লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এড়াতে তেহরানে কাতারের কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন সামরিক সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে শুক্রবার কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিধি দলটি সেখানে গিয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল থানির একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার নেতৃত্বে দলটি তেহরানে পৌঁছায়।

আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিতে পারেন—এমন উদ্বেগ থেকে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরান থেকে আসা পরস্পরবিরোধী বার্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। এর মধ্যেই ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, স্থবির আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়িকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সকে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, এখন পর্যন্ত কোনো জবাব দেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে ভ্যান্স সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনার মূল আলোচ্যসূচিতে রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সামরিক প্রস্তুতির খবরও পাওয়া যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে হামলার সম্ভাব্য বিকল্পগুলো সম্পর্কে অবহিত করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও গোলাবারুদের মজুত বাড়ানো হয়েছে এবং সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে থাকা সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইসরাইলি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি সামরিক কার্গো বিমান ইসরাইলের নেগেভ অঞ্চলের ওভদা ও নেভাতিম বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। এছাড়া জর্ডান, সৌদি আরব ও কাতারেও সামরিক বিমান পাঠানো হয়েছে।

এসব সামরিক পরিকল্পনার বিষয়ে ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস মারফি উদ্বেগ প্রকাশ করে একে ‘উন্মাদনাপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন। বিপরীতে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে বলেছেন, ট্রাম্প এই সংঘাতকে ‘শেষ না হওয়া যুদ্ধ’ হতে দেবেন না। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত সেপ্টেম্বরে আল জাজিরাকে জানিয়েছিলেন, অতীতে আলোচনার সময় হামলার ঘটনার কারণে ওয়াশিংটনের ওপর তেহরান আর আস্থা রাখতে পারছে না। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক বোমা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। এখন কাতারের এই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে পারে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে জল্পনা।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি বাসায় ভাড়াটে রাখলে বরাদ্দ বাতিল করবে আবাসন পরিদপ্তর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এড়াতে তেহরানে কাতারের কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৪৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন সামরিক সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে শুক্রবার কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্যেই প্রতিনিধি দলটি সেখানে গিয়েছে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল থানির একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার নেতৃত্বে দলটি তেহরানে পৌঁছায়।

আগামী ৩ নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিতে পারেন—এমন উদ্বেগ থেকে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত এক সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরান থেকে আসা পরস্পরবিরোধী বার্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। এর মধ্যেই ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, স্থবির আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়িকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্সকে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও, এখন পর্যন্ত কোনো জবাব দেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিঠিতে ভ্যান্স সরাসরি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনার মূল আলোচ্যসূচিতে রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে সামরিক প্রস্তুতির খবরও পাওয়া যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানে হামলার সম্ভাব্য বিকল্পগুলো সম্পর্কে অবহিত করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও গোলাবারুদের মজুত বাড়ানো হয়েছে এবং সম্ভাব্য পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে থাকা সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইসরাইলি সম্প্রচারমাধ্যম কান জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি সামরিক কার্গো বিমান ইসরাইলের নেগেভ অঞ্চলের ওভদা ও নেভাতিম বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে। এছাড়া জর্ডান, সৌদি আরব ও কাতারেও সামরিক বিমান পাঠানো হয়েছে।

এসব সামরিক পরিকল্পনার বিষয়ে ডেমোক্রেটিক সিনেটর ক্রিস মারফি উদ্বেগ প্রকাশ করে একে ‘উন্মাদনাপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন। বিপরীতে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে বলেছেন, ট্রাম্প এই সংঘাতকে ‘শেষ না হওয়া যুদ্ধ’ হতে দেবেন না। তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত সেপ্টেম্বরে আল জাজিরাকে জানিয়েছিলেন, অতীতে আলোচনার সময় হামলার ঘটনার কারণে ওয়াশিংটনের ওপর তেহরান আর আস্থা রাখতে পারছে না। তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক বোমা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়তে পারে। এখন কাতারের এই নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে পারে কি না, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে জল্পনা।