুদ্ধ হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি আরও ৫ থেকে ১০ ডলার বেড়ে ১০০ ডলার অতিক্রম করতে পারে।

ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও বড় ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল ডিজেল সৌদি শোধনাগার থেকে সুয়েজ খাল হয়ে ইউরোপে যায়, যা হুতিদের হামলার মুখে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ইতিমধ্যে অন্তত পাঁচটি তেলবাহী জাহাজ লোহিত সাগর এড়িয়ে চলার সতর্কতা পেয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুতিরা বড় ধরনের পদক্ষেপ নিলে মার্কিন সামরিক বাহিনী হস্তক্ষেপ করতে পারে। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সচল রাখতে ব্যস্ত রয়েছে, যেখানে ইরানের সাথে উত্তেজনার কারণে দৈনিক জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ৫০-৭০টি থেকে নেমে হাতে গোনা কয়েকটিতে দাঁড়িয়েছে।