লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অক্টোবরে ডেঙ্গুতে রেকর্ড মৃত্যু, ডিসেম্বরের আগে উন্নতির সম্ভাবনা কম

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে অক্টোবর মাসটি ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যুর সাক্ষী হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নভেম্বরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে এবং পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৪১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি রোগী। এর মধ্যে শুধু অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৭৩ জন, যেখানে সেপ্টেম্বরে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৪৮ জন। ফলে ২০২৬ সালে অক্টোবর মাসটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ডেঙ্গুর পাশাপাশি বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবও মোকাবিলা করছে, যেখানে ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই দুটি রোগের সম্মিলিত চাপে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে।

হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। ঢাকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বর্তমানে ২৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যার মধ্যে এক দিনেই নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৬৭ জন। হাসপাতালের পরিচালক মির্জা গোলাম সারওয়ার জানান, অনেক রোগীই অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আসছেন। তাদের অনেকের রক্তচাপ এতটাই কমে যাচ্ছে যে তা পরিমাপ করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং অক্সিজেনের মাত্রাও আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এ বি এম আবদুল্লাহর মতে, ডেঙ্গু নির্ণয় ও চিকিৎসায় বিলম্ব এবং বারবার আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা মৃত্যুর হার বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি জানান, আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পুনরায় সংক্রমিত হলে গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকিতে পড়েন। ৩৩ বছর বয়সী ঢাকার বাসিন্দা ফয়সাল ফেরদৌস, যিনি ২০১৭ ও ২০২৪ সালের পর চলতি মাসেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, জানান যে তার স্ত্রীসহ তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। বর্তমানে তারা সুস্থ হয়ে উঠছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরনই দেশে ছড়িয়ে পড়ায় জটিলতার ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশে এখনো ডেঙ্গুর টিকা চালু হয়নি, তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশারের মতে, অক্টোবরে মৃত্যুর যে হার দেখা গেছে, সেই প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা কম হলেও নভেম্বরে প্রকোপ শেষ হবে না। তিনি জানান, আগের বৃষ্টিতে তৈরি হওয়া মশার প্রজননস্থল থেকে নতুন মশার জন্ম অব্যাহত থাকায় আবহাওয়া শুষ্ক হতে শুরু করলেও সংক্রমণ চলতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার ধরন বদলে যাওয়ায় মশার প্রজনন মৌসুম দীর্ঘ হচ্ছে এবং এডিস মশা আগের তুলনায় বেশি সময় সক্রিয় থাকছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আশুলিয়ায় শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ২৫ কারখানায় ছুটি

অক্টোবরে ডেঙ্গুতে রেকর্ড মৃত্যু, ডিসেম্বরের আগে উন্নতির সম্ভাবনা কম

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে অক্টোবর মাসটি ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যুর সাক্ষী হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নভেম্বরেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ অব্যাহত থাকতে পারে এবং পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট ৪১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি রোগী। এর মধ্যে শুধু অক্টোবরেই মারা গেছেন ১৭৩ জন, যেখানে সেপ্টেম্বরে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৪৮ জন। ফলে ২০২৬ সালে অক্টোবর মাসটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে প্রাণঘাতী মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ডেঙ্গুর পাশাপাশি বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাবও মোকাবিলা করছে, যেখানে ইতোমধ্যে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই দুটি রোগের সম্মিলিত চাপে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা বর্তমানে গভীর সংকটের মুখে পড়েছে।

হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। ঢাকার সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে বর্তমানে ২৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যার মধ্যে এক দিনেই নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৬৭ জন। হাসপাতালের পরিচালক মির্জা গোলাম সারওয়ার জানান, অনেক রোগীই অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আসছেন। তাদের অনেকের রক্তচাপ এতটাই কমে যাচ্ছে যে তা পরিমাপ করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং অক্সিজেনের মাত্রাও আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এ বি এম আবদুল্লাহর মতে, ডেঙ্গু নির্ণয় ও চিকিৎসায় বিলম্ব এবং বারবার আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা মৃত্যুর হার বাড়িয়ে দিচ্ছে। তিনি জানান, আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা পুনরায় সংক্রমিত হলে গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকিতে পড়েন। ৩৩ বছর বয়সী ঢাকার বাসিন্দা ফয়সাল ফেরদৌস, যিনি ২০১৭ ও ২০২৪ সালের পর চলতি মাসেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন, জানান যে তার স্ত্রীসহ তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। বর্তমানে তারা সুস্থ হয়ে উঠছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরনই দেশে ছড়িয়ে পড়ায় জটিলতার ঝুঁকি বাড়ছে। বাংলাদেশে এখনো ডেঙ্গুর টিকা চালু হয়নি, তবে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনা করছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশারের মতে, অক্টোবরে মৃত্যুর যে হার দেখা গেছে, সেই প্রবণতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা কম হলেও নভেম্বরে প্রকোপ শেষ হবে না। তিনি জানান, আগের বৃষ্টিতে তৈরি হওয়া মশার প্রজননস্থল থেকে নতুন মশার জন্ম অব্যাহত থাকায় আবহাওয়া শুষ্ক হতে শুরু করলেও সংক্রমণ চলতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাত ও আর্দ্রতার ধরন বদলে যাওয়ায় মশার প্রজনন মৌসুম দীর্ঘ হচ্ছে এবং এডিস মশা আগের তুলনায় বেশি সময় সক্রিয় থাকছে।