লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামে মৃতদেহ দাফনের সময়সীমা ও বিধান

ইসলামি শরিয়ত মৃত ব্যক্তির গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফনের যাবতীয় প্রক্রিয়া যথাসম্ভব দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। বিভিন্ন হাদিসে দাফনের ক্ষেত্রে বিলম্ব করতে নিষেধ করা হয়েছে। তালহা ইবনে বারা (রা.)-এর অসুস্থতার সময় মহানবী (সা.) বলেছিলেন, তিনি তালহার মধ্যে মৃত্যুর আলামত দেখছেন এবং তিনি মারা গেলে যেন দ্রুত কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করা হয়, কারণ কোনো মুসলমানের লাশ পরিবারের মাঝে আটকে রাখা অনুচিত (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩১৫৯)।

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) মৃত ব্যক্তিকে দ্রুত দাফন করার নির্দেশ দিয়েছেন (আলমুজামুল কাবির, হাদিস: ১৩৬১৩)। সহিহ বুখারির অন্য এক হাদিসে জানাজার পর দ্রুত দাফনের তাগিদ দিয়ে বলা হয়েছে, মৃত ব্যক্তি নেককার হলে তাকে দ্রুত তার শুভ পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া উচিত, আর মন্দ হলে তা ঘাড় থেকে আপদ সরিয়ে ফেলার মতো (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩১৫)। ইসলামি বিশেষজ্ঞরা অকারণে দাফনে বিলম্ব করাকে মাকরুহ বা অপছন্দনীয় বলে গণ্য করেন।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মৃতের অভিভাবক বা ওলিদের উচিত উপস্থিত লোকদের নিয়ে দ্রুত জানাজা পড়ে দাফন সম্পন্ন করা। কোনো আত্মীয় বা বিশেষ ব্যক্তির অপেক্ষায় জানাজা বিলম্ব করা সমীচীন নয়। তবে ওলি উপস্থিত না থাকলে এবং তিনি অপেক্ষা করতে বললে সামান্য বিলম্বের অবকাশ থাকলেও, মরদেহের স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট হওয়ার আগে দাফন করা জরুরি। আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারের ফতোয়া অনুযায়ী, পচনরোধে লাশ হিমাগারে রাখা বা ফর্মালিন ব্যবহার করা জায়েজ নয়; বরং বিকৃতির আগেই দাফন করা আবশ্যক।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, ‘কোনো মুমিন ব্যক্তিকে তার মৃত্যুর পর কষ্ট দেওয়া তেমন, যেমন জীবিত অবস্থায় তাকে কষ্ট দেওয়া।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ১১৯৯০)। এ সংক্রান্ত হাদিস ও আসারের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, জীবিত ব্যক্তি যেসব বস্তু দিয়ে আরাম বোধ করে, মৃত ব্যক্তি তা দিয়ে আরাম বোধ করে। ইবনুল মালাক (রহ.) বলেন, ‘মৃত ব্যক্তি কষ্টদায়ক বস্তু দিয়ে কষ্ট পায়।’ (মিকাতুল মাফাতিহ, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ১৭০)। মৃত ব্যক্তিকে হিমাগারে রাখা মূলত তাকে কষ্ট দেওয়ারই নামান্তর। এসব কাজ থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য। ইসলামে দাফনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন বা সময়সীমা নির্ধারিত নেই; বরং মূলনীতি হলো যত দ্রুত সম্ভব দাফন করা। ময়নাতদন্ত, আইনি তদন্ত বা অনিবার্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে বিলম্বের অনুমতি থাকলেও তা এড়িয়ে চলাই উত্তম।

জানাজার নিয়ত ও পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ইমামের পেছনে কিবলামুখী হয়ে চার তাকবিরসহ জানাজার নামাজ পড়তে হয়। প্রতিটি তাকবিরে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে প্রথম তাকবিরের পর সানা, দ্বিতীয় তাকবিরের পর দরুদ শরিফ, তৃতীয় তাকবিরের পর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া এবং চতুর্থ তাকবিরের পর সালাম ফেরাতে হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত দোয়া ও শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট দোয়া পাঠের বিধান রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের প্রভাব রুখতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কোটি ডলারের কর্মসূচি

ইসলামে মৃতদেহ দাফনের সময়সীমা ও বিধান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৩০:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

