লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে ৪৫ ট্যাংকার কালো তালিকাভুক্ত করল ইরান

ইরানের নবগঠিত ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিয়ম ভঙ্গ করার দায়ে ৪৫টি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই কঠোর সতর্কবার্তা জানিয়েছে সংস্থাটি। এই তালিকায় অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার, এলএনজি ও এলপিজিবাহী জাহাজ এবং পরিশোধিত জ্বালানি পরিবহনকারী ট্যাংকারগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোকে জরিমানা, আটক অথবা তাদের বহন করা পণ্য জব্দ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, কালো তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোর সঙ্গে শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফারে অংশ নেওয়া অন্য যেকোনো নৌযানকেও শাস্তিমূলক এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তবে ঠিক কোন ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে এসব জাহাজকে ‘নন-কমপ্লায়েন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

কালো তালিকায় থাকা জাহাজগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডিএনওসি লজিস্টিকস অ্যান্ড শিপিংয়ের মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি ট্যাংকার রয়েছে। এছাড়া এডিএনওসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান নেভিগ৮ ট্যাংকারস, সৌদি আরবের জাতীয় শিপিং কোম্পানি বাহরি, নরওয়ের ক্লাভেনেস শিপ ম্যানেজমেন্ট, স্টল্ট ট্যাংকারস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিনোকরের মালিকানাধীন জাহাজও এই তালিকায় স্থান পেয়েছে।

ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী, যেসব জাহাজ নিজেদের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলতে চায়, তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যাখ্যাসহ আবেদন করতে হবে। এছাড়া কার্গো মালিকদের উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত যাত্রার ক্ষেত্রে এই তালিকা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তেহরান জানিয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হলে জাহাজের মালিকদের তাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে এবং নিরাপত্তা ও অন্যান্য সেবার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকির কয়েক দিনের মধ্যেই এই হুঁশিয়ারি এল। তেহরান এর আগেই ঘোষণা করেছিল যে, কোনো নতুন হুমকির মোকাবিলায় তাদের জবাব হবে বিধ্বংসী। একই সঙ্গে ইরান হুমকি দিয়েছে, যদি অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলমান থাকে তবে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সব ধরনের তেলের আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি করা হবে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি বাসায় ভাড়াটে রাখলে বরাদ্দ বাতিল করবে আবাসন পরিদপ্তর

হরমুজ প্রণালিতে ৪৫ ট্যাংকার কালো তালিকাভুক্ত করল ইরান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:১৬:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের নবগঠিত ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিয়ম ভঙ্গ করার দায়ে ৪৫টি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই কঠোর সতর্কবার্তা জানিয়েছে সংস্থাটি। এই তালিকায় অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার, এলএনজি ও এলপিজিবাহী জাহাজ এবং পরিশোধিত জ্বালানি পরিবহনকারী ট্যাংকারগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোকে জরিমানা, আটক অথবা তাদের বহন করা পণ্য জব্দ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, কালো তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোর সঙ্গে শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফারে অংশ নেওয়া অন্য যেকোনো নৌযানকেও শাস্তিমূলক এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। তবে ঠিক কোন ধরনের নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে এসব জাহাজকে ‘নন-কমপ্লায়েন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি কর্তৃপক্ষ।

কালো তালিকায় থাকা জাহাজগুলোর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডিএনওসি লজিস্টিকস অ্যান্ড শিপিংয়ের মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি ট্যাংকার রয়েছে। এছাড়া এডিএনওসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান নেভিগ৮ ট্যাংকারস, সৌদি আরবের জাতীয় শিপিং কোম্পানি বাহরি, নরওয়ের ক্লাভেনেস শিপ ম্যানেজমেন্ট, স্টল্ট ট্যাংকারস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিনোকরের মালিকানাধীন জাহাজও এই তালিকায় স্থান পেয়েছে।

ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী, যেসব জাহাজ নিজেদের নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলতে চায়, তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যাখ্যাসহ আবেদন করতে হবে। এছাড়া কার্গো মালিকদের উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত যাত্রার ক্ষেত্রে এই তালিকা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তেহরান জানিয়েছিল যে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হলে জাহাজের মালিকদের তাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে এবং নিরাপত্তা ও অন্যান্য সেবার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকির কয়েক দিনের মধ্যেই এই হুঁশিয়ারি এল। তেহরান এর আগেই ঘোষণা করেছিল যে, কোনো নতুন হুমকির মোকাবিলায় তাদের জবাব হবে বিধ্বংসী। একই সঙ্গে ইরান হুমকি দিয়েছে, যদি অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলমান থাকে তবে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সব ধরনের তেলের আমদানি বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি করা হবে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।