লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যশোরে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের বিশেষ সভা

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যশোর জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি অপতৎপরতা প্রতিরোধ, উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে প্রশাসন। শনিবার দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের 'অমিত্রাক্ষর' সভাকক্ষে আয়োজিত দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।

পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা সভায় পূজামণ্ডপে ডিজে পার্টি, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা এবং মদ্যপানের মতো কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা জানান, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ধর্মীয় পরিবেশ ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি নারী, শিশু ও বয়স্ক দর্শনার্থীরা ভোগান্তির শিকার হন। এ ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়ে তারা বলেন, পূজার পুরো সময়জুড়ে মণ্ডপ ও এর আশপাশের এলাকায় নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। পূজা উদযাপন কমিটিগুলোকেও মণ্ডপের শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাই মণ্ডপ ও প্রতিমাকেন্দ্রিক সীমিত পরিসরে আলোকসজ্জা করার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং জেনারেটরের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়।

সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিজ নিজ এলাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনে তল্লাশি চালানো হবে এবং অবৈধ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

যশোর জেলায় এবার মোট ৭৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে, যা গত বছরের তুলনায় ২৮টি বেশি। পূজার শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মন্দিরে সরকারি চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ১০০০ কেজি করা হয়েছে। সভায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিয়ন্ত্রণ এবং ছিনতাই প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বিভিন্ন থানার ওসি, ইউএনও, বিজিবি ও এনএসআইয়ের কর্মকর্তা এবং যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘অমিত্রাক্ষর’ সভাকক্ষে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় এসব বিষয় উঠে আসে।

এবার যশোর জেলায় ৭৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। গত বছর মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৭০৯টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এবার মণ্ডপ বেড়েছে ২৮টি।

জনপ্রিয় সংবাদ

কল্কি-২: দীপিকার চরিত্রে অন্য কেউ নয়, জানালেন পরিচালক

যশোরে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা জোরদারে প্রশাসনের বিশেষ সভা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:২৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যশোর জেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি অপতৎপরতা প্রতিরোধ, উচ্চ শব্দ নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে প্রশাসন। শনিবার দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের 'অমিত্রাক্ষর' সভাকক্ষে আয়োজিত দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং সভাপতিত্ব করেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।

পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা সভায় পূজামণ্ডপে ডিজে পার্টি, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা এবং মদ্যপানের মতো কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা জানান, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ধর্মীয় পরিবেশ ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি নারী, শিশু ও বয়স্ক দর্শনার্থীরা ভোগান্তির শিকার হন। এ ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়ে তারা বলেন, পূজার পুরো সময়জুড়ে মণ্ডপ ও এর আশপাশের এলাকায় নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। পূজা উদযাপন কমিটিগুলোকেও মণ্ডপের শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাই মণ্ডপ ও প্রতিমাকেন্দ্রিক সীমিত পরিসরে আলোকসজ্জা করার পরামর্শ দিয়ে তিনি জানান, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং জেনারেটরের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়।

সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) নিজ নিজ এলাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনে তল্লাশি চালানো হবে এবং অবৈধ মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

যশোর জেলায় এবার মোট ৭৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে, যা গত বছরের তুলনায় ২৮টি বেশি। পূজার শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মন্দিরে সরকারি চালের বরাদ্দ ৫০০ কেজি থেকে বাড়িয়ে ১০০০ কেজি করা হয়েছে। সভায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিয়ন্ত্রণ এবং ছিনতাই প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

সভায় জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, বিভিন্ন থানার ওসি, ইউএনও, বিজিবি ও এনএসআইয়ের কর্মকর্তা এবং যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘অমিত্রাক্ষর’ সভাকক্ষে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় এসব বিষয় উঠে আসে।

এবার যশোর জেলায় ৭৩৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। গত বছর মণ্ডপের সংখ্যা ছিল ৭০৯টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এবার মণ্ডপ বেড়েছে ২৮টি।