লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইতালির বিতর্কিত নির্বাচনী সংস্কার পাস, মেলোনির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

ইতালির নির্বাচনী ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের আনা বিতর্কিত নির্বাচনী সংস্কার বিলটি বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে অনুমোদন পেয়েছে। বিলের পক্ষে ২২৭টি এবং বিপক্ষে ১৬৪টি ভোট পড়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনা বাড়াতেই সরকার এই সংস্কার আইনটি পাস করিয়েছে।

নতুন এই আইনে বর্তমানের মিশ্র নির্বাচনী পদ্ধতি বাতিল করে পুরোপুরি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে। মেলোনির ভাষ্যমতে, এই পরিবর্তন নির্বাচনের পর সরকার গঠন সহজ করবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। বর্তমানে ইতালির পার্লামেন্টের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসন সরাসরি ভোটে বিজয়ী প্রার্থীর ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, বাকিগুলো আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয়। নতুন নিয়মে দল বা জোটগুলোকে নির্বাচনের আগেই প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ও রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করতে হবে।

এই আইনের অন্যতম আলোচিত দিক হলো ‘বোনাস’ আসন ব্যবস্থা। কোনো দল বা জোট সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ার পাশাপাশি ৪২ শতাংশের বেশি ভোট পেলে তারা সংসদে অতিরিক্ত ১০৫টি আসন পাবে, যার মধ্যে নিম্নকক্ষে ৭০টি এবং সিনেটে ৩৫টি আসন থাকবে। সমালোচকদের মতে, এই ব্যবস্থার ফলে সামান্য ব্যবধানে জয়ী দলও সংসদে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাবে।

ভোটের আগে পার্লামেন্টে বিরোধী দলগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডি) নেতা এলি শ্লেইন বলেছেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা যাই হোক, তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে জিততে সক্ষম। অন্যদিকে, ফাইভ স্টার মুভমেন্টের নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ্পে কন্তে এই আইনকে আসন্ন নির্বাচনে সুবিধা আদায়ের একটি জটিল পরিকল্পনা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

মেলোনির জন্য এই ভোটটি ছিল তার নেতৃত্বের একটি বড় পরীক্ষা। তিনি আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, সংস্কার বিলটি প্রত্যাখ্যাত হলে তিনি পদত্যাগ করে আগাম নির্বাচনের পথে হাঁটবেন। বিশ্লেষকদের মতে, অনেক আইনপ্রণেতা আগাম নির্বাচন হলে সংসদীয় পেনশনের যোগ্যতা হারানোর ভয়ে সংস্কারের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মেলোনির সরকার তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে এবং গত মাসেই এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির দীর্ঘস্থায়ী সরকারে পরিণত হয়েছে। তবে তার জোটে থাকা ব্রাদার্স অব ইতালি, লিগ এবং ফোরজা ইতালিয়া দলের মধ্যেও সংস্কার নিয়ে মতপার্থক্য ছিল। ভোটের পর মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জোটের ঐক্য ও সংহতির কথা তুলে ধরে দাবি করেন, নতুন নিয়ম যেকোনো সরকারকে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দেবে।

মেলোনির বর্তমান মেয়াদের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ২০২৭ সালের অক্টোবরে হওয়ার কথা থাকলেও, তিনি চাইলে আগামী বসন্তেই নির্বাচন এগিয়ে আনতে পারেন। নতুন এই নির্বাচনী আইন আগামী নির্বাচনের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন বিচারপতি নাভি পিল্লাই

ইতালির বিতর্কিত নির্বাচনী সংস্কার পাস, মেলোনির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩৮:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ইতালির নির্বাচনী ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকারের আনা বিতর্কিত নির্বাচনী সংস্কার বিলটি বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে অনুমোদন পেয়েছে। বিলের পক্ষে ২২৭টি এবং বিপক্ষে ১৬৪টি ভোট পড়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, আসন্ন নির্বাচনে নিজেদের ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনা বাড়াতেই সরকার এই সংস্কার আইনটি পাস করিয়েছে।

নতুন এই আইনে বর্তমানের মিশ্র নির্বাচনী পদ্ধতি বাতিল করে পুরোপুরি আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়েছে। মেলোনির ভাষ্যমতে, এই পরিবর্তন নির্বাচনের পর সরকার গঠন সহজ করবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে। বর্তমানে ইতালির পার্লামেন্টের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসন সরাসরি ভোটে বিজয়ী প্রার্থীর ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, বাকিগুলো আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হয়। নতুন নিয়মে দল বা জোটগুলোকে নির্বাচনের আগেই প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী ও রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষণা করতে হবে।

এই আইনের অন্যতম আলোচিত দিক হলো ‘বোনাস’ আসন ব্যবস্থা। কোনো দল বা জোট সর্বোচ্চ ভোট পাওয়ার পাশাপাশি ৪২ শতাংশের বেশি ভোট পেলে তারা সংসদে অতিরিক্ত ১০৫টি আসন পাবে, যার মধ্যে নিম্নকক্ষে ৭০টি এবং সিনেটে ৩৫টি আসন থাকবে। সমালোচকদের মতে, এই ব্যবস্থার ফলে সামান্য ব্যবধানে জয়ী দলও সংসদে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে যাবে।

ভোটের আগে পার্লামেন্টে বিরোধী দলগুলো তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডি) নেতা এলি শ্লেইন বলেছেন, নির্বাচনী ব্যবস্থা যাই হোক, তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে জিততে সক্ষম। অন্যদিকে, ফাইভ স্টার মুভমেন্টের নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ্পে কন্তে এই আইনকে আসন্ন নির্বাচনে সুবিধা আদায়ের একটি জটিল পরিকল্পনা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

মেলোনির জন্য এই ভোটটি ছিল তার নেতৃত্বের একটি বড় পরীক্ষা। তিনি আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, সংস্কার বিলটি প্রত্যাখ্যাত হলে তিনি পদত্যাগ করে আগাম নির্বাচনের পথে হাঁটবেন। বিশ্লেষকদের মতে, অনেক আইনপ্রণেতা আগাম নির্বাচন হলে সংসদীয় পেনশনের যোগ্যতা হারানোর ভয়ে সংস্কারের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

২০২২ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে মেলোনির সরকার তুলনামূলক স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে এবং গত মাসেই এটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির দীর্ঘস্থায়ী সরকারে পরিণত হয়েছে। তবে তার জোটে থাকা ব্রাদার্স অব ইতালি, লিগ এবং ফোরজা ইতালিয়া দলের মধ্যেও সংস্কার নিয়ে মতপার্থক্য ছিল। ভোটের পর মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার জোটের ঐক্য ও সংহতির কথা তুলে ধরে দাবি করেন, নতুন নিয়ম যেকোনো সরকারকে আরও কার্যকরভাবে কাজ করার সুযোগ দেবে।

মেলোনির বর্তমান মেয়াদের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ২০২৭ সালের অক্টোবরে হওয়ার কথা থাকলেও, তিনি চাইলে আগামী বসন্তেই নির্বাচন এগিয়ে আনতে পারেন। নতুন এই নির্বাচনী আইন আগামী নির্বাচনের সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।