লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লংমার্চ নয়, জাতীয় ইস্যুতে সংলাপে বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম। লংমার্চ কর্মসূচি পরিহার করে সংবিধান সংস্কারসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনায় বসার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার ঢাকার শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মনসুন থিয়েটারে আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, লংমার্চের মাধ্যমে জাতীয় সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো জুলাই জাদুঘর তৈরি করতে না হয়, সেজন্য রাজনৈতিক ঐক্য ও বিরোধী দলের সহযোগিতা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থে স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের উত্থানের পথ বন্ধ করতে রাজনৈতিক সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই।

তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশে যেন আর কোনোদিন স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে না আসে, সেজন্য প্রাতিষ্ঠানিক চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ঐকমত্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে হবে যাতে তা টেকসই হয়। এছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

সেমিনারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশে সাংবিধানিক সংকট ও স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানের অন্যতম কারণ, যা ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি করেছিল।

উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, নির্বাচনী ব্যবস্থায় পিআর পদ্ধতি এবং গণভোটসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাবের বিষয়ে বিরোধী দলসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিভাজন চায় না। গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের পারস্পরিক ঐক্য অপরিহার্য।

উল্লেখ্য, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মহাপরিচালক এহসান মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারটিতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এছাড়া সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান আলোচনায় অংশ নেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রাম আদালতের ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়াতে ঢাকায় প্রশিক্ষণ শুরু

লংমার্চ নয়, জাতীয় ইস্যুতে সংলাপে বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:২৯:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৬ পিএম। লংমার্চ কর্মসূচি পরিহার করে সংবিধান সংস্কারসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনায় বসার জন্য বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার ঢাকার শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মনসুন থিয়েটারে আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, লংমার্চের মাধ্যমে জাতীয় সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে যেন আর কোনো জুলাই জাদুঘর তৈরি করতে না হয়, সেজন্য রাজনৈতিক ঐক্য ও বিরোধী দলের সহযোগিতা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থে স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের উত্থানের পথ বন্ধ করতে রাজনৈতিক সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই।

তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশে যেন আর কোনোদিন স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরে না আসে, সেজন্য প্রাতিষ্ঠানিক চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ঐকমত্য ও সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে হবে যাতে তা টেকসই হয়। এছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

সেমিনারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠনের মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশে সাংবিধানিক সংকট ও স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন, ২০১১ সালে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানের অন্যতম কারণ, যা ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি করেছিল।

উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, নির্বাচনী ব্যবস্থায় পিআর পদ্ধতি এবং গণভোটসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাবের বিষয়ে বিরোধী দলসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিভাজন চায় না। গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের পারস্পরিক ঐক্য অপরিহার্য।

উল্লেখ্য, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মহাপরিচালক এহসান মাহমুদের সভাপতিত্বে সেমিনারটিতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। এছাড়া সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান আলোচনায় অংশ নেন।