লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে জেন-জিদের প্রিয় মুখ আইশোসপড

২১ বছর বয়সী ইন্টারনেট তারকা ড্যারেন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যিনি অনলাইন জগতে আইশোসপড নামে পরিচিত, বর্তমান প্রজন্মের কাছে খেলাধুলার খবরের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছেন। আগের প্রজন্মের কাছে ইএসপিএনের মতো টিভি চ্যানেলগুলো যেমন অপরিহার্য ছিল, জেন-জি ও আলফা প্রজন্মের কাছে স্পিড বা আইশোসপড ঠিক তেমনই এক একক ব্যক্তিচালিত মিডিয়া নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করছে।

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে স্পিডের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। বিশ্বকাপের আগে তিনি ‘ওয়ার্ল্ড কাপ’ শিরোনামে একটি গান প্রকাশ করেন, যেখানে ৪৮টি দেশের নাম রয়েছে। গানটি ২৪ ঘণ্টার কম সময়ে ইউটিউবে ৭০ লাখের বেশি ভিউ পাওয়ার পর ভক্তদের চাপে ফিফা এটিকে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল অ্যালবামে যুক্ত করতে বাধ্য হয়। ২০১৭ সালে ইউটিউবে যাত্রা শুরু করলেও ২০২০ সালের লকডাউনের সময় তিনি স্ট্রিমার হিসেবে খ্যাতি পান। ফিফা ও এনবিএ টু-এর মতো ভিডিও গেমের বাইরেও তিনি এখন বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত এক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছেন।

নিজের ৫৫ কোটি ৫০ লাখ সাবস্ক্রাইবারকে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্য নিয়ে স্পিড ২০২৪ সাল থেকে ভ্রমণভিত্তিক কন্টেন্ট তৈরি করছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় চিতার সঙ্গে দৌড় কিংবা ফিলিপাইনে ম্যানি প্যাকুইয়াওয়ের সঙ্গে বক্সিংয়ের মতো রোমাঞ্চকর সব অভিজ্ঞতা তিনি সরাসরি সম্প্রচার করেছেন। ইন্দোনেশিয়ায় লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সময় তিনি ১০ লাখ কনকারেন্ট ভিউয়ারের বিরল মাইলফলক স্পর্শ করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসব্যাপী বিরতিহীন লাইভ স্ট্রিমিং ট্যুরে তিনি ঘুমানোর সময়ও ক্যামেরা চালু রেখেছিলেন।

প্রথাগত টিভি চ্যানেলের জনপ্রিয়তা যখন কমছে, তখন স্পিড নিজেকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতি স্ট্রিমে তিনি ৩০০০ থেকে ৫০০০ ক্যালোরি খরচ করেন, যা তার কাছে শুধু স্ট্রিমিং নয়, একটি পারফরম্যান্সের মতো। যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল খেলাকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে এবারের বিশ্বকাপ বড় ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ফুটবলের সৌন্দর্য তিনি আমেরিকাবাসীর কাছে তুলে ধরতে চান।

১৫ বছর বয়সে জীবনের কঠিন সময়ে ওয়ান পিস অ্যানিমের লুফি চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হওয়া স্পিড এখন মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। ইলন মাস্কের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পেলে তিনি মহাকাশ অভিযানে যেতেও প্রস্তুত। ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কেবল মানবিক অধিকারের বিষয় এবং মুসলিম ভক্তদের প্রতি সহমর্মিতা থেকেই তিনি এর পক্ষে কথা বলেন। এআই মানুষের জৈব সংযোগ প্রতিস্থাপন করতে পারবে না বলে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মন্তব্য করেন। প্রথাগত গণমাধ্যমের বাইরেও স্পিডের এই লাইভ সম্প্রচার যে নতুন প্রজন্মের খেলা দেখার ধরণ বদলে দিচ্ছে, তা স্পষ্ট।

জনপ্রিয় সংবাদ

বরিশাল বোর্ডে পাসের হারে শীর্ষে পিরোজপুর, তবে কমেছে হার

বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে জেন-জিদের প্রিয় মুখ আইশোসপড