ইসলামি শরিয়ত মৃত ব্যক্তির গোসল, কাফন, জানাজা ও দাফনের যাবতীয় প্রক্রিয়া যথাসম্ভব দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে। বিভিন্ন হাদিসে দাফনের ক্ষেত্রে বিলম্ব করতে নিষেধ করা হয়েছে। তালহা ইবনে বারা (রা.)-এর অসুস্থতার সময় মহানবী (সা.) বলেছিলেন, তিনি তালহার মধ্যে মৃত্যুর আলামত দেখছেন এবং তিনি মারা গেলে যেন দ্রুত কাফন-দাফনের ব্যবস্থা করা হয়, কারণ কোনো মুসলমানের লাশ পরিবারের মাঝে আটকে রাখা অনুচিত (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩১৫৯)।

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) মৃত ব্যক্তিকে দ্রুত দাফন করার নির্দেশ দিয়েছেন (আলমুজামুল কাবির, হাদিস: ১৩৬১৩)। সহিহ বুখারির অন্য এক হাদিসে জানাজার পর দ্রুত দাফনের তাগিদ দিয়ে বলা হয়েছে, মৃত ব্যক্তি নেককার হলে তাকে দ্রুত তার শুভ পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া উচিত, আর মন্দ হলে তা ঘাড় থেকে আপদ সরিয়ে ফেলার মতো (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৩১৫)। ইসলামি বিশেষজ্ঞরা অকারণে দাফনে বিলম্ব করাকে মাকরুহ বা অপছন্দনীয় বলে গণ্য করেন।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মৃতের অভিভাবক বা ওলিদের উচিত উপস্থিত লোকদের নিয়ে দ্রুত জানাজা পড়ে দাফন সম্পন্ন করা। কোনো আত্মীয় বা বিশেষ ব্যক্তির অপেক্ষায় জানাজা বিলম্ব করা সমীচীন নয়। তবে ওলি উপস্থিত না থাকলে এবং তিনি অপেক্ষা করতে বললে সামান্য বিলম্বের অবকাশ থাকলেও, মরদেহের স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট হওয়ার আগে দাফন করা জরুরি। আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারের ফতোয়া অনুযায়ী, পচনরোধে লাশ হিমাগারে রাখা বা ফর্মালিন ব্যবহার করা জায়েজ নয়; বরং বিকৃতির আগেই দাফন করা আবশ্যক।

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, ‘কোনো মুমিন ব্যক্তিকে তার মৃত্যুর পর কষ্ট দেওয়া তেমন, যেমন জীবিত অবস্থায় তাকে কষ্ট দেওয়া।’ (মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা, হাদিস: ১১৯৯০)। এ সংক্রান্ত হাদিস ও আসারের ব্যাখ্যায় আল্লামা ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, জীবিত ব্যক্তি যেসব বস্তু দিয়ে আরাম বোধ করে, মৃত ব্যক্তি তা দিয়ে আরাম বোধ করে। ইবনুল মালাক (রহ.) বলেন, ‘মৃত ব্যক্তি কষ্টদায়ক বস্তু দিয়ে কষ্ট পায়।’ (মিকাতুল মাফাতিহ, খণ্ড: ৪, পৃষ্ঠা: ১৭০)। মৃত ব্যক্তিকে হিমাগারে রাখা মূলত তাকে কষ্ট দেওয়ারই নামান্তর। এসব কাজ থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য। ইসলামে দাফনের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দিন বা সময়সীমা নির্ধারিত নেই; বরং মূলনীতি হলো যত দ্রুত সম্ভব দাফন করা। ময়নাতদন্ত, আইনি তদন্ত বা অনিবার্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে বিলম্বের অনুমতি থাকলেও তা এড়িয়ে চলাই উত্তম।

জানাজার নিয়ত ও পদ্ধতি সম্পর্কে বলা হয়েছে, ইমামের পেছনে কিবলামুখী হয়ে চার তাকবিরসহ জানাজার নামাজ পড়তে হয়। প্রতিটি তাকবিরে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে প্রথম তাকবিরের পর সানা, দ্বিতীয় তাকবিরের পর দরুদ শরিফ, তৃতীয় তাকবিরের পর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া এবং চতুর্থ তাকবিরের পর সালাম ফেরাতে হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত দোয়া ও শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট দোয়া পাঠের বিধান রয়েছে।