লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেটিং তদন্তে ফোন জব্দ, আইসিসির দ্বারস্থ মোহাম্মদ রিজওয়ান

পাকিস্তান দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের মুঠোফোন এখনো তাঁর কাছে নেই। ইংল্যান্ড সফরের সময় পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) ফোনটি জব্দ করে এবং পরবর্তীতে সেটি পাকিস্তানে নিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এই জব্দ প্রক্রিয়া ও এনসিসিআইএর নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে রিজওয়ান লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন, তবে গত বৃহস্পতিবার আদালত তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফরকে কেন্দ্র করে। টেস্ট সিরিজ চলাকালে ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় এনসিসিআইএ তদন্ত শুরু করে। এই তদন্তের অংশ হিসেবেই রিজওয়ান ও টেস্ট ওপেনার ইমাম-উল-হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে লাহোরের কার্যালয়ে হাজির হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। এনসিসিআইএ মূলত অনলাইন বেটিং ও জুয়াসংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে। তদন্তের খাতিরে ইংল্যান্ডে থাকা অবস্থায় তাঁরা কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বা দেখা করেছেন, সেসব তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে।

রিজওয়ান শুরু থেকেই এই তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, রিজওয়ানের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আনা হয়নি, অথচ তদন্তের নোটিশে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হাজির হওয়ার পর বিস্তারিত জানতে চাইলেও কোনো স্পষ্ট উত্তর পাননি বলে অভিযোগ করেন রিজওয়ান। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি আলিয়া নীলম রিজওয়ানের আইনজীবীর ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আবেদনটি খারিজ করে দেন।

আদালতে ব্যর্থ হয়ে রিজওয়ান এখন আইসিসির শরণাপন্ন হয়েছেন। তিনি আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের কাছে জানতে চেয়েছেন, তাঁর ফোন জব্দ ও ফরেনসিক পরীক্ষার বিষয়টি আইসিসি বা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড জানত কি না এবং এই প্রক্রিয়ায় তারা কোনোভাবে জড়িত ছিল কি না। জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নয়, বরং আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ধারা অনুযায়ী পুরো বিষয়টি সঠিক কি না এবং তাঁর করণীয় কী—সে বিষয়ে তিনি দিকনির্দেশনা চেয়েছেন।

ফোনটি জব্দের আগে সেটি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) হেফাজতে ছিল এবং পরে পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চলমান তদন্তের কারণে পিসিবি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, এই ঘটনার সমসাময়িক সময়েই পাকিস্তান টেস্ট দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে হারের পর রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকসহ সাত ক্রিকেটারকে টেস্ট দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। একই সময়ে হেড কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানে জুমার নামাজে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত অন্তত ১৬

বেটিং তদন্তে ফোন জব্দ, আইসিসির দ্বারস্থ মোহাম্মদ রিজওয়ান

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৩১:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তান দলের উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ানের মুঠোফোন এখনো তাঁর কাছে নেই। ইংল্যান্ড সফরের সময় পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) ফোনটি জব্দ করে এবং পরবর্তীতে সেটি পাকিস্তানে নিয়ে ফরেনসিক পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। এই জব্দ প্রক্রিয়া ও এনসিসিআইএর নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করে রিজওয়ান লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন, তবে গত বৃহস্পতিবার আদালত তাঁর সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।

ঘটনার সূত্রপাত পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফরকে কেন্দ্র করে। টেস্ট সিরিজ চলাকালে ড্রেসিংরুমের তথ্য ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় এনসিসিআইএ তদন্ত শুরু করে। এই তদন্তের অংশ হিসেবেই রিজওয়ান ও টেস্ট ওপেনার ইমাম-উল-হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়। চলতি মাসের শুরুতে লাহোরের কার্যালয়ে হাজির হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। এনসিসিআইএ মূলত অনলাইন বেটিং ও জুয়াসংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে। তদন্তের খাতিরে ইংল্যান্ডে থাকা অবস্থায় তাঁরা কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বা দেখা করেছেন, সেসব তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে।

রিজওয়ান শুরু থেকেই এই তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। তাঁর আইনজীবী জানিয়েছেন, রিজওয়ানের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আনা হয়নি, অথচ তদন্তের নোটিশে অনলাইন বেটিং ও জুয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হাজির হওয়ার পর বিস্তারিত জানতে চাইলেও কোনো স্পষ্ট উত্তর পাননি বলে অভিযোগ করেন রিজওয়ান। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি আলিয়া নীলম রিজওয়ানের আইনজীবীর ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আবেদনটি খারিজ করে দেন।

আদালতে ব্যর্থ হয়ে রিজওয়ান এখন আইসিসির শরণাপন্ন হয়েছেন। তিনি আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের কাছে জানতে চেয়েছেন, তাঁর ফোন জব্দ ও ফরেনসিক পরীক্ষার বিষয়টি আইসিসি বা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড জানত কি না এবং এই প্রক্রিয়ায় তারা কোনোভাবে জড়িত ছিল কি না। জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ নয়, বরং আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ধারা অনুযায়ী পুরো বিষয়টি সঠিক কি না এবং তাঁর করণীয় কী—সে বিষয়ে তিনি দিকনির্দেশনা চেয়েছেন।

ফোনটি জব্দের আগে সেটি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) হেফাজতে ছিল এবং পরে পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। চলমান তদন্তের কারণে পিসিবি এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, এই ঘটনার সমসাময়িক সময়েই পাকিস্তান টেস্ট দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে হারের পর রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হকসহ সাত ক্রিকেটারকে টেস্ট দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। একই সময়ে হেড কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।