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:১৫:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

২১ বছর বয়সী ইন্টারনেট তারকা ড্যারেন ওয়াটকিন্স জুনিয়র, যিনি অনলাইন জগতে আইশোসপড নামে পরিচিত, বর্তমান প্রজন্মের কাছে খেলাধুলার খবরের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছেন। আগের প্রজন্মের কাছে ইএসপিএনের মতো টিভি চ্যানেলগুলো যেমন অপরিহার্য ছিল, জেন-জি ও আলফা প্রজন্মের কাছে স্পিড বা আইশোসপড ঠিক তেমনই এক একক ব্যক্তিচালিত মিডিয়া নেটওয়ার্ক হিসেবে কাজ করছে।

২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে স্পিডের উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। বিশ্বকাপের আগে তিনি ‘ওয়ার্ল্ড কাপ’ শিরোনামে একটি গান প্রকাশ করেন, যেখানে ৪৮টি দেশের নাম রয়েছে। গানটি ২৪ ঘণ্টার কম সময়ে ইউটিউবে ৭০ লাখের বেশি ভিউ পাওয়ার পর ভক্তদের চাপে ফিফা এটিকে বিশ্বকাপের অফিশিয়াল অ্যালবামে যুক্ত করতে বাধ্য হয়। ২০১৭ সালে ইউটিউবে যাত্রা শুরু করলেও ২০২০ সালের লকডাউনের সময় তিনি স্ট্রিমার হিসেবে খ্যাতি পান। ফিফা ও এনবিএ টু-এর মতো ভিডিও গেমের বাইরেও তিনি এখন বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত এক ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছেন।

নিজের ৫৫ কোটি ৫০ লাখ সাবস্ক্রাইবারকে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্য নিয়ে স্পিড ২০২৪ সাল থেকে ভ্রমণভিত্তিক কন্টেন্ট তৈরি করছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় চিতার সঙ্গে দৌড় কিংবা ফিলিপাইনে ম্যানি প্যাকুইয়াওয়ের সঙ্গে বক্সিংয়ের মতো রোমাঞ্চকর সব অভিজ্ঞতা তিনি সরাসরি সম্প্রচার করেছেন। ইন্দোনেশিয়ায় লাইভ স্ট্রিমিংয়ের সময় তিনি ১০ লাখ কনকারেন্ট ভিউয়ারের বিরল মাইলফলক স্পর্শ করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে এক মাসব্যাপী বিরতিহীন লাইভ স্ট্রিমিং ট্যুরে তিনি ঘুমানোর সময়ও ক্যামেরা চালু রেখেছিলেন।

প্রথাগত টিভি চ্যানেলের জনপ্রিয়তা যখন কমছে, তখন স্পিড নিজেকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতি স্ট্রিমে তিনি ৩০০০ থেকে ৫০০০ ক্যালোরি খরচ করেন, যা তার কাছে শুধু স্ট্রিমিং নয়, একটি পারফরম্যান্সের মতো। যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল খেলাকে জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে এবারের বিশ্বকাপ বড় ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, ইউরোপীয় ফুটবলের সৌন্দর্য তিনি আমেরিকাবাসীর কাছে তুলে ধরতে চান।

১৫ বছর বয়সে জীবনের কঠিন সময়ে ওয়ান পিস অ্যানিমের লুফি চরিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হওয়া স্পিড এখন মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। ইলন মাস্কের প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পেলে তিনি মহাকাশ অভিযানে যেতেও প্রস্তুত। ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কেবল মানবিক অধিকারের বিষয় এবং মুসলিম ভক্তদের প্রতি সহমর্মিতা থেকেই তিনি এর পক্ষে কথা বলেন। এআই মানুষের জৈব সংযোগ প্রতিস্থাপন করতে পারবে না বলে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে মন্তব্য করেন। প্রথাগত গণমাধ্যমের বাইরেও স্পিডের এই লাইভ সম্প্রচার যে নতুন প্রজন্মের খেলা দেখার ধরণ বদলে দিচ্ছে, তা স্পষ্ট